O’Neill, Patterson-White complete innings win for Notts at Chelmsford: চেলমসফোর্ডে নটসের দারুণ জয়
নটস-এর চেলমসফোর্ডে ও’নিল, প্যাটারসন-হোয়াইট সম্পূর্ণ করলেন ইনিংস জয়: এক দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
চেলমসফোর্ডের আর্দ্র উইকেটে নটিংহ্যামশায়ার এসেক্সকে ইনিংস ও ৫২ রানে পরাজিত করে একটি অবিস্মরণীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এই জয়ের মূল কারিগর ছিলেন লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট, যিনি ক্যারিয়ার সেরা ম্যাচ ফিগার ৯ উইকেটে ১০৯ রান নিয়ে দলের বিজয়ের পথ সুগম করেন। তার ঘূর্ণি জাদু এবং ফার্গুস ও’নিলের আগ্রাসী বোলিং মিলে নটসকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জয় এনে দিয়েছে। এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে, বিশেষ করে গত ম্যাচে সমারসেটের কাছে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর।
প্যাটারসন-হোয়াইটের ঘূর্ণি জাদু: ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স
২৭ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি স্পিনার প্রথম ইনিংসে তার ব্যক্তিগত সেরা ৬ উইকেটে ৪৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩টি উইকেট নিয়ে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। চেলমসফোর্ডের শুষ্ক, ঘূর্ণি পিচে তিনি এতটাই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন যে তার ইকোনমি রেট ছিল ওভার প্রতি মাত্র দেড় রান। প্যাটারসন-হোয়াইটের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তার বোলিং দক্ষতা এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা নটসকে এই গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিতে সাহায্য করেছে। তিনি যেভাবে এসেক্সের ব্যাটসম্যানদের তার স্পিনের ফাঁদে ফেলেছেন, তা এককথায় অনবদ্য।
ও’নিলের বিদায়ী ঝলক এবং নটসের পুনরুত্থান
অস্ট্রেলিয়ান ফার্গুস ও’নিল তার ক্লাব জীবনের শেষ ম্যাচে প্যাটারসন-হোয়াইটকে ছাড়িয়ে ৫টি উইকেট শিকার করেন, যা ছিল তার ক্লাব ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সমাপ্তি। পাঁচ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে তিনি নটসের জন্য এক মূল্যবান সম্পদ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এই জয়টি বর্তমান রথসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ী নটিংহ্যামশায়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ মাত্র ছয় দিন আগে তারা সমারসেটের কাছে ৩০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল। এই বিজয় তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে এবং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করবে। এই ম্যাচের শুরু থেকেই নটিংহ্যামশায়ার আধিপত্য বিস্তার করেছিল, বিশেষ করে জ্যাক হেইনসের অপরাজিত শতক (১৩৭*) এবং অধিনায়ক হাসিম হামিদের ৮৯ রানের সুবাদে তারা প্রথম ইনিংসে ২৭৩ রানের বিশাল লিড পেয়েছিল, যা এসেক্সের জন্য কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার সামিল ছিল।
এসেক্সের ব্যাটিং বিপর্যয় এবং কিছু লড়াই
এসেক্সের পক্ষে কেবল ডিন এলগার ৪২ রান এবং চার্লি অ্যালিসন ৫৬ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। লুক বেনকেনস্টাইনের সাথে অ্যালিসনের ৬৫ রানের সপ্তম উইকেট জুটি ছিল তাদের ইনিংসের একমাত্র উজ্জ্বল দিক, যেখানে বেনকেনস্টাইনও তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের সেরা ৪২ রান করেন। তবে এই প্রতিরোধ নটিংহ্যামশায়ারের বিজয় উৎসবকে বিলম্বিত করতে পারেনি, যা বিকেল ৪:৫৯ মিনিটে নিশ্চিত হয়।
এসেক্স দিনের শুরু করেছিল ছয় সেশন ধরে টিকে থাকার লক্ষ্য নিয়ে, কিন্তু আগের সন্ধ্যায় দ্বিতীয় ইনিংসে দুটি উইকেট হারিয়ে তারা ইতোমধ্যেই চাপে ছিল। সকালে মাত্র ১৭ বলের মধ্যে তারা তৃতীয় উইকেট হারায় যখন দ্বিতীয় নাইটওয়াচার চার্লি বেনেট আলগা শট খেলে ও’নিলের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন।
এলগারের দৃঢ়তা এবং স্টোন-এর ধৈর্য
ডিন এলগারকে ওলি স্টোনের তীব্র পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, যেখানে তাকে প্রায়শই পিছনের পায়ে গিয়ে ব্যাট চালাতে এবং নিচু বল রক্ষা করতে দেখা যায়। দক্ষিণ আফ্রিকান এই ব্যাটসম্যানের ৭৬ বলের ইনিংসে আটটি বাউন্ডারির বেশিরভাগই ও’নিল বা প্যাটারসন-হোয়াইটের বিরুদ্ধে এসেছিল, যা তিনি এক্সট্রা কভার বা মিডউইকেট দিয়ে সাবলীলভাবে ড্রাইভ করেছিলেন। এলগার আগের রাতে ও’নিলের বলে গ্লাভস করার একটি আপিল থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, যখন তিনি অর্ধ-হাঁটা শুরু করেছিলেন কিন্তু আম্পায়ারের আঙুল না ওঠায় ক্রিজে ফিরে আসেন। তাই, ওলি স্টোনের হতাশা এবং বিরক্তি পরিষ্কারভাবে চোখে পড়ছিল, বিশেষ করে যখন তিনি এলগারকে আবার বিপদে ফেলেন এবং একটি নিশ্চিত এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত পান। অনিচ্ছা সত্ত্বেও এলগারকে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়, যা এসেক্সের জন্য ছিল এক বড় ধাক্কা।
প্যাটারসন-হোয়াইটের ধারাবাহিক সাফল্য
প্যাটারসন-হোয়াইট প্রায় ৪৫ মিনিট পর আক্রমণে আসেন, কিন্তু তার দ্বাদশ ওভারের আগে তিনি ম্যাচের সপ্তম উইকেটটি নিতে পারেননি। টম ওয়েস্টলি ৯৬ মিনিট ধরে ধৈর্য ধরে ব্যাট করার পর একটি বাঁকানো বলে তার মোটা এজ স্লিপে ক্যাচ হিসেবে জমা পড়ে। প্যাটারসন-হোয়াইট তার সেরা আট উইকেটের রেকর্ড স্পর্শ করেন যখন ম্যাট ক্রিচলি উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন।
অ্যালিসন-বেনকেনস্টাইনের প্রতিরোধ জুটি
এই পর্যায়ে সাবেক ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সতীর্থ অ্যালিসন এবং বেনকেনস্টাইন জুটি বাঁধেন, যারা ২০ ওভার ধরে নটিংহ্যামশায়ারকে আটকে রাখেন। তারা সাধারণত সতর্ক ছিলেন, কিন্তু অ্যালিসন দুবার অনিয়মিত অফস্পিনার ফ্রেডি ম্যাককানের বলে দুটি বিশাল ছক্কা মেরে তার মৌসুমের তৃতীয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন। এই জুটি আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত নটসের বোলারদের কাছে হার মানতে হয়। প্যাটারসন-হোয়াইট তার ইনিংসের তৃতীয় উইকেটটি দখল করেন যখন অ্যালিসন ভুল লাইনে ব্যাট করে এলবিডব্লিউ হন। এরপর মাইকেল পেপার লিন্ডন জেমসের বলে স্লিপে শূন্য রানে ক্যাচ দিলে এসেক্স নটিংহ্যামশায়ারকে আবার ব্যাট করতে নামানোর জন্য আরও ৯৮ রান দূরে ছিল।
শেষের দিকের দ্রুত পতন এবং ম্যাচের সমাপ্তি
বেনকেনস্টাইন এবং হারমার দ্রুত ৪০ রানের একটি জুটি গড়ে কিছুটা ঘাটতি পূরণ করেন, কিন্তু দুজনেই ও’নিলের শিকার হন, যিনি তার পরিসংখ্যানকে ৫ উইকেটে ৩৯ রানে নিয়ে যান। এই জয়ের ফলে নটিংহ্যামশায়ার পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান সুসংহত করল এবং চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে নিজেদের আরও এগিয়ে নিয়ে গেল।
এসেক্সের এখন সামনে দুই মাস সময় আছে তাদের ক্ষত সারিয়ে তোলার জন্য, তাদের পরবর্তী রেড-বল ফিক্সচার সমারসেটের বিরুদ্ধে টাউনটনে। অন্যদিকে, নটিংহ্যামশায়ার আশা করবে যে ওভালে যাওয়ার আগে তাদের এই জয়ের ধারা বজায় থাকবে এবং তারা তাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে। এই ম্যাচটি প্রমাণ করে যে নটিংহ্যামশায়ার একটি শক্তিশালী দল এবং তাদের চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের সম্ভাবনা এখনও উজ্জ্বল।