News

Shaheen Afridi on Pakistan quicks losing speed: ‘Machines deteriorate with time’ – পাকিস্তানের ফাস্ট বোলারদের গতি কমে যাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন শাহিন আফ্রিদি

Avatar photo Reyansh Bansal · · 1 min read

পাকিস্তানের বোলিং বৈভবের দিন কি শেষ?

ক্রিকেট বিশ্বে পাকিস্তান সবসময়ই পরিচিত তাদের এক্সপ্রেস গতির ফাস্ট বোলারদের জন্য। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস কিংবা শোয়েব আখতারের মতো কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হিসেবে যারা উঠে আসছিলেন, সেই বর্তমান প্রজন্মের পেসারদের গতি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে পাকিস্তানের ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

গতি কমে যাওয়ার পেছনে কারণ কী?

বাংলাদেশের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের পেসারদের গড় গতি ছিল ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটারের কোঠায়। অথচ বিপরীতে বাংলাদেশের বোলাররা ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করেছেন। এই পার্থক্যটি পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে বড় ধরণের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শাহিন আফ্রিদি এ বিষয়ে কিছুটা দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে বলেন, মেশিন যেমন সময়ের সাথে পুরোনো হয়, শরীরের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই।

আফ্রিদির মতে, শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপই গতির মূল শত্রু। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যখন খেলোয়াড়দের শরীর বিশ্রাম পায়, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই বেশি গতিতে বল করতে পারে। কিন্তু পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা সব সময় জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকে, ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে তাদের শরীরের ওপর প্রভাব পড়ে। তবে এনসিএ (ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমি) এখন এই পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শাহিন আফ্রিদির ব্যক্তিগত ফর্ম ও চ্যালেঞ্জ

২০২২ সালে হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর থেকেই শাহিন আফ্রিদির বোলিং গতিতে ভাটা পড়েছে। এক সময়ের গতির ঝড় তোলা এই পেসার এখন নিয়মিত ১৪০ কিমি গতিতে বল করতে হিমশিম খাচ্ছেন। চোটের আগের পরিসংখ্যান এবং পরের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে তার এই দুর্গতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গলে চোট পাওয়ার আগে ৯৯টি উইকেট পেয়েছিলেন ২৪.৮৬ গড়ে, কিন্তু চোটের পর থেকে তার বোলিংয়ের কার্যকারিতা আগের মতো নেই। বাংলাদেশ সিরিজেও তাকে দলের বাইরে রাখা হয়েছিল, যা তার ক্যারিয়ারের জন্য এক বড় ধাক্কা ছিল।

রিজওয়ানের বাদ পড়া নিয়ে গুঞ্জন

পাকিস্তানের ওয়ানডে দল থেকে মোহাম্মদ রিজওয়ানের বাদ পড়া নিয়েও অনেক আলোচনা হচ্ছে। ৮৯১ রান করা সত্ত্বেও রিজওয়ানের জায়গা না পাওয়াটা ক্রিকেট ভক্তদের অবাক করেছে। তবে শাহিন আফ্রিদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রিজওয়ানের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়নি। বরং ১৬ মাস পরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই রদবদল।

  • নতুনদের ঝালাই করা: এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের জন্য একটি বড় পুল তৈরি করা।
  • বিশ্রাম ও সুযোগ: অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞ করে তোলা।
  • অধিনায়কের বার্তা: শাহিন মনে করেন বাবর ও তার নিজের মতো করে রিজওয়ানও আবার ফিরে আসতে পারেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: এনসিএর ভূমিকা

পাকিস্তানের ফাস্ট বোলারদের গতি ফিরিয়ে আনতে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমি এবং কোচিং স্টাফরা বিশেষ লোড ম্যানেজমেন্টের ওপর জোর দিচ্ছেন। টেস্ট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে বোলারদের ভাগ করে খেলানো হচ্ছে যাতে তারা সতেজ থাকতে পারেন। শাহিন আফ্রিদি জানান, দলের প্রতিটি বোলারই সচেতন যে কীভাবে তাদের বোলিং গতি বাড়ানো যায়। বাংলাদেশের নাহিদ রানার মতো তরুণরা যেভাবে গতিময় বোলিং করছেন, তাকে পাকিস্তানের বোলারদের প্রেরণা হিসেবে দেখছেন আফ্রিদি।

সামগ্রিকভাবে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘পেসবল’ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য এখন নতুন কৌশলে এগোচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হয়, তা দেখার জন্য ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে আসন্ন সিরিজগুলোতে। লাহোরে ২ এবং ৪ জুনের ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে নতুনদের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে পাকিস্তানের পরবর্তী বোলিং লাইনআপ কেমন হতে যাচ্ছে।

ক্রিকেটীয় উৎকর্ষতা বজায় রাখা এবং তরুণ প্রতিভার সঠিক পরিচর্যাই এখন পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য। শাহিন আফ্রিদির এই বিশ্লেষণ হয়তো অনেক সমালোচনার জবাব দেবে, তবে দিনশেষে মাঠে গতির লড়াইয়ে জয়ী হওয়াই হবে মূল লক্ষ্য।

Share
Avatar photo
Reyansh Bansal

Reyansh Bansal covers Indian cricket, international tournaments, and player performance trends. His reporting emphasizes factual accuracy and statistical depth.