When Ajinkya Rahane Accused Credit Stealing After India’s Historic BGT Win: নেপথ্যের গল্প
Ajinkya Rahane Ravi Shastri. Image Credits: AFP
ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের নেপথ্যে বড় বিতর্ক
২০২০-২১ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে (BGT) ভারতীয় দলের ঐতিহাসিক জয় ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তবে এই মহাকাব্যিক জয়ের কয়েক মাস পরেই এক বড় বিতর্কের সূত্রপাত হয়। When Ajinkya Rahane Accused Credit Stealing After India’s Historic BGT Win – এই বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট মহলে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলেছে। নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলির অনুপস্থিতিতে অজিঙ্কা রাহানে যেভাবে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সিরিজ জিতিয়েছিলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এই জয়ের কৃতিত্ব কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রাহানে। মাঠের ভেতরে ও ড্রেসিংরুমে নেওয়া তাঁর বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব অন্য কেউ মিডিয়ার সামনে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছিল বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অজিঙ্কা রাহানের সেই বিস্ফোরক অভিযোগ
সিডনি ও গাব্বায় ভারতের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর যখন গোটা দেশ জয়ের আনন্দে মেতেছিল, তখন পর্দার আড়ালে চলছিল অন্য এক গল্প। সিরিজ জয়ের কিছুদিন পর জনপ্রিয় স্পোর্টস শো ‘ব্যাকস্টেজ উইথ বোরিয়া’-তে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় রাহানে তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন। রাহানে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে দলের সাফল্যের কৃতিত্ব নিজে নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই, তবে অন্যের কৃতিত্ব চুরি করার মানসিকতা তিনি মেনে নিতে পারেননি।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি ওখানে কী করেছি তা আমি খুব ভালো করেই জানি। এটা কাউকে বলে বেড়ানো আমার স্বভাব নয়। হ্যাঁ, এমন কিছু সিদ্ধান্ত ছিল যা আমি মাঠে বা ড্রেসিংরুমে নিয়েছিলাম, কিন্তু অন্য কেউ সেগুলোর কৃতিত্ব নিজের নামে করে নিয়েছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “এর পর মিডিয়াতে বা লোকেদের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে যে ‘আমি এটা করেছি’ বা ‘এটা আমার সিদ্ধান্ত ছিল’ বা ‘এটা আমার কল ছিল’। এগুলো নিয়ে কথা বলা তাদেরই সাজে যারা সস্তা কৃতিত্ব নিতে পছন্দ করে।” রাহানের এই মন্তব্য তৎকালীন কোচ রবি শাস্ত্রী বা দলের অন্য কোনো সিনিয়র সদস্যের দিকে ইঙ্গিত করছিল কিনা, তা নিয়ে আজও গুঞ্জন রয়েছে।
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মন্তব্য এবং নতুন বিতর্ক
সম্প্রতি এই বিতর্কটি আবারও নতুন করে প্রাণ পেয়েছে অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের একটি মন্তব্যের পর। অশ্বিন পরোক্ষভাবে ঋষভ পন্তের গাব্বা টেস্টের অতিমানবীয় ইনিংসের কৃতিত্ব তৎকালীন ওপেনার ও বর্তমান অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে দিয়েছেন। গাব্বা টেস্টের শেষ দিনে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩২৮ রান। অশ্বিন ইএসপিএন-ক্রিকইনফো অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে জানান যে, তৎকালীন প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী ম্যাচটি ড্র করার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু রোহিত শর্মা চেয়েছিলেন ঋষভ পন্ত জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ুক।
অশ্বিন বলেন, “একদিকে আমাদের আবহাওয়ার আপডেট চলছিল এবং অন্যদিকে রবি ভাইয়ের মেজাজের ওঠানামা। এটাই তো টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য। ম্যাচের শেষ দিকে রোহিত চেয়েছিল ঋষভ যেন জয়ের জন্য খেলে। রবি ভাই ড্র করতে চেয়েছিলেন, এবং পরবর্তী দুই ঘণ্টা খেলাটা নিজের গতিতে এগিয়ে যায়। এটি একটি দুর্দান্ত টেস্ট ম্যাচ ছিল।” অশ্বিনের এই বক্তব্য আবারও প্রমাণ করে যে দলের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তার কৃতিত্ব নেওয়া নিয়ে নানা মতভেদ ছিল, যা রাহানের পুরনো অভিযোগের সত্যতাকেই যেন নতুন করে সামনে এনে দাঁড় করায়।
অ্যাডিলেডের বিপর্যয় থেকে মেলবোর্নের রূপকথা
এই সিরিজের শুরুটা ভারতের জন্য মোটেও ভালো ছিল না। অ্যাডিলেড ওভালে প্রথম টেস্টে ভারত মাত্র ৩৬ রানে অলআউট হয়ে ৮ উইকেটে হেরে যাওয়ার পর দলের মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়েছিল। নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি তাঁর প্রথম সন্তানের জন্মের জন্য দেশে ফিরে যান। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অজিঙ্কা রাহানে। মেলবোর্নে দ্বিতীয় টেস্টে রাহানের অনবদ্য সেঞ্চুরি ভারতকে ৮ উইকেটের এক দুর্দান্ত জয় এনে দেয় এবং সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায়। এরপর সিডনিতে তৃতীয় টেস্টে ভারতের ব্যাটসম্যানরা অসাধারণ লড়াই প্রদর্শন করেন। বিশেষ করে হনুমা বিহারী এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিনের পঞ্চম দিনের ম্যারাথন পার্টনারশিপ ম্যাচটিকে ড্র করতে সাহায্য করে।
গাব্বার ঐতিহাসিক দুর্গ জয় ও টিম ইন্ডিয়ার বীরত্ব
চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে গাব্বায় ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল ৩২৮ রান। গাব্বার কঠিন পিচে পঞ্চম দিনে এই রান তাড়া করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছিল। রোহিত শর্মা মাত্র ৭ রানে আউট হয়ে গেলেও তরুন শুভমন গিল (৯১) এবং চেতেশ্বর পূজারা (৫৬) ভারতের জয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পূজারা একের পর এক বল নিজের গায়ে সহ্য করে ক্রিজে টিকে ছিলেন। গিলের বিদায়ের পর অজিঙ্কা রাহানে ক্রিজে এসে দ্রুত ২২ বলে ২৪ রান করে ভারতীয় ইনিংসের আক্রমণাত্মক গতি বজায় রাখেন। এরপর ঋষভ পন্তের অপরাজিত ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ভারতকে ৩ উইকেটের এক অবিস্মরণীয় জয় এনে দেয়। ৩ দশক পর গাব্বায় অস্ট্রেলিয়ার অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেয় টিম ইন্ডিয়া।
কৃতিত্বের লড়াই ও শান্ত অধিনায়কের অবদান
ভারতীয় ক্রিকেটে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে অনেক সময় মাঠের বাইরের রাজনীতি ও কৃতিত্ব নেওয়ার লড়াই বেশি প্রাধান্য পায়। অজিঙ্কা রাহানের শান্ত ও মৃদুভাষী স্বভাবের কারণে তিনি হয়তো কখনই মিডিয়ার সামনে এসে নিজের ঢাক নিজে পেটাননি। তবে তাঁর অধীনে ভারত যেভাবে শতাব্দীর অন্যতম সেরা টেস্ট সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছিল, তা চিরকাল ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে রাখবে। রাহানের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব যিনিই দাবি করুন না কেন, ক্রিকেট ইতিহাস মনে রাখবে আসল সেনাপতি কে ছিলেন এবং কিভাবে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি দলকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন।