Vikram Solanki blames Ashish Nehra for costly Nishant Sindhu mistake in IPL 2026
আইপিএল ২০২৬ ফাইনালের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বিক্রম সোলাঙ্কির মন্তব্য
আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচটি গুজরাট টাইটান্সের সমর্থকদের জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) কাছে পরাজয়ের পর দলের অন্দরমহলের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দলের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট বিক্রম সোলাঙ্কি প্রকাশ্যে এই হারের দায়ভার অনেকাংশেই হেড কোচ আশিষ নেহরার ওপর চাপিয়েছেন। মূলত ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এবং নিশান্ত সিন্ধুকে ওপরের দিকে পাঠানোর সিদ্ধান্তটিই এখন সমালোচনার কেন্দ্রে।
নিশান্ত সিন্ধুকে তিন নম্বরে পাঠানোর নেপথ্যে কে?
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে শুভমন গিলের বিদায়ের পর যখন দলের একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের প্রয়োজন ছিল, তখন জস বাটলারের মতো বিশ্বমানের ব্যাটার ডাগআউটে বসে থাকা সত্ত্বেও টিম ম্যানেজমেন্ট নিশান্ত সিন্ধুকে তিন নম্বরে পাঠায়। এই বিষয়টি নিয়ে বিক্রম সোলাঙ্কি খোলাখুলি জানিয়েছেন যে, এটি ছিল পুরোপুরি আশিষ নেহরার সিদ্ধান্ত। সোলাঙ্কির মতে, নেহরা মাঝেমধ্যেই এমন কিছু চমকপ্রদ কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, যা অনেক সময় দলের পক্ষে যায় না।
সোলাঙ্কি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন, “নিশান্ত সিন্ধুকে তিন নম্বরে পাঠানোর বিষয়টি ছিল একটি জাজমেন্ট কল। আশিষ নেহরাই সেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন। অধিনায়ক বা দলের অন্যদের সাথে বিস্তারিত আলোচনার চেয়েও তিনি নিজের বিচারবুদ্ধিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন।”
এবি ডি ভিলিয়ার্সের কড়া সমালোচনা
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি কেবল ভক্তদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেনি, প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সও এই কৌশলের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি এই পদক্ষেপটিকে অত্যন্ত রক্ষণাত্মক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ডি ভিলিয়ার্স মন্তব্য করেন, “আমি এই সিদ্ধান্তটি একেবারেই সমর্থন করতে পারছি না। এমন একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে জস বাটলারের মতো ব্যাটারকে বসিয়ে রেখে সিন্ধুকে পাঠানো অযৌক্তিক এবং রক্ষণাত্মক মানসিকতার পরিচায়ক।”
নিশান্ত সিন্ধুর পারফরম্যান্স ও ম্যাচের মোড়
নিশান্ত সিন্ধু ১৮ বল খেলে ২০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যেখানে তিনি তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে তিনি বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। অষ্টম ওভারে রাসিখ সালামের বলে ডেভডাট পাডিকালের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি যখন ফিরে যান, তখন গুজরাট টাইটান্সের স্কোর ছিল মাত্র ৫৫/৩। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। জস বাটলার পরে ব্যাট করতে নেমে ২৩ বলে ১৯ রান করেন এবং শেষ পর্যন্ত দল ১৫৫/৮ রানে আটকে যায়।
আরসিবিকে কৃতিত্ব প্রদান ও সোলাঙ্কির বিশ্লেষণ
যদিও পরাজয়ের জন্য তিনি কোচকে দায়ী করেছেন, তবুও বিক্রম সোলাঙ্কি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সাফল্যকে ছোট করে দেখেননি। তিনি প্রতিপক্ষ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “প্রথমেই আরসিবিকে শুভেচ্ছা জানাই তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য। আমরা আমাদের দলের লড়াই নিয়ে গর্বিত, তবে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে।”
সোলাঙ্কি আরও যোগ করেন যে, পিচের চরিত্র অনুযায়ী তাদের সংগৃহীত রান ছিল ২০-২৫ রান কম। তবে দলের খেলোয়াড়রা যে লড়াই দেখিয়েছেন, তা ছিল প্রশংসনীয়। তিনি স্বীকার করেন যে, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে ভালো লড়াই করলেও ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণেই আজকের এই হার।
উপসংহার
আইপিএল ২০২৬-এর এই ফাইনালটি গুজরাট টাইটান্সের জন্য এক বড় শিক্ষার অভিজ্ঞতা হয়ে রইল। কোচ ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং ভুল ব্যাটিং অর্ডারের কারণে যে খেসারত তাদের দিতে হয়েছে, তা নিয়ে আগামী মৌসুমে দলের ভেতরে বড় ধরনের আলোচনার অবকাশ রয়েছে। বিক্রম সোলাঙ্কির এই মন্তব্যের পর আশিষ নেহরার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও এখন ক্রীড়ামহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী মরসুমের দিকে, যেখানে গুজরাট টাইটান্স আবার নতুন উদ্যমে ফিরে আসার চেষ্টা করবে।