Four Indians Includes as ICC Women’s T20 World Cup 2026 Match Officials Revealed – আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: ম্যাচ অফিশিয়ালের প্যানেলে ৪ জন ভারতীয়
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০২৬ সালের ২৮ মে আসন্ন আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য ম্যাচ অফিশিয়ালদের নাম ঘোষণা করেছে। এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টটি ২০২৬ সালের ১২ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নারী ক্রিকেটের এই বৃহত্তম আসরকে সফলভাবে পরিচালনা করতে আইসিসি একঝাঁক দক্ষ ও অভিজ্ঞ অফিশিয়ালদের বেছে নিয়েছে, যার মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য রয়েছে বড় গর্বের খবর।
টানা তৃতীয়বার সম্পূর্ণ নারী অফিশিয়াল প্যানেল
নারী ক্রিকেটের প্রসারে আইসিসি আরও এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। টানা তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে সম্পূর্ণ নারী অফিশিয়ালদের একটি প্যানেল দায়িত্ব পালন করবে। এই প্যানেলে মোট ১৮ জন অফিশিয়াল স্থান পেয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ জন আম্পায়ার এবং ৪ জন ম্যাচ রেফারি রয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্রিকেটের প্রতিটি স্তরে লিঙ্গ সমতা এবং নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতি আইসিসির প্রতিশ্রুতি আরও একবার প্রমাণিত হলো।
প্যানেলে চারজন ভারতীয় অফিশিয়াল
ঘোষিত ১৮ জনের এই তালিকায় ভারতের চারজন নারী অফিশিয়াল স্থান পেয়েছেন, যা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। এই চারজনের মধ্যে অন্যতম হলেন অভিজ্ঞ ম্যাচ রেফারি জিএস লক্ষ্মী (GS Lakshmi)। এছাড়া আম্পায়ারদের তালিকায় রয়েছেন বৃন্দা রাঠি (Vrinda Rathi), জননী এন (Janani N.) এবং গায়ত্রী বেণুগোপালন (Gayathri Venugopalan)। এদের মধ্যে গায়ত্রী বেণুগোপালন এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক করতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বৃন্দা রাঠি এবং জননী এন এর আগেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনা করে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
ভারতীয় অফিশিয়ালদের পরিচিতি ও গৌরবময় যাত্রা
এবারের বিশ্বকাপে ডাক পাওয়া ভারতীয় অফিশিয়ালদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবদান অনস্বীকার্য। ম্যাচ রেফারি হিসেবে ভারতের জিএস লক্ষ্মী বিশ্ব ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই এক পরিচিত নাম। ২০১৯ সালে তিনি আইসিসির ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অফ ম্যাচ রেফারি-তে প্রথম নারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচ পরিচালনার সূক্ষ্ম ক্ষমতা এবারের বিশ্বকাপেও বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, আম্পায়ার বৃন্দা রাঠি ও জননী এন ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত আম্পায়ারিং করে আসছেন। তারা দুজনেই অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসিত। নতুন মুখ গায়ত্রী বেণুগোপালনের অন্তর্ভুক্তি ভারতের নারী আম্পায়ারিংয়ের ক্রমবর্ধমান মানকে নির্দেশ করে। ভারতের এই নারী অফিশিয়ালরা বিশ্বমঞ্চে কোটি কোটি তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবেন এতে কোনো সন্দেহ নেই।
অভিষেক ও অভিজ্ঞতার দারুণ সমন্বয়
এবারের আসরে আম্পায়ারিং প্যানেলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন মুখেরও দারুণ সমন্বয় দেখা যাবে। মোট চারজন আম্পায়ার এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেক করতে যাচ্ছেন। তারা হলেন বাংলাদেশের সাথিরা জাকির জেসি (Shathira Jakir Jesy), দক্ষিণ আফ্রিকার কেরিন ক্লাস্টে (Kerrin Klaaste), ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যান্ডেস লা বোর্ডে (Candace La Borde) এবং ভারতের গায়ত্রী বেণুগোপালন (Gayathri Venugopalan)।
অভিষেককারীদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ আম্পায়াররাও এই প্যানেলে তাদের স্থান ধরে রেখেছেন। অস্ট্রেলিয়ার তারকা আম্পায়ার ক্লেয়ার পোলোসাক (Claire Polosak) তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিতে প্রস্তুত হচ্ছেন, যা তার অসামান্য ক্যারিয়ারে আরেকটি মাইলফলক। এছাড়া জ্যাকুলিন উইলিয়ামস (Jacquline Williams) এবং কিম কটন (Kim Cotton) তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং করতে নামবেন।
সাথিরা জাকির জেসির ঐতিহাসিক অভিষেক
এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের আম্পায়ার সাথিরা জাকির জেসির (Shathira Jakir Jesy) অভিষেক হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল এই প্রাক্তন অলরাউন্ডার খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আম্পায়ারিং পেশায় যোগ দেন। আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আম্পায়ার হিসেবে তাঁর এই সুযোগ প্রাপ্তি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক অনন্য অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে উপমহাদেশের নারী আম্পায়াররা এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের মেলে ধরছেন।
গ্রুপ পর্ব এবং ম্যাচের সময়সূচী
২০২৬ সালের এই টুর্নামেন্টে মোট ১২টি দল অংশ নিচ্ছে। দলগুলোকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে, প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে ৬টি করে দল।
গ্রুপ এ (Group A):
- ভারত
- পাকিস্তান
- অস্ট্রেলিয়া
- দক্ষিণ আফ্রিকা
- বাংলাদেশ
- নেদারল্যান্ডস
গ্রুপ বি (Group B):
- ইংল্যান্ড (স্বাগতিক)
- নিউজিল্যান্ড
- শ্রীলঙ্কা
- ওয়েস্ট ইন্ডিজ
- আয়ারল্যান্ড
- স্কটল্যান্ড
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুন, যেখানে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। তবে ক্রিকেট বিশ্বের নজর থাকবে ১৪ জুনের দিকে, যখন এজবাস্টনে ঐতিহ্যবাহী এবং রোমাঞ্চকর ভারত বনাম পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
ম্যাচ অফিশিয়ালদের সম্পূর্ণ তালিকা
পাঠকদের সুবিধার্থে নিচে ম্যাচ অফিশিয়ালদের সম্পূর্ণ প্যানেলটি তুলে ধরা হলো:
আম্পায়ারদের তালিকা:
- লরেন অ্যাগেনবাগ (Lauren Agenbag)
- কিম কটন (Kim Cotton)
- অ্যানা হ্যারিস (Anna Harris)
- সাথিরা জাকির জেসি (Shathira Jakir Jesy)
- কেরিন ক্লাস্টে (Kerrin Klaaste)
- ক্যান্ডেস লা বোর্ডে (Candace La Borde)
- জননী এন (Janani N.)
- নিরালি পেরেরা (Nimali Perera)
- ক্লেয়ার পোলোসাক (Claire Polosak)
- বৃন্দা রাঠি (Vrinda Rathi)
- সুজান রেডফার্ন (Suzanne Redfern)
- অ্যালোইস শেরিডান (Eloise Sheridan)
- জ্যাকুলিন উইলিয়ামস (Jacquline Williams)
- গায়ত্রী বেণুগোপালন (Gayathri Venugopalan)
ম্যাচ রেফারিদের তালিকা:
- ট্রুডি অ্যান্ডারসন (Trudy Anderson)
- শান্দ্রে ফ্রিটজ (Shandré Fritz)
- জিএস লক্ষ্মী (GS Lakshmi)
- মিশেল পেরেরা (Michell Pereira)
আইসিসি প্রধান নির্বাহীর বক্তব্য
এই প্যানেল গঠন সম্পর্কে আইসিসি প্রধান নির্বাহী (CEO) সঞ্জোগ গুপ্তা তাঁর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি এটিকে নারী ক্রীড়া জগতের এক বিরাট অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আইসিসি প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা বলেন, “২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই ম্যাচ অফিশিয়ালদের প্যানেল খেলাধুলার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের পরিধি বাড়ানোর জন্য আইসিসির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়। আইসিসি তার ক্রীড়া অফিশিয়ালদের মূল্যায়ন এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পারফরম্যান্স বিচার করার সময় একটি সামগ্রিক এবং তথ্যভিত্তিক হিসাব বিবেচনায় নেয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এই অফিশিয়ালদের অগ্রগতি দেখে আনন্দিত এবং ২০২৫ সালের আইসিসি সিডব্লিউসি (ICC CWC 2025) চলাকালীন তারা যেভাবে উচ্চমানের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় নারী ক্রীড়া ইভেন্টটি আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়, এই নির্বাচন টুর্নামেন্টের গুরুত্বকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।”
নারী ক্রিকেটের এই মহোৎসবের জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। নতুন মুখ ও অভিজ্ঞ অফিশিয়ালদের এই চমৎকার মেলবন্ধন টুর্নামেন্টটিকে আরও নিরপেক্ষ, নিখুঁত এবং উপভোগ্য করে তুলবে বলেই সকলের প্রত্যাশা।