Watch: Basit Ali tears into Shadab Khan as Saqlain Mushtaq listens on Live TV
শাদাব খানের পারফরম্যান্স নিয়ে সরব বাসিত আলি
পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে সম্প্রতি এক নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন দর্শকরা। Watch: Basit Ali tears into Shadab Khan as Saqlain Mushtaq listens on Live TV – এই শিরোনামটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তানের জয় হলেও, অলরাউন্ডার শাদাব খানের পারফরম্যান্স মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। আর এই সুযোগেই পাকিস্তানের প্রাক্তন নির্বাচক বাসিত আলি সরাসরি আক্রমণ করেন শাদাবকে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সময় একই প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন শাদাবের শ্বশুর এবং কিংবদন্তি অফ-স্পিনার সাকলাইন মুশতাক।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং শাদাবের ব্যর্থতা
ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের জন্য ঐতিহাসিক, কারণ এটি ছিল তাদের ১০০০তম ওয়ানডে ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে পাকিস্তান দুর্দান্ত জয় পেলেও, শাদাব খানের বোলিং ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। যেখানে তরুণ বোলার আরাফাত মিনহাস ৫ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন, সেখানে শাদাব ছিলেন উইকেটশূন্য। তিনি ৮ ওভার বোলিং করে ৫৪ রান দেন, যার ইকোনমি রেট ছিল ৬.৭৫। অথচ দলের অন্য বোলাররা অত্যন্ত কৃপণ বোলিং করেছেন। গত পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচে শাদাব একটি উইকেটও পাননি, যা তাঁর ফর্ম নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
বাসিত আলির কড়া সমালোচনা
এআরওয়াই নিউজের প্যানেল আলোচনায় বাসিত আলি বলেন, ‘আপনারাই বলুন, শাদাব খান তিন বছর ওয়ানডে ক্রিকেট খেলেননি, তাহলে তিনি কীভাবে দলে ফিরলেন? তিনি কেবল পিএসএল খেলেছেন। তিন বছর ধরে দিনে মাত্র চার ওভার বল করার পর, কীভাবে তাকে ওয়ানডে দলে সরাসরি জায়গা দেওয়া হলো?’
বাসিত আলি আরও যোগ করেন, ‘এটি স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি। আমিই প্রথম ব্যক্তি যে শাদাব খানকে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের জন্য বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু পারফরম্যান্স না থাকলে যদি কাউকে জোর করে দলে ঢোকানো হয়, তবে তরুণ ক্রিকেটাররা হতাশ হয়। পিসিবি এবং নির্বাচকদের ভয়ে তরুণরা চুপ থাকলেও, এটি দিনশেষে পাকিস্তান ক্রিকেটের অপূরণীয় ক্ষতি করছে।’
পরিসংখ্যান কী বলছে?
২০১৭ সালে অভিষেকের পর থেকে ওয়ানডে ফরম্যাটে শাদাব খান বেশ অসামঞ্জস্যপূর্ণ পারফর্ম করেছেন। ৭১টি ওয়ানডে ম্যাচে ৮৫টি উইকেট নিয়েছেন তিনি, যেখানে গড় ৩৫.৪৫ এবং ইকোনমি ৫.২৬। ব্যাটিংয়ে তাঁর গড় ২৫.৯, যা একজন অলরাউন্ডারের কাছ থেকে আরও ভালো আশা করা যায়। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে তিনি ওয়ানডে দলের বাইরে ছিলেন, কিন্তু এই ম্যাচে ফিরে তিনি নিজের জাত চেনাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সাকলাইন মুশতাকের নীরবতা
এই পুরো আলোচনার সময় শাদাবের শ্বশুর সাকলাইন মুশতাক পাশে বসে ছিলেন। সাকলাইন মুশতাক নিজেও একজন অভিজ্ঞ কোচ এবং ক্রিকেটার, তাই এই পরিস্থিতিতে তাঁর নীরবতা দর্শকদের মাঝে বাড়তি কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ক্রিকেট ভক্তরা বাসিত আলির সাহসিকতা এবং শাদাবের বর্তমান ফর্ম নিয়ে নানা মতামত দিচ্ছেন।
পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যত ভাবনা
তরুণ প্রতিভার উন্মেষ ঘটছে, যেমন আরাফাত মিনহাসের মতো বোলাররা নিজেদের প্রমাণ করছেন। এমন অবস্থায় অভিজ্ঞদের ফর্ম ধরে রাখা এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দলে সুযোগ দেওয়াটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শাদাব খানের মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কাছ থেকে পাকিস্তান দল যে পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করে, তা পাওয়া না গেলে ভবিষ্যতে নির্বাচকদের বড় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, বাসিত আলির এই সমালোচনা শুধু একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে নয়, বরং পুরো নির্বাচক প্রক্রিয়া এবং দলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শাদাব খান কি নিজেকে ফিরে পেতে পারেন, নাকি তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পথেই হাঁটতে হবে পিসিবিকে।