Rajat Patidar loses cool after controversial not-out call for Washington Sundar in IPL 2026 Final
আইপিএল ২০২৬ ফাইনাল: আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে মাঠের উত্তাপ
আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু সেই স্মৃতির তালিকায় কেবল দুর্দান্ত শট বা উইকেট নয়, বরং যোগ হয়েছে এক বিতর্কিত আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং গুজরাট টাইটান্সের মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রজত পতিদার সহ পুরো আরসিবি ক্যাম্পের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেখানে
ম্যাচের প্রথম ইনিংসের ১০ম ওভারে বল করছিলেন আরসিবির পেসার জ্যাকব ডাফি। ওভারের ষষ্ঠ ডেলিভারিতে ডাফি একটি বাউন্সার দেন যা মিডল ও লেগ স্টাম্পের দিকে ছিল। গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটার ওয়াশিংটন সুন্দর বলটিকে হুক করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যাটের সঠিক সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন। বলটি উপরে উঠে যায় এবং ফাইন লেগ অঞ্চলে থাকা বিকল্প ফিল্ডার জর্ডান কক্স ডাইভ দিয়ে বলটি তালুবন্দি করার চেষ্টা করেন।
আরসিবি শিবিরের দাবি ও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত
ক্যাচটি হওয়ার সাথে সাথেই আরসিবি খেলোয়াড়রা উৎসব শুরু করেন। তাদের কাছে এটি একটি পরিচ্ছন্ন ক্যাচ বলে মনে হয়েছিল। মাঠের ফিল্ড আম্পায়ার বিষয়টি যাচাই করার জন্য থার্ড আম্পায়ারের সাহায্য নেন। অনেকক্ষণ রিপ্লে দেখার পর ওয়াশিংটন সুন্দরকে নট-আউট ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তে রজত পতিদারকে বেশ উত্তেজিত দেখা যায়, কারণ তার মতে বলটি ফিল্ডারের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ম্যাচের ওপর প্রভাব
ক্রিকেটের মাঠে বিতর্ক নতুন কিছু নয়, কিন্তু আইপিএল ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ওয়াশিংটন সুন্দর সেই মুহূর্তে আউট হলে গুজরাট টাইটান্স বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারত। কিন্তু জীবন পাওয়ার পর ওয়াশিংটন সুন্দর দলের রান এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান। আরসিবির সমর্থকরা আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ক্রিকেটীয় বিতর্ক ও খেলার স্পিরিট
আধুনিক ক্রিকেটে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হলেও অনেক সময় খালি চোখে ক্যাচ নেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা থেকে যায়। জর্ডান কক্সের সেই ডাইভটি ছিল দেখার মতো, কিন্তু বল মাটিতে স্পর্শ করেছে কি না, তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত সংশয় থেকে যায়। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হলেও, খেলোয়াড়দের হতাশা অমূলক নয়। বিশেষ করে যখন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে প্রতিটি উইকেটই অমূল্য।
পরবর্তী পরিস্থিতি
এই ঘটনার পর আরসিবি বোলারদের মনোসংযোগে কিছুটা ভাটা পড়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। রজত পতিদারকে ফিল্ডে নিজের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়, যা খেলার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়। ক্রিকেট বিশ্বে এই ঘটনাটি নিয়ে এখন নানা মুনির নানা মত। কেউ বলছেন ক্যাচটি বৈধ ছিল, আবার কেউ আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলছেন। তবে ফাইনালের মঞ্চে এমন মুহূর্ত উত্তেজনার পারদ যে তুঙ্গে তুলে দিয়েছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ম্যাচটি আরও নাটকীয় মোড় নিতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ওয়াশিংটন সুন্দরের এই জীবন পাওয়া গুজরাট টাইটান্সের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয় কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আরসিবি ভক্তদের হৃদয়ে এই বিতর্ক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।