Sanjiv Goenka rejected Rishabh Pant’s resignation as LSG captain, but a twist fo – আইপিএল ২০২৬ আপডেট
আইপিএল ২০২৬ এবং লখনউ সুপার জায়ান্টসের ব্যর্থতা
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ মৌসুমটি লখনউ সুপার জায়ান্টস (এলএসজি)-এর জন্য একটি অত্যন্ত হতাশাজনক অধ্যায় হিসেবে শেষ হয়েছে। পয়েন্ট তালিকার ১০ম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করার পর, দলের অধিনায়ক ঋষভ পন্ত অবশেষে তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার পন্তের এই পদত্যাগের খবরটি সামনে আসার পর থেকেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। তবে এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ নাটকীয়তা, যা আগে সাধারণ মানুষের আড়ালে ছিল।
আসলে, মৌসুমের শেষে এসে পন্তের এই পদত্যাগ কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এটি ছিল বেশ কিছুদিন ধরে চলা টানাপোড়েনের চূড়ান্ত পরিণতি। নতুন কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, টুর্নামেন্টের মাঝপথেই পন্ত অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা সে সময় তা মেনে নেননি।
মাঝপথেই অধিনায়কত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন পন্ত: নিখিল নাজের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ইন্ডিয়া টুডের প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক নিখিল নাজের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি প্রকাশ করেছেন যে, আইপিএল ২০২৬-এর শেষ দিকে নয়, বরং টুর্নামেন্টের মাঝপথেই ঋষভ পন্ত লখনউ দলের ম্যানেজমেন্ট এবং মালিকের কাছে গিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
নিখিল নাজ জানান, “যখন আইপিএল মৌসুমে লখনউয়ের আর মাত্র ৪-৫টি ম্যাচ বাকি ছিল, তখন ঋষভ পন্ত এলএসজি টিম ম্যানেজমেন্ট এবং মালিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি আর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান না। তবে সেই মুহূর্তে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা পন্তের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে নেননি।”
গোয়েঙ্কা পন্তকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, একটি খারাপ মৌসুম আসতেই পারে এবং এমন পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে বা আতঙ্কের বশে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তিনি পন্তকে শান্ত হতে বলেন এবং অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান।
নাটকীয় মোড় এবং চূড়ান্ত পদত্যাগ
গোয়েঙ্কার অনুরোধে পন্ত সে যাত্রায় মাঠে ফিরে যান এবং আরও কয়েকটি ম্যাচ খেলেন। কিন্তু তার মনের ভেতরের অসন্তোষ বা সিদ্ধান্ত বদলায়নি। নিখিল নাজ আরও বলেন, “কয়েকটি ম্যাচ পার হওয়ার পর পন্ত আবার মালিকপক্ষের কাছে যান এবং বলেন, ‘না, আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।’ আবারও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক তাকে থেকে যাওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। গোয়েঙ্কা তাকে বলেন, ‘আমরা আপনাকে দলের দীর্ঘমেয়াদী অধিনায়ক হিসেবে দেখছি, দয়া করে দায়িত্ব চালিয়ে যান।’ কিন্তু পন্ত তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন এবং আবারও পদত্যাগ করতে চান।”
অবশেষে, মৌসুমের একেবারে শেষ দিকে এসে পন্ত যখন দলের কোচিং স্টাফদের সাথে আলোচনা করে চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দেন যে তিনি আর কোনোভাবেই নেতৃত্ব দিতে চান না, তখন লখনউ সুপার জায়ান্টসের মালিকপক্ষ তার ইচ্ছা মেনে নিতে বাধ্য হন এবং তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।
লখনউ সুপার জায়ান্টসের ধারাবাহিক ব্যর্থতার খতিয়ান
২০২২ সালে আইপিএলে আত্মপ্রকাশের পর প্রথম দুই মৌসুমে লখনউ সুপার জায়ান্টস দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিল এবং প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকেই দলের গ্রাফ নিচের দিকে নামতে শুরু করে। ২০২৫ সালের আইপিএলে তারা সপ্তম স্থানে শেষ করার পর আশা করা হয়েছিল যে ২০২৬ সালে তারা ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।
২০২৬ মৌসুমের শুরুটা খারাপ ছিল না। প্রথম তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটি জিতে তারা ভালো ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু মৌসুমের মধ্যভাগে এসে দলের পারফরম্যান্স পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। টানা ৬টি ম্যাচ হেরে লখনউ প্লে-অফের দৌড় থেকে কার্যত ছিটকে যায়। যদিও শেষ পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে তারা দুটি সান্ত্বনাদায়ক জয় পেয়েছিল, কিন্তু তা ২০২৬ আইপিএলে প্লে-অফের দৌড় থেকে সবার আগে ছিটকে যাওয়া আটকাতে পারেনি। এর ফলে টানা তিন মৌসুম (২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬) প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হলো এলএসজি।
দামী খেলোয়াড় পন্তের অফ-ফর্ম ও পরিসংখ্যানের খতিয়ান
অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থতার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও চরম হতাশ করেছেন ঋষভ পন্ত। ২০২৫ সালের মেগা নিলামে পন্তকে বার্ষিক ২৭ কোটি টাকার রেকর্ড মূল্যে দলে নিয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস, যা তাকে আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ে পরিণত করেছিল। কিন্তু এই বিশাল মূল্যের চাপ পন্তের ব্যাটে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।
২০২৫ সালের আইপিএলে পন্ত একটি সেঞ্চুরি এবং একটি হাফ সেঞ্চুরি করলেও ১৪ ম্যাচে মাত্র ২৬৯ রান করতে সক্ষম হন। সে বছর তার গড় ছিল মাত্র ২৪ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৩। ২০২৬ সালে পন্তের পারফরম্যান্সে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও তা মোটেও তার নামের সাথে মানানসই ছিল না। এই বছর তিনি ১৪ ম্যাচে ২৮ গড়ে এবং ১৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৩১২ রান করেন, যার মধ্যে মাত্র একটি হাফ সেঞ্চুরি ছিল।
লখনউয়ের হয়ে দুই মৌসুমে পন্ত মোট ২৮টি ম্যাচ খেলে ২৬ গড়ে এবং ১৩৬ স্ট্রাইক রেটে মাত্র ৫৮১ রান করেছেন। ২০২৫ এবং ২০২৬ উভয় মৌসুমেই পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৭ জন বিশেষজ্ঞ ব্যাটারের মধ্যে পন্তের গড় সবচেয়ে কম এবং স্ট্রাইক রেট দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে ব্যাট এবং নেতৃত্ব—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।
ল্যাঙ্গার ও পুরান বহাল থাকছেন এলএসজি-তে
লখনউ সুপার জায়ান্টস দলে বড় ধরনের রদবদল হলেও দলের প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং তারকা ক্রিকেটার নিকোলাস পুরান তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আইপিএলে দলের চরম ব্যর্থতার পরেও ম্যানেজমেন্ট তাদের বরখাস্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তির খবর দলের জন্য। তবে আগামী দিনে নতুন অধিনায়কের অধীনে এলএসজি কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।