Irfan Pathan disgusted with Ashish Nehra’s tactic against Vaibhav Sooryavanshi – ইরফান পাঠানের ক্ষোভ: ১৫ বছর বয়সী সূর্যবংশীর বিরুদ্ধে GT-এর বডিলাইন কৌশল কি ঠিক ছিল?
ক্রিকেট মাঠে কৌশলগত লড়াই সব সময়ই দেখা যায়, তবে কখনও কখনও সেই কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ক্রিকেটের চেতনার দিক থেকে। সম্প্রতি গুজরাট টাইটান্স (GT) এবং রাজস্থান রয়্যালস (RR) এর মধ্যকার একটি ম্যাচে এমনই একটি ঘটনা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গুজরাট টাইটান্সের কোচিং স্টাফ, বিশেষ করে আশীষ নেহরা, ১৫ বছর বয়সী তরুণ ব্যাটসম্যান বৈভব সূর্যবংশীর বিরুদ্ধে যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান।
১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীর বিরুদ্ধে গুজরাট টাইটান্সের বিতর্কিত কৌশল
রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং লাইনআপে বৈভব সূর্যবংশী যে একজন মূল শক্তি, সে সম্পর্কে গুজরাট টাইটান্স খুব ভালোভাবেই অবগত ছিল। তাই, ইনিংসের শুরু থেকেই তারা এই ১৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নতুন একটি পন্থা অবলম্বন করে। তাদের লক্ষ্য ছিল, বৈভবকে তার স্বাভাবিক ছন্দে রান করা থেকে বিরত রাখা। এর জন্য GT পেসাররা ব্যাটসম্যানের শরীর বরাবর বল ডেলিভারি করার কৌশল বেছে নেন, যা ক্রিকেটের পরিভাষায় ‘বডিলাইন বোলিং’ নামে পরিচিত।
শুরুতে সংগ্রাম, তারপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
এই কৌশলটি শুরুতে কাজ করেছিল। বৈভব সূর্যবংশী, যার আইপিএল ২০২৬ মরসুমে গড় স্ট্রাইক রেট ২৩০-এর বেশি ছিল, তাকে অর্ধশতক পূর্ণ করতে ৩০টিরও বেশি বল খেলতে হয়েছিল। এটি তার স্বাভাবিক ব্যাটিং পদ্ধতির তুলনায় ছিল অনেক ধীর। ম্যাচের ১৪তম ওভারে কাগিসো রবাডার একটি বাউন্সার সরাসরি বৈভব সূর্যবংশীর হেলমেটে আঘাত হানে। ক্রিকেটে হেলমেটে আঘাত সবসময়ই ভীতিকর একটি মুহূর্ত, বিশেষ করে যখন ব্যাটসম্যানের বয়স মাত্র ১৫ বছর। এই ঘটনাটি পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তোলে।
মুল্লানপুরের পিচ প্রথম ইনিংসে পেসারদের জন্য অতিরিক্ত বাউন্স এনে দিয়েছিল। গুজরাট টাইটান্সের পেসাররা, যেমন কাগিসো রবাডা, মোহাম্মদ সিরাজ এবং জেসন হোল্ডার, পিচের এই সুবিধাটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিলেন। তারা ক্রমাগত বৈভবের শরীর বরাবর বল করে তাকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বৈভব হার মানার পাত্র ছিলেন না। ম্যাচের অগ্রগতির সাথে সাথে, সূর্যবংশী যত তাড়াতাড়ি বাউন্সের সাথে মানিয়ে নিতে শুরু করেন, তত দ্রুতই তিনি তার প্রাকৃতিক ব্যাটিং শৈলীতে ফিরে আসেন। ১৫তম ওভারে, যখন সিরাজ একটি বাউন্সার করেন, তখন RR-এর এই তরুণ ব্যাটসম্যান সেটিকে দর্শনীয় ছক্কায় পরিণত করে জবাব দেন।
ইরফান পাঠানের ক্ষোভ: “পিতা হিসেবে আমি একমত নই”
এই বিতর্কিত কৌশল এবং বিশেষ করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হেলমেটে বাউন্সারের আঘাতের পর, ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান তার গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি ‘X’ (আগের টুইটার) এ ম্যাচের সময় একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে তিনি লেখেন: “১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীকে আটকাতে বডিলাইন বোলিং আমার কাছে ঠিক মনে হয়নি। আমি জানি সে বড় ছেলেদের বিপক্ষে খেলছে, কিন্তু একজন পিতা হিসেবে আমি এর সাথে একমত নই।” পাঠানের এই মন্তব্য ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন তুলে ধরে।
একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এবং এখন একজন পিতা হিসেবে, ইরফান পাঠান মনে করেছেন যে এই ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়ের জন্য নিরাপদ বা উপযুক্ত নয়। এটি কেবল খেলার নীতির বিরুদ্ধেই নয়, একজন তরুণের সুরক্ষার দিক থেকেও প্রশ্নবিদ্ধ। ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপরিহার্য, কিন্তু তা যেন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা এবং খেলার চেতনার সীমানা অতিক্রম না করে, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন পাঠান।
বৈভব সূর্যবংশীর অসাধারণ ৯৬ রানের ইনিংস
গুজরাট টাইটান্সের আক্রমণাত্মক বোলিং কৌশল এবং ইরফান পাঠানের ক্ষোভের মাঝেও বৈভব সূর্যবংশী তার অসাধারণ ব্যাটিং চালিয়ে যান। তিনি ৪৭ বলে ৯৬ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলে তার ব্যাটিংয়ের সমাপ্তি টানেন। তার এই অসাধারণ ইনিংসে ছিল আটটি চার এবং সাতটি ছক্কা, যার স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৪.২৬। ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের একক প্রচেষ্টায় রাজস্থান রয়্যালস ২০ ওভারে ২১৬ রানের একটি বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। এই রান এমন একটি পিচে হয়েছিল যা বোলারদের জন্য কিছু সুবিধা দিচ্ছিল, যা বৈভবের ইনিংসকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
রবাডার ব্যাখ্যা এবং ম্যাচের ফলাফল
প্রথম ইনিংস শেষে, গুজরাট টাইটান্সের পেসার কাগিসো রবাডাকে রয়্যালসের বিরুদ্ধে তাদের বোলিং কৌশল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। রবাডা বলেন যে পিচ তাদের “টেনিস বল বাউন্স” দিয়ে সাহায্য করছিল এবং তারা সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। তিনি বলেন, “এটি টেনিস বলের মতো বাউন্স করছিল। যতটা সম্ভব সেই এলাকায় বল করার চেষ্টা করছিলাম এবং তারপর সেই অনুযায়ী সামঞ্জস্য করছিলাম। এটি সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, বোলিং মানে লাইন এবং লেন্থ। আপনি যত বেশি আপনার লাইন এবং লেন্থ মিস করবেন, উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা তত কমবে। তাই আমি সেটাই করার চেষ্টা করেছি। আমরা এই উইকেটে সেটাই করার চেষ্টা করেছি। এটি কী সুবিধা দেয় তা দেখে, তারপর সেই অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা এবং আপনার সহজাত প্রবৃত্তি ব্যবহার করা।”
রবাডার মন্তব্য যদিও কৌশলগত দিক থেকে সঠিক ছিল, তবে এর ফলে সৃষ্ট নৈতিক বিতর্ক ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বোলাররা পিচের সুবিধা নিতেই পারে, কিন্তু সেই সুবিধা নিতে গিয়ে একজন তরুণ খেলোয়াড়ের সুরক্ষাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত, সেই প্রশ্নটি অমীমাংসিত থাকে।
যদিও রাজস্থান রয়্যালস বৈভব সূর্যবংশীর ৯৬ রানের সুবাদে ২১৬ রানের একটি শক্তিশালী স্কোর গড়েছিল, বিশেষ করে যখন পিচ বোলারদের জন্য কিছু সুযোগ তৈরি করছিল, তবুও তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়। গুজরাট টাইটান্স তাদের লক্ষ্য খুব সহজেই অতিক্রম করে যায়, যার মূল কৃতিত্ব ছিল শুভমান গিলের অনবদ্য ১০৪ রানের ইনিংস। দিনের শেষে, GT এই ম্যাচটি জিতে নেয়, কিন্তু ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তটি ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে গেঁথে থাকে। এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয় যে ক্রিকেটে শুধু জয়-পরাজয় নয়, খেলার চেতনা এবং খেলোয়াড়দের সুরক্ষা সমান গুরুত্বপূর্ণ।