“Rohit Sharma wanted Rishabh Pant to go for the win”: Ravichandran Ashwin makes huge revelation
গাব্বার সেই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যের অজানা গল্প
২০২০-২১ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার দুর্গ গাব্বাতে ভারতের সেই জয় কেবল একটি ম্যাচের জয় ছিল না, বরং তা ছিল অদম্য মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। সম্প্রতি এই টেস্টের কৌশলগত দিক নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি জানিয়েছেন, সেই ঐতিহাসিক টেস্টের শেষ দিনে ড্রেসিংরুমে চলছিল ভিন্ন মতের লড়াই।
রোহিতের জেদ বনাম শাস্ত্রীর রক্ষণাত্মক কৌশল
অশ্বিন জানিয়েছেন যে, সেই টেস্টের শেষ দিনে যখন জয়ের জন্য ভারতের রানের প্রয়োজন ছিল, তখন তৎকালীন হেড কোচ রবি শাস্ত্রী ড্রয়ের কথা ভাবছিলেন। কিন্তু অধিনায়ক রোহিত শর্মার চিন্তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। “Rohit Sharma wanted Rishabh Pant to go for the win”: Ravichandran Ashwin makes এই মন্তব্যটি সেই সময়ের স্নায়ুচাপের মুহূর্তগুলোকেই তুলে ধরে। অশ্বিনের ভাষায়, শাস্ত্রী খেলাটিকে ড্র করার দিকে নিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন, কিন্তু রোহিত শর্মা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে ঋষভ পন্তের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমেই ভারত ম্যাচটি জিততে পারে।
ঋষভ পন্তের বীরত্বপূর্ণ ইনিংস
রোহিতের সেই আস্থার প্রতিদান পূর্ণমাত্রায় দিয়েছিলেন ঋষভ পন্ত। তিনি অপরাজিত ৮৯ রানের একটি ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলেন। গাব্বার সেই পিচে ৩২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করা মোটেও সহজ ছিল না, বিশেষ করে যেখানে ১৯৮৮ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া অপরাজেয় ছিল। পন্ত সেদিন চেতেশ্বর পূজারা এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের সাথে জুটি বেঁধে যেভাবে ব্যাট করেছিলেন, তা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রান তাড়া হিসেবে গণ্য হয়।
অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রেক্ষাপট
ঋষভ পন্তের জন্য এই সফরটি ছিল নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ। অ্যাডিলেড টেস্টে সুযোগ না পাওয়ার পর মেলবোর্নে তিনি তার সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। এরপর সিডনি টেস্টে চোরা আঘাত পাওয়ার পরেও পান্তের ৯৭ রানের লড়াই ভারতকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিল। গাব্বাতে এসে সেই লড়াই পূর্ণতা পায়। পুরো সিরিজে পন্ত ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন, ৩ ম্যাচে ৬৮.৫০ গড়ে তিনি করেছিলেন ২৭৪ রান।
টিম ইন্ডিয়ার অদম্য লড়াই
গাব্বা টেস্টের সময় ভারত চোটের কারণে নিজেদের মূল একাদশের অনেককেই হারিয়েছিল। ওয়াশিংটন সুন্দর এবং টি নটরাজনের অভিষেক হয়েছিল সেই ম্যাচেই। রোহিত শর্মা দ্রুত আউট হয়ে গেলেও শুভমান গিলের ৯১ রানের ইনিংস ভারতকে জয়ের ভিত গড়ে দেয়। এরপর পন্তের একক নৈপুণ্যে ভারত অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয়।
উপসংহার
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের এই প্রকাশ থেকে স্পষ্ট যে, ক্রিকেটে কেবল দক্ষতা নয়, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসই জয় নিশ্চিত করে। রবি শাস্ত্রীর অভিজ্ঞতাসুলভ সতর্কতা এবং রোহিত শর্মার আগ্রাসী জয়ের ক্ষুধা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই সেদিন ভারত এমন এক বিজয়গাথা লিখেছিল, যা আজও ক্রিকেট প্রেমীদের শিহরিত করে। পন্তের সেই অকুতোভয় ব্যাটিং এবং রোহিতের সেই সাহসী সমর্থন ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় হয়ে থাকবে।