“Cleared easily”: Vaibhav Sooryavanshi left heartbroken after falling short of C – আইপিএল এলিমিনেটরে বিধ্বংসী বৈভব সূর্যবংশী: গেইলের রেকর্ড ভেঙেও আক্ষেপ
আইপিএল ২০২৬: বৈভব সূর্যবংশীর ঝড়ে দিশেহারা সানরাইজার্স
চণ্ডীগড়ের মহারাজা যাদবিন্দ্র সিং পিসিএ স্টেডিয়ামে আইপিএল ২০২৬-এর এলিমিনেটর ম্যাচে যেন এক বিধ্বংসী ঝড়ের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। রাজস্থান রয়্যালসের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী যেভাবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বোলারদের পিটিয়ে মাঠের চারপাশ থেকে ছক্কা হাঁকালেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। প্যাট কামিন্সের আমন্ত্রণে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালস যে এমন এক পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করাবে, তা হয়তো হায়দ্রাবাদ শিবির ভাবতেও পারেনি।
রেকর্ডের পাতায় বৈভব সূর্যবংশী
বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। তার এই ইনিংসে ছিল ১২টি ছক্কা এবং ৪টি চার। এই ইনিংসের মাধ্যমেই তিনি আইপিএলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করলেন। বিশেষ করে, এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর ক্ষেত্রে তিনি কিংবদন্তি ক্রিস গেইলকে টপকে গেছেন। ২০১২ সালে গেইল ১৪ ইনিংসে ৫৯টি ছক্কা মেরেছিলেন, সেখানে বৈভব ১৫ ইনিংসে হাঁকালেন ৬৫টি ছক্কা।
- ম্যাচ সেরা ইনিংস: ২৯ বলে ৯৭ রান।
- এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা (ভারতীয়): ১২টি।
- সেরা মাইলফলক: ১৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা।
এছাড়াও আইপিএলের ইতিহাসে কোনো আনক্যাপড ব্যাটার হিসেবে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৬৮০ রান সংগ্রহ করে অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। গেইলের ১০+ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডটিও তিনি স্পর্শ করেছেন ৪ বার।
আক্ষেপের সেঞ্চুরি ও খেলার মানসিকতা
ম্যাচের বিরতিতে বৈভব সূর্যবংশী তার ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও মাত্র ৩ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে তাকে। নিজের ভুল সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘আমি আসলে সেঞ্চুরির কথা সেভাবে মাথায় আনিনি। শেষ শটটি খেলার সময় ফিল্ডারের দিকে নজর ছিল, তাই টাইমিংয়ে ভুল হয়েছে। যদি থার্ড ম্যানের দিকে খেলতাম, তবে অনায়াসেই বাউন্ডারি পার হতো। আমি সোজা ব্যাটে মারতে গিয়েই মিস করেছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ২৪৩ রানের সংগ্রহটি তার দৃষ্টিতে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। তার মতে, পিচ এবং পরিস্থিতির বিচারে এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব ছিল এবং বোলারদের ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল তার।
ম্যাচের সামগ্রিক চিত্র
রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে যশস্বী জয়সওয়াল ২৯ রান, ধ্রুব জুরেল ২১ বলে ৫০ রান এবং অধিনায়ক রিয়ান পরাগ ১১ বলে ২৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ফলে ২০ ওভারে রাজস্থান ৮ উইকেটে ২৪৩ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। হায়দ্রাবাদের হয়ে প্রফুল হিঙ্গে ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। অভিষেক শর্মা রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। ইশান কিষাণ ৩৩ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। ট্র্যাভিস হেডও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। মাত্র ৯৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ১০ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় সানরাইজার্স। ২৪৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করা যে এই পরিস্থিতিতে এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য।
তরুণ এই ব্যাটারের এমন পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, আইপিএলের ভবিষ্যৎ এখন নিরাপদ হাতে। বৈভব সূর্যবংশীর এই বিধ্বংসী ফর্ম রাজস্থান রয়্যালসকে ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন তার পরবর্তী ইনিংসের দিকে।