Kuldeep: ‘Was expecting more, but I couldn’t deliver this season’ – আইপিএলের পারফরম্যান্স নিয়ে মুখ খুললেন কুলদীপ
আইপিএল ২০২৬: নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ কুলদীপ যাদব
আইপিএল ২০২৬-এর মরশুমটি দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পর শেষ ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় দিয়ে আসর শেষ করেছে দিল্লি। তবে এই জয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে তৃপ্ত নন দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার কুলদীপ যাদব। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, Kuldeep: ‘Was expecting more, but I couldn’t deliver this season’।
মরশুমের শেষটা যেভাবে রাঙালেন কুলদীপ
শেষ ম্যাচে ২৯ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন কুলদীপ। নিজের ফর্ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি ব্যক্তিগতভাবে এই মরশুম নিয়ে সন্তুষ্ট নই। আমি নিজের কাছে অনেক বেশি প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু তা পূরণ করতে পারিনি।’ চলতি আইপিএলে কেকেআর ম্যাচের আগে পর্যন্ত দশ ইনিংসে তিনি মাত্র সাতটি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার বোলিং গড় ছিল ৫০.২৮ এবং ইকোনমি রেট ছিল ১০.৬৬। এমন পরিসংখ্যান তার নামের পাশে একেবারেই বেমানান।
ব্যর্থতার কারণ ও কোচের পরামর্শ
টুর্নামেন্টের মাঝপথে ছন্দে ফেরার জন্য কুলদীপ নিজের হোমটাউনে গিয়ে কোচের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ‘শেষ ম্যাচের পর আমি বাড়ি যাই এবং কোচের সঙ্গে কাজ করি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট ছোট ভুলের কারণে ছন্দ হারিয়ে যায়, যা আমি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি।’ কোচ তাকে সরাসরি পরামর্শ দিয়েছিলেন বল স্পিন করার এবং ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার জন্য। কুলদীপ যোগ করেন, ‘আমি শেষ কয়েক ম্যাচে পুরো শরীর ব্যবহার করে বল করছিলাম না, যা আমার বোলিংয়ের ছন্দ নষ্ট করছিল।’
টেকনিক্যাল সমস্যার সমাধান
নিজের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কুলদীপ বলেন, ‘আমি কিছুটা ওপেন চেস্ট হয়ে বোলিং করছিলাম। ফলে বল জোরে পুশ করার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, যা টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের জন্য সহজ হয়ে যাচ্ছিল। যখনই আমি শরীর ব্যবহার করে বল স্পিন করার চেষ্টা করেছি, তখনই ডিপ এবং ড্রিফট পেয়েছি। এতে পেস ভ্যারিয়েশন করাও সহজ হয়েছে।’
ম্যাচের নাটকীয় মুহূর্ত
কেকেআর ম্যাচে কুলদীপ তার চতুর্থ বলেই ক্যামেরন গ্রিনকে সাজঘরে ফেরান। এরপর জোড়া উইকেট শিকার করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন তিনি। বিশেষ করে রিঙ্কু সিংয়ের উইকেটটি ছিল তার পরিকল্পনার নিখুঁত বাস্তবায়ন। তিনি বলটি বাতাসে ধীরগতির করেছিলেন, যা রিঙ্কু বুঝতে ব্যর্থ হন। যদিও একটি হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তবে অভিষেক পোরেলের সহজ ক্যাচ মিসের কারণে সেটি হাতছাড়া হয়। তবুও, এই জয় এবং নিজের ছন্দে ফেরার স্বস্তিতেই এখন কুলদীপ যাদব।
উপসংহার
দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য সামগ্রিকভাবে মরশুমটি হতাশাজনক হলেও, কুলদীপের এই ফিরে আসা আগামী দিনের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে নিজের ভুলগুলো চিহ্নিত করা এবং তা সংশোধনের যে মানসিকতা কুলদীপ দেখিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। আশা করা যায়, আগামী আন্তর্জাতিক সিরিজে তিনি তার চেনা ছন্দে ফিরে আসবেন এবং দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।