Grace Scrivens fifty sets up Essex in Headingley thriller – হেডিংলিতে রুদ্ধশ্বাস জয়: ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে এএসেক্সের রোমাঞ্চকর জয়
হেডিংলিতে রোমাঞ্চকর জয় এএসেক্সের
ভাইটালিটি ব্লাস্টের চলতি আসরে হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে এক রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে এএসেক্স। ৩ রানের ব্যবধানে এই জয়টি এএসেক্সের এই মৌসুমের দ্বিতীয় সাফল্য। অন্যদিকে, টানা চার ম্যাচ খেলে এখনো জয়হীন ইয়র্কশায়ার, যা তাদের জন্য চরম হতাশাজনক।
গ্রেস স্ক্রিভেন্সের উজ্জ্বল নৈপুণ্য
ম্যাচের শুরু থেকেই এএসেক্স ব্যাটিংয়ে বেশ আগ্রাসী ছিল। ওপেনার গ্রেস স্ক্রিভেন্স শুরুতেই দলের হাল ধরেন। তিনি ৩৮ বলে ৫৩ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি বাউন্ডারির মার, যা ইয়র্কশায়ারের বোলারদের বেশ চাপে ফেলেছিল। প্রথম উইকেটে ৪৮ রানের জুটি গড়ে এএসেক্স বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছিল। যদিও মাঝে ইয়র্কশায়ারের বোলাররা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। হোলি গার্টন এবং জেস জোনাসেন দ্রুত কিছু উইকেট তুলে নিয়ে এএসেক্সের রানের গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিলেন।
ইয়র্কশায়ারের বোলিং ও এএসেক্সের লড়াই
এএসেক্সের মিডল অর্ডার কিছুটা ধুঁকছিল। লরেন উইনফিল্ড-হিলের দুর্দান্ত উইকেটকিপিংয়ে গ্রেস স্ক্রিভেন্স বিদায় নেওয়ার পর দলীয় স্কোর বোর্ডে তেমন বড় কোনো জুটি গড়তে পারছিল না এএসেক্স। সোফিয়া স্মেল ও জোডি গ্রুককের ছোট ছোট প্রয়াসে এএসেক্স শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রানের একটি চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করায়। ইয়র্কশায়ারের হয়ে জেস জোনাসেন দুর্দান্ত বোলিং করে ২ উইকেট শিকার করেন।
ইয়র্কশায়ার রান তাড়ার গল্প
১৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইয়র্কশায়ার শুরুটা ভালোই করেছিল। লরেন উইনফিল্ড-হিল এবং এরিন থমাস দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। তবে সোফিয়া স্মেল এবং গ্রেস স্ক্রিভেন্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ইয়র্কশায়ারের ব্যাটাররা বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। বিশেষ করে স্ক্রিভেন্স বল হাতেও ইয়র্কশায়ারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলো তুলে নিয়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে আনেন। লরেন উইনফিল্ড-হিল ১৮ রানে এবং জেস জোনাসেন ১০ রানে আউট হওয়াটা ছিল ইয়র্কশায়ারের জন্য বড় ধাক্কা।
শেষ মুহূর্তের নাটক
ম্যাচের শেষ দিকে ইয়র্কশায়ারের জয়ের জন্য যখন প্রয়োজনীয় রানের সংখ্যা কমে আসছিল, তখন লড়াইয়ে ছিলেন আমি ক্যাম্পবেল। তবে ইভা গ্রে’র বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে ইয়র্কশায়ারের শেষ সারির ব্যাটাররা বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ইভা গ্রে ৩টি উইকেট শিকার করে ইয়র্কশায়ারের জয়ের আশা শেষ করে দেন। শেষ ওভারে ৯ রানের প্রয়োজন থাকলেও এএসেক্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইয়র্কশায়ার শেষ পর্যন্ত ৩ রান দূরে থাকতেই থমকে যায়।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফল
- এএসেক্স: ১৪৬/৭ (গ্রেস স্ক্রিভেন্স ৫৩, জেস জোনাসেন ২-২৩)
- ইয়র্কশায়ার: ১৪৩ অল আউট (ইভা গ্রে ৩-২৫, গ্রেস স্ক্রিভেন্স ২-২৭, সোফিয়া স্মেল ২-২০)
এই জয় এএসেক্সের মনোবল অনেক বাড়িয়ে দেবে, অন্যদিকে ইয়র্কশায়ারকে তাদের পরবর্তী ম্যাচে আরও সতর্ক হতে হবে। হেডিংলির গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা এমন একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সাক্ষী হতে পেরে নিঃসন্দেহে উচ্ছ্বসিত ছিলেন। ক্রিকেট যে কত অনিশ্চয়তার খেলা, তা এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করল। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করাটা এএসেক্সের জন্য ছিল দারুণ এক অর্জন।