Hashmatullah Shahidi reprimanded for running on the pitch despite official warni
আইসিসির শাস্তির কবলে হাশমতুল্লাহ শাহিদি
ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পাশাপাশি আইসিসির শাস্তির মুখে পড়েছেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শাহিদি। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পিচে দৌড়ানোর দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মূলত পিচের সুরক্ষা বজায় রাখার নিয়মের তোয়াক্কা না করায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.১০.১০ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা এড়িয়ে চলার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পিচে দৌড়ে পিচের ক্ষতি করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। হাশমতুল্লাহ শাহিদি তার ১৩১ বলে ১০২ রানের ইনিংস চলাকালীন একাধিকবার একই ভুল করেছেন।
ম্যাচ চলাকালীন অন-ফিল্ড আম্পায়াররা তাকে দুইবার অনানুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এরপর ম্যাচের ৩১তম ওভারে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হয়। কিন্তু এরপরও তিনি ৪০তম ওভারের শেষ বলে একই ভুল করেন। নিয়ম অনুযায়ী, শাহিদির এই কর্মকাণ্ডের ফলে আম্পায়াররা তার নেওয়া সিঙ্গেল রান বাতিল করেন এবং ভারতকে পাঁচ রান পেনাল্টি হিসেবে প্রদান করেন। এর ফলে ভারত তাদের ২১৯ রানের লক্ষ্যমাত্রার শুরুতে ৫ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে।
শাস্তি ও আইসিসির নিয়ম
ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালের প্রস্তাবিত শাস্তি ও অভিযোগটি শাহিদি মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের লেভেল ১-এর এই লঙ্ঘনের জন্য তাকে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। ২৪ মাসের মধ্যে এটি তার প্রথম অপরাধ হওয়ায় এই শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, লেভেল ১ অপরাধের জন্য নূন্যতম শাস্তি হিসেবে অফিসিয়াল তিরস্কার, সর্বোচ্চ ম্যাচ ফি-এর ৫০ শতাংশ জরিমানা এবং এক বা দুই ডিমেরিট পয়েন্ট প্রদানের নিয়ম রয়েছে। এই ম্যাচের দায়িত্বে ছিলেন আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানি, রোহান পণ্ডিত, রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ এবং চতুর্থ আম্পায়ার বীরেন্দ্র শর্মা।
ম্যাচের ফলাফল ও প্রভাব
শাহিদির ব্যক্তিগত শতক থাকা সত্ত্বেও আফগানিস্তান এই ম্যাচে ভারতের কাছে নয় উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। এই হারের মাধ্যমে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে আফগানিস্তান ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। শাহিদির এই শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা দলের জন্য একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত রেকর্ডেও প্রভাব ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পিচের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারদের দৌড়ানোর সময় পিচের মাঝের অংশ এড়িয়ে চলার নির্দেশিকা থাকলেও, চাপের মুখে অনেক সময় খেলোয়াড়রা তা ভুলে যান। শাহিদির ক্ষেত্রে এই নিয়ম লঙ্ঘন করাটা স্পষ্ট ছিল, যার ফলে আম্পায়ারদের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
উপসংহার
একজন অধিনায়ক হিসেবে হাশমতুল্লাহ শাহিদির কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা ছিল। যদিও তিনি তার ভুল স্বীকার করেছেন, তবে এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ভবিষ্যতে আফগানিস্তান দলকে বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে হলে এই ধরনের শৃঙ্খলাজনিত ত্রুটি এড়িয়ে চলাই তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে।