“Win the trophy”: Vaibhav Sooryavanshi throws challenge to Virat Kohli and RCB a – আইপিএল ২০২৬: বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ড গড়া ইনিংসে হায়দরাবাদ বিদায়, ট্রফি জয়ের হুঙ্কার রাজস্থানের
এলিমিনেটরে বৈভব সূর্যবংশীর তাণ্ডব: রাজস্থান রয়্যালসের দাপুটে জয়
আইপিএল ২০২৬-এর ৭১তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ম্যাচটি ছিল টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর, যেখানে হারলেই বিদায় আর জিতলে ফাইনালে যাওয়ার আশা বেঁচে থাকবে। এমন এক অগ্নিগর্ভ ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালালেন তরুণ সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর ছক্কার বৃষ্টিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে হায়দরাবাদের বোলাররা। শেষ পর্যন্ত রাজস্থান ৪৭ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় এবং অরেঞ্জ আর্মিকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেয়। এখন কোয়ালিফায়ার ২-এ গুজরাট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে রাজস্থান রয়্যালস।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম রাজস্থান রয়্যালস: ম্যাচের বিবরণ
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। হায়দরাবাদ দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়, যেখানে প্রফুল্ল হিঙ্গেকে দলে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালস তাদের একাদশে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজাকে যুক্ত করে শক্তি বাড়ায়।
রেকর্ড ভাঙা ইনিংস বৈভবের
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনিং জুটি দুর্দান্ত শুরু করে। পাওয়ারপ্লে-তেই বিনা উইকেটে ৮০ রান তুলে নেয় তারা। বৈভব সূর্যবংশী এদিন শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। মাত্র ২৯ বলে তিনি খেলেন ৯৭ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস। মাত্র ৩ রানের জন্য আইপিএল ইতিহাসের দ্রুততম শতরান করার রেকর্ড হাতছাড়া করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ১২টি বিশাল ছক্কা। এই ম্যাচে ১২টি ছক্কা মারার পাশাপাশি এক মরশুমে সর্বোচ্চ ৬৫টি ছক্কা মারার এক নতুন রেকর্ড গড়েন বৈভব, যা আইপিএলের যেকোনো একক সংস্করণে সর্বোচ্চ।
বৈভবকে যোগ্য সংগত দেন ওপেনিং সঙ্গী যশস্বী জয়সওয়াল এবং মিডল অর্ডারে ধ্রুব জুরেল। জয়সওয়াল করেন ২৯ রান এবং জুরেল খেলেন ৫০ রানের একটি দারুণ ইনিংস। অধিনায়ক রিয়ান পরাগের ২৬ রানের ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংসের ওপর ভর করে রাজস্থান রয়্যালস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করে।
হায়দরাবাদের রান তাড়া ও ব্যাটিং বিপর্যয়
২৪৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দুই বিধ্বংসী ওপেনার ট্রাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মা দলকে ভালো শুরু দিতে পারেননি। অভিষেক শর্মা খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন এবং ট্রাভিস হেড মাত্র ১৭ রান করে আউট হন। এরপর ইশান কিষাণ কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন এবং ৩৩ রান করেন। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর ফলে ১০ ওভারের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে হায়দরাবাদ।
এরপর নীতিশ কুমার রেড্ডি এবং সলিল অরোরা দলের হাল ধরেন। তাঁদের মধ্যে ৫৬ রানের একটি জুটি গড়ে ওঠে। তবে নীতিশ ৩৮ রান এবং সলিল ২৫ রান করে আউট হলে হায়দরাবাদের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে শিবাঙ্গ কুমারের ২৭ রানের লড়াকু ইনিংস পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমায় মাত্র। শেষ পর্যন্ত ১৯৬ রানে অলআউট হয়ে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। রাজস্থান রয়্যালস ৪৭ রানে জয়লাভ করে পরবর্তী রাউন্ডে চলে যায়।
ম্যাচ সেরা বৈভবের বড় হুঙ্কার: লক্ষ্য এবার ট্রফি
নিজের অসাধারণ ব্যাটিং পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এখন পর্যন্ত ৬৮০ রান নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক (অরেঞ্জ ক্যাপ হোল্ডার)। চলতি মরশুমে তিনি পাঁচটি অর্ধশতরান এবং একটি শতরান করেছেন। এটি ছিল তাঁর চলতি মরশুমে তৃতীয়বারের মতো ম্যাচ সেরার (POTM) পুরস্কার জয়, যার মাধ্যমে তিনি ইশান কিষাণ এবং সঞ্জু স্যামসনের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ম্যাচ সেরা হওয়ার তালিকায় নাম লেখালেন।
পুরস্কার নেওয়ার পর বৈভবের কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি এই সাফল্য কীভাবে উদযাপন করেন। জবাবে বৈভব অত্যন্ত পরিপক্কতার সাথে বলেন, “যখন আমরা জিতি, আমরা শুধু ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখি এবং পরের ম্যাচের দিকে মনোনিবেশ করি।”
আগামী ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “আমি একটু চিন্তাভাবনা করি, তবে খুব বেশি নয়। আমি শুধু বর্তমান ম্যাচটিতে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি এবং অতিরিক্ত চিন্তা করি না। যদি মনে হয় কোনো জায়গায় খামতি আছে, তবে তা নিয়ে কাজ করি।”
ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি জানান, “আমি শুধু বিরোধী দলের বোলারদের নিয়ে ভাবি, এই উইকেটে তাদের কীভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং বাউন্ডারি কতটা বড়, এসব সাধারণ বিষয় নিয়ে ভাবি। আমি সবসময় ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার চেষ্টা করি। যখন আমি ইতিবাচক খেলি, তখন বোলাররা চাপে পড়ে যায়।”
আউট হওয়ার বলটি এবং সেঞ্চুরির রেকর্ড নিয়ে বৈভব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত মাইলফলক তাঁর কাছে দ্বিতীয় বিষয়। তিনি বলেন, “আমি আউট হওয়ার পরই রেকর্ডটির কথা জানতে পেরেছিলাম। সেই সময় আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল দলের জন্য অবদান রাখা। কারণ শতরান তো আসতেই থাকবে, কিন্তু এই মুহূর্তে আসল লক্ষ্য হলো কীভাবে ট্রফি জেতা যায়। আমাদের লক্ষ্য এবার ফাইনাল এবং সেখানে ট্রফি জয়।” তাঁর এই ট্রফি জয়ের আত্মবিশ্বাসী মনোভাব সরাসরি বিরাট কোহলি এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)-র মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। রাজস্থান রয়্যালস এখন ট্রফির দাবিদার হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
কোয়ালিফায়ার ২-এ গুজরাট টাইটান্সের মুখোমুখি রাজস্থান
রাজস্থান রয়্যালস এখন তাদের শিরোপা স্বপ্নের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে গেছে। আগামী ২৯শে মে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:৩0 মিনিটে আহমেদাবাদে কোয়ালিফায়ার ২-এ গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তারা। বৈভবের এই বিধ্বংসী ফর্ম ধরে রাখতে পারলে রাজস্থানকে রোখা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন হবে।