Bangladesh Cricket

Towhid Hridoy century powers Mohammedan to 107-run win over Rupganj – মোহামেডানের বড় জয়

Avatar photo Vikram Desai · · 1 min read

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই পরাশক্তি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ক্রিকেটপ্রেমীরা উপভোগ করেছেন একটি হাই-স্কোরিং ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত এই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে Towhid Hridoy century powers Mohammedan to 107-run win over Rupganj। তাওহিদ হৃদয়ের অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপরে ভর করে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে আসরে নিজেদের শক্তির জানান দিল মোহামেডান।

মিরপুরের উইকেটে টস এবং মোহামেডানের ব্যাটিং তাণ্ডব

ম্যাচের শুরুতে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জয়লাভ করে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের অধিনায়ক। তিনি প্রথমে মোহামেডানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান এবং নিজেরা ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রূপগঞ্জের লক্ষ্য ছিল মোহামেডানের ব্যাটসম্যানদের দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে তাদের অল্প রানের মধ্যে আটকে রাখা। কিন্তু তাদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেন মোহামেডানের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। মোহামেডানের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই রূপগঞ্জের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন এবং নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ৩৩৯ রানের একটি বিশাল ও পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায়।

তাওহিদ হৃদয়ের সেঞ্চুরি ও আফিফ-বিজয়ের অনবদ্য অবদান

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের এই বিশাল রান পাহাড়ের মূল কারিগর ছিলেন তরুণ ও প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান তাওহিদ হৃদয়। তিনি উইকেটে এসে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন এবং রূপগঞ্জের বোলিং আক্রমণকে বোকা বানিয়ে নিজের সেঞ্চুরি তুলে নেন। হৃদয় ১০৬টি বল মোকাবেলা করে ১০১ রানের একটি অসাধারণ এবং দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন। তার এই সেঞ্চুরিটি দলের ইনিংসকে ৩৩৯ রান পর্যন্ত নিয়ে যেতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে ছিল ক্লাসিক্যাল শটের ছড়াছড়ি এবং উইকেটের চারপাশে রান নেওয়ার দারুণ দক্ষতা।

তাওহিদ হৃদয়কে এই ম্যাচে যোগ্য সহযোগিতা করেছেন অভিজ্ঞ ওপেনার এনামুল হক বিজয়। তিনি শুরু থেকেই ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করে দলের রানের গতি সচল রাখেন। বিজয় ৬৩ বলে ৭১ রানের একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যা দলকে একটি বড় সংগ্রহের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে দেয়। এরপর মিডল অর্ডারে এসে দলের হাল ধরেন আফিফ হোসেন। তিনি ৭০ বল খেলে ৭০ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। আফিফ ও হৃদয়ের চমৎকার পার্টনারশিপের কারণেই মোহামেডান ৩৩৯ রানের বিশাল স্কোর ছুঁতে সক্ষম হয়।

রূপগঞ্জের বোলারদের লড়াই ও বোলিং পারফরম্যান্স

মোহামেডানের ব্যাটসম্যানদের মারমুখী ব্যাটিংয়ের সামনে রূপগঞ্জের বোলারদের চরম পরীক্ষা দিতে হয়েছে। রূপগঞ্জের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন শেখ মেহেদী হাসান। তিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বল হাতে মোহামেডানের ২টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া জাতীয় দলের পেসার হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম এবং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ প্রত্যেকেই ১টি করে উইকেট শিকার করেন। তবে তারা রান আটকে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় মোহামেডান ৫ উইকেটে ৩৩৯ রানের বিশাল পুঁজি পেয়ে যায়।

৩৪০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া এবং রূপগঞ্জের ব্যাটিং বিপর্যয়

৩৪০ রানের এক বিশাল ও কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ শুরুটা করেছিল অত্যন্ত ঝোড়ো গতিতে। দলের ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহাম উইকেটে এসে মোহামেডানের বোলারদের ওপর চড়াও হন। তিনি মাত্র ২৭ বল খেলে ৫৯ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন। তার এই মারকুটে ইনিংসে রূপগঞ্জ ম্যাচের শুরুতেই একটি দারুণ মোমেন্টাম পেয়ে যায়। তবে সোহামের এই ঝড়ো ইনিংসের সমাপ্তির পর রূপগঞ্জের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। মোহামেডানের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে রূপগঞ্জের মিডল অর্ডার পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

মিডল অর্ডারে শেখ মেহেদী হাসান কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন। তিনি ৫০ বল খেলে ৩৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়া শেষ দিকে নাসুম আহমেদ ৪০ বলে ৪৫ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যা দলের পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমায়। কিন্তু দলের অন্য কোনো ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিয়ে বড় ইনিংস খেলতে না পারায় রূপগঞ্জ মাত্র ৩৪ ওভারে ২৩২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে মাঠ ছাড়ে।

নাহিদ রানার ফাইফার-সদৃশ বোলিং ও বোলারদের দাপট

মোহামেডানের বোলাররা এই ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শন করেছেন। বিশেষ করে তরুন পেসার নাহিদ রানা রূপগঞ্জের ব্যাটসম্যানদের পিষ্ট করেছেন তার গতি দিয়ে। তিনি ৭১ রান খরচ করে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন, যা রূপগঞ্জের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তাইবুর রহমান, যিনি রূপগঞ্জের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামিয়ে ৩টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২টি উইকেট শিকার করেন এবং স্পিনার তাইজুল ইসলাম ১টি উইকেট নিয়ে রূপগঞ্জের শেষ উইকেটটি তুলে নেন। বোলারদের এই সম্মিলিত পারফরম্যান্সের কারণেই মোহামেডান এক অনবদ্য জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।

ম্যাচের সারসংক্ষেপ ও মোহামেডানের আত্মবিশ্বাস

  • মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ইনিংস: ৩৩৯/৫ (৫০ ওভার) – তাওহিদ হৃদয় ১০১ (১০৬), এনামুল হক বিজয় ৭১ (৬৩), আফিফ হোসেন ৭০* (৭০)।
  • লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ বোলিং: শেখ মেহেদী হাসান ২ উইকেট, হাসান মাহমুদ ১ উইকেট, শরিফুল ইসলাম ১ উইকেট।
  • লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ইনিংস: ২৩২/১০ (৩৪ ওভার) – হাবিবুর রহমান সোহাম ৫৯ (২৭), নাসুম আহমেদ ৪৫ (৪০), শেখ মেহেদী হাসান ৩৭ (৫০)।
  • মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব বোলিং: নাহিদ রানা ৪/৭১, তাইবুর রহমান ৩ উইকেট, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২ উইকেট।
  • ফলাফল: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১০৭ রানে জয়ী।

এই দুর্দান্ত জয়ের মধ্য দিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিগের টেবিলে তাদের অবস্থান আরও দৃঢ় করল। তাওহিদ হৃদয়ের নান্দনিক সেঞ্চুরি ও নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিং নিশ্চিতভাবেই মোহামেডান শিবিরে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। আগামী ম্যাচগুলোতেও এই পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রাখতে চাইবে দলটি।

Share
Avatar photo
Vikram Desai

Vikram Desai writes extensively about cricket history, legendary players, and record-breaking performances. He has spent years researching domestic and international cricket archives across multiple eras.