Connolly fights off cramps in innings of a lifetime: অস্ট্রেলিয়ার রোমাঞ্চকর জয়
মিরপুরের উত্তাপ ও কনলির রূপকথা
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার এক অসাধারণ দৃশ্যের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া যখন বিপর্যয়ের মুখে, তখন ত্রাতা হয়ে দাঁড়ালেন কুপার কনলি। প্রচণ্ড শারীরিক অস্বস্তি ও ক্র্যাম্প নিয়েও তিনি খেললেন ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটি। Connolly fights off cramps in innings of a lifetime—এমন একটি শিরোনামেই এখন ক্রিকেটাঙ্গনে চলছে তাকে নিয়ে প্রশংসা।
কঠিন পরিস্থিতিতে কনলির দাপট
ম্যাচের এক পর্যায়ে কনলির শরীর যেন পুরো শকড হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হার মানার পাত্র তিনি নন। ১৩৩ বলে ১৪৯ রানের এক রাজকীয় ইনিংস খেলে তিনি অস্ট্রেলিয়াকে জয় এনে দেন। তার এই ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও ৬টি বিশাল ছক্কা। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৭তম সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। মারনাস লাবুশেন ২৯ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন, যা বোঝায় কনলি কতটা একা হাতে লড়াই করেছেন।
শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ
অস্ট্রেলিয়া যখন জয়ের খুব কাছে, তখন হঠাৎই ছন্দপতন। ২৬৬ রানে ৫ উইকেট থেকে ২৭১ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া তখন হারের শঙ্কায়। শেষ পর্যন্ত অ্যাডাম জাম্পার একটি দারুণ বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত হয়। শরিফুল ইসলাম বাংলাদেশের হয়ে ৬টি উইকেট নিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন, কিন্তু শেষ হাসি হাসল সফরকারীরাই। কনলি ৪৯তম ওভারে আউট হয়ে ফেরার সময় কিছুটা হতাশ ছিলেন, কারণ তিনি ম্যাচটি শেষ করে আসতে চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জয় মেলায় তার মনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে নতুন সমীকরণ
এই ওয়ানডে জয়ের পর এখন নজর টি-টোয়েন্টি সিরিজের দিকে। তবে এর মধ্যেই এসেছে একটি বড় খবর। অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাকে বিশ্রামের জন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ গোড়ালির ইনজুরি কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।
স্কোয়াডে পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়া দল নিম্নরূপ:
- মিচেল মার্শ (অধিনায়ক)
- জাভিয়ার বার্টলেট
- নিখিল চৌধুরী
- কুপার কনলি
- টিম ডেভিড
- জোয়েল ডেভিস
- নাথান এলিস
- অ্যারন হার্ডি
- জোশ ইংলিস
- স্পেন্সার জনসন
- ম্যাথিউ কুনেম্যান
- রাইলি মেরেডিথ
- জোশ ফিলিপ
- ম্যাথিউ রেনশ
- অ্যাডাম জাম্পা
কুপার কনলির এই ইনিংস প্রমাণ করে যে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ তুর্কিরা যেকোনো পরিস্থিতিতে লড়াই করতে প্রস্তুত। তার এই সাহসিকতা ভবিষ্যতে দলকে আরও অনেক দূর নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। বাংলাদেশের মাটিতে এই জয়টি অজিদের জন্য আত্মবিশ্বাসের বড় রসদ হয়ে থাকবে।