আইপিএলে ছন্দহীন অর্শদীপ সিং, কী কারণে পারফরম্যান্সের এমন অবনতি?
আইপিএল ২০২৬: অর্শদীপের ছন্দহীনতার নেপথ্যে কী?
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি পাঞ্জাব কিংসের বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিংয়ের জন্য খুব একটা সুখকর কাটছে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার পর ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী, কিন্তু আইপিএলের মঞ্চে সেই অর্শদীপ যেন অনেকটাই ম্লান। দলের খারাপ সময় হোক বা জয়, কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেননি। শনিবার পাঞ্জাব কিংস দীর্ঘ ছয় ম্যাচের পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙলেও, অর্শদীপের বোলিং ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক।
অম্বাতি রায়ডুর চোখে ত্রুটি কোথায়?
অম্বাতি রায়ডু মনে করেন, অর্শদীপের বোলিংয়ের মূল সমস্যা তার লেংথ বা পিচ করার জায়গা। ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ওর লেংথই মূল সমস্যা। ও এমন বোলার নয় যে অনেক বেশি শর্ট ডেলিভারি করবে। ডেথ ওভারে ওর উচিত ইয়র্কার লেন্থে বল করা। এমনকি নতুন বলেও যখন সে ফুল লেন্থে বল করেছে, তখন সে খুব একটা রান খরচ করেনি। কিন্তু শর্ট বা শর্ট অফ লেন্থ ডেলিভারিগুলোই বিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
রায়ডু আরও যোগ করেন, ‘ওর বাউন্সার বর্তমানে খুব একটা কার্যকরী নয়। হতে পারে শরীর ক্লান্ত অথবা কয়েক মাস আগের মতো সেই তেজ বা উদ্যম এখন আর ওর বোলিংয়ে নেই। সেক্ষেত্রে ওকে অবশ্যই ফুল লেন্থে বোলিং করে তা পুষিয়ে নিতে হবে।’
ক্লান্তিই কি প্রধান বাধা?
পাঞ্জাব কিংসের কোচ মার্ক বাউচার অবশ্য অর্শদীপের দক্ষতার চেয়ে শারীরিক ক্লান্তির দিকেই বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরপরই এই আইপিএল মৌসুম। খেলোয়াড়দের ওপর দিয়ে অনেক ধকল গিয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক যে দীর্ঘ সময় টানা খেলার ফলে ক্লান্তি চলে আসবে। আমি মনে করি না এটি কোনো দক্ষতার অভাব। এটা কেবল শারীরিক অবসাদ।’
বাউচারের মতে, অর্শদীপের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ বোলারের বিকল্প খুব একটা সহজ নয়, তাই তাকে দলের নিয়মিত অংশ হিসেবেই মাঠে নামতে হচ্ছে। কোচ বলেন, ‘সে জানে তাকে খেলতেই হবে। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের মতো তার পজিশনে খুব বেশি রোটেশনের সুযোগ নেই। তাকে নিজের দক্ষতার ওপর আস্থা রাখতে হবে এবং নতুন বলে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে কৌশলী হতে হবে।’
পরিসংখ্যান কী বলছে?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অর্শদীপ সিং ছিলেন জসপ্রীত বুমরাহর পর ভারতের দ্বিতীয় সেরা বোলার। ৮ ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করেছিলেন ৮.৪৬ ইকোনমি রেটে। অথচ এবারের আইপিএলে ১৪ ম্যাচে তার শিকার মাত্র ১৪ উইকেট এবং ইকোনমি রেট ১০.২০। এই মৌসুমে অর্শদীপ সেই দুজন বোলারের একজন, যারা ৫০০-এর বেশি রান দিয়েছেন। যদিও চেন্নাই সুপার কিংসের অংশুল কাম্বোজও এই তালিকায় আছেন, তবে তার ঝুলিতে রয়েছে ২১টি উইকেট।
ভবিষ্যৎ পথচলা
অর্শদীপ সিংয়ের জন্য এবারের আইপিএল মৌসুমটি একটি বড় শিক্ষা হতে পারে। যদিও তার সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে, তবুও দলের বোলিং আক্রমণে তার গুরুত্ব অপরিসীম। পাঞ্জাব কিংসের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে অর্শদীপ সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও, কোচ বাউচার এখনও তার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না। অর্শদীপ যদি নিজের ভুলগুলো শুধরে পুনরায় সঠিক লেন্থে বোলিং করতে পারেন, তবেই তিনি আবারো সেই বিধ্বংসী ফর্মে ফিরতে পারবেন যা ক্রিকেটপ্রেমীরা তার কাছ থেকে আশা করেন। একটি ব্যর্থ মরশুম কি তাকে আবারও নতুন করে গড়ে তুলবে? সেই উত্তর দেবে সময়ই।