Rob Key: England Test team is not a ‘national embarrassment’
ইংল্যান্ড ক্রিকেটে নতুন বিতর্ক: রব কি-এর সাফাই
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের পর ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার বেন স্টোকস এবং গাস অ্যাটকিনসনের জড়িয়ে পড়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় চলছে। লন্ডনের চেলসির একটি নাইটক্লাবে এই ঘটনার পর থেকেই দলের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে তার দল ‘জাতীয় লজ্জিত’ হওয়ার মতো কিছু করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ইসিবির প্রতিক্রিয়া
রবিবার প্রথম টেস্ট শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় স্টোকস এবং অ্যাটকিনসনের সাথে সারাসেনস রাগবি ক্লাবের একজন খেলোয়াড় জড়িত ছিলেন, যার ফলে ইংল্যান্ড দলের নিরাপত্তা লিয়াজোঁ অফিসার জেমস শ আঘাত পান। ইসিবির পক্ষ থেকে বর্তমানে ঘটনাটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে এবং ক্রিকেট রেগুলেটরও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্টোকস এবং অ্যাটকিনসনকে আগামী ১৭ জুনের দ্বিতীয় টেস্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
দলের শৃঙ্খলা ও কার্ফিউ লঙ্ঘন
রব কি জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে যে স্টোকস বা অ্যাটকিনসন এই ঘটনার প্ররোচনাকারী ছিলেন না। তবে সমস্যাটি ঘটেছে ইসিবির নির্ধারিত মধ্যরাতের কার্ফিউ ভেঙে বাইরে থাকার কারণে। এই কার্ফিউ নিয়মটি চলতি বছরের শুরু থেকে প্রতিটি সিরিজের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। অতীতে অ্যাশেজ সিরিজের সময় অতিরিক্ত মদ্যপান ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক ঘটনার পর এই কঠোর নিয়ম প্রবর্তন করা হয়।
রব কি-এর অবস্থান
ওভালে সংবাদ সম্মেলনে রব কি বেশ হতাশ দেখালেও দলের বর্তমান অবস্থাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না তারা জাতীয় লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টোকস এবং ম্যাককালাম আমাদের অন্যতম সফল কোচ ও অধিনায়কের জুটি।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে তারা দলের পেশাদারিত্ব বাড়ানোর জন্য যে কাজ করছেন, এই ঘটনাটি তাতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অ্যালকোহল নিষেধাজ্ঞা
ঘটনার পর রব কি দলের ভেতরে শৃঙ্খলা আরও কঠোর করার চিন্তা করছেন। তিনি দলের সদস্যদের ওপর পুরোপুরি অ্যালকোহল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, খেলোয়াড়দের এখন জনসাধারণের সামনে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের ওপর আস্থা রাখা যায়।
বেন স্টোকসের ভবিষ্যৎ
বেন স্টোকসের অধিনায়কত্ব থেকে পদচ্যুতির সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও রব কি জানিয়েছেন যে, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি তদন্ত শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। স্টোকস ব্যক্তিগতভাবে বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং ইসিবি তার এবং পুরো দলের জন্য যা সেরা, সেই সিদ্ধান্তই নেবে। রব কি বলেন, ‘আমি আগ বাড়িয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্তের প্রক্রিয়াটি শেষ হতে দিন, তারপরই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
সামগ্রিকভাবে, ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য এটি একটি কঠিন সময়। একদিকে মাঠে দুর্দান্ত সাফল্য, অন্যদিকে মাঠের বাইরের এই বিতর্কিত ঘটনা দলের সংস্কৃতি নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ইসিবি এবং দলের নেতৃত্ব কীভাবে এই সংকট কাটিয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কতটা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারে।