Sri Lanka A deny Sooryavanshi, Shedge in Super Over thriller
ডাম্বুলায় স্নায়ুচাপের লড়াই
ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত ভারত এ এবং শ্রীলঙ্কা এ দলের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত রূপ নিল এক অবিশ্বাস্য সুপার ওভারে। শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা, আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তি এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় মিলিয়ে এই ম্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকদিন মনে থাকবে। শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সী তরুণ পেসার কুগাথাস মাথুলানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ জিতে নিল শ্রীলঙ্কা এ দল।
সুপার ওভারে মাথুলানের জাদু
সুপার ওভারে জয়ের জন্য ভারত এ দলের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৮ রানের। তবে কুগাথাস মাথুলান নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে নিখুঁত তিনটি ইয়র্কার দিয়ে সূর্যংশ শেডগে এবং বৈভব সূর্যবংশীকে আটকে দেন। ভারত এ দল নির্ধারিত ৬ বলে মাত্র ৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এই হারের ফলে ভারত এ দল টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের স্বাদ পেল এবং তাদের পরবর্তী ম্যাচটি আফগানিস্তান এ দলের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে পরিণত হয়েছে। মাথুলানের অসাধারণ এই স্পেলই শ্রীলঙ্কাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।
ম্যাচের নাটকীয় পটভূমি
ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ানো নিয়ে তৈরি হয়েছিল চরম নাটকীয়তা। রেগুলেশন টাইমের শেষ এবং সুপার ওভারের শুরুর মাঝে প্রায় ১০ মিনিটের বেশি সময় অতিবাহিত হয়। ভারত এ দলের অধিনায়ক তিলক ভার্মা আম্পায়ারদের কাছে সুপার ওভারের জন্য আবেদন করার পর আম্পায়ারদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়। যখন খেলা পুনরায় শুরু হয়, তখন ডাম্বুলার আলোর অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে স্বাভাবিক নিয়মে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল। তবুও ম্যাচটি সম্পন্ন হয়।
মাঠের ভেতরের উত্তাপ
ম্যাচ শেষে শ্রীলঙ্কা এ দল জয়ের উল্লাসে মেতে উঠলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। শেষ বলের পরই ভারত এ দলের বৈভব সূর্যবংশী এবং শ্রীলঙ্কার কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আম্পায়ারদের হস্তক্ষেপে তা থামানোর চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে সূর্যবংশীকে বিশেন হালাম্বাগের সাথে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত নিরোশান ডিকভেলা এবং শ্রীলঙ্কা এ দলের অধিনায়ক সাহান আরাচ্চিগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুই দলের খেলোয়াড়রা হ্যান্ডশেক করে মাঠ ছাড়েন।
টাই হওয়ার কারণ
মূল ম্যাচে শ্রীলঙ্কা এ দলের শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান। আরশাদ খানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৯৩ রান করা সাদিরা সামারাবিক্রমাকে আউট করে আরশাদ ম্যাচটি শেষ ওভারের রোমাঞ্চকর অবস্থায় নিয়ে যান। শেষ বলে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ২ রান। আরশাদের ফুলটস বল থেকে রান নিতে গিয়ে রান আউট হলে ম্যাচটি টাই হয়। যদিও ভারত এ দল আবেদন করেছিল যে ব্যাটসম্যান কোনো শট খেলেননি, কিন্তু আম্পায়ার শেষ পর্যন্ত লেগ বাইয়ের ইশারা দেন এবং ম্যাচটি টাই হিসেবে গণ্য হয়।
ভবিষ্যৎ পথচলা
ভারতের জন্য এই পরাজয় অনেক বড় ধাক্কা। ব্যাটিংয়ে সূর্যবংশী ও শেডগের মতো তরুণরা দারুণ লড়াই করলেও বোলারদের কিছুটা সীমাবদ্ধতা ফুটে উঠেছে। এখন আফগানিস্তান এ দলের বিপক্ষে ম্যাচটি ভারতের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা এ দল তাদের এই জয়ের আত্মবিশ্বাস পরের ম্যাচগুলোতে কাজে লাগাতে চাইবে। ডাম্বুলার এই সুপার ওভার থ্রিলার প্রমাণ করে যে, ক্রিকেটে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলে যেকোনো কিছু ঘটা সম্ভব। ম্যাচটি ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য ছিল চরম উত্তেজনার এক অনন্য নিদর্শন।