Virat Kohli’s childhood coach breaks silence on arrogance claims ahead of IPL 2026
মাঠের বাইরের বিরাট কোহলি: কোচের চোখে এক বিনয়ী যোদ্ধা
ক্রিকেট মাঠে বিরাট কোহলি মানেই আগ্রাসন, তীব্র উদযাপন এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ে নামার অদম্য জেদ। কিন্তু এই আগ্রাসী রূপ কি আসলেই তার আসল চরিত্র? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের কোচ রাজকুমার শর্মা। আসন্ন আইপিএল ২০২৬ ফাইনালের আগে, Virat Kohli‘s childhood coach breaks silence on arrogance claims ahead of IPL 2026 শিরোনামে তিনি বিরাটের ব্যক্তিত্ব নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।
অহংকার নাকি আগ্রাসন? ভুল ভাঙালেন রাজকুমার শর্মা
রাজকুমার শর্মা, যিনি বিরাটের সেই ছোটবেলা থেকে তাকে গড়ে তুলেছেন, তিনি মনে করেন বিরাটের অন-ফিল্ড আচরণকে সাধারণ মানুষ প্রায়শই ভুল বোঝে। অনেকে তার এই মানসিকতাকে ‘অহংকার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রেভস্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোচ বলেন, “বিরাট অত্যন্ত বিনয়ী একজন মানুষ। যারা তাকে খুব কাছ থেকে চেনে, তারা জানে সে কতটা নম্র এবং শ্রদ্ধাশীল। আমার কাছে সে এখনো সেই ৯ বছরের শিশুটিই আছে, যে প্রথম আমার কাছে ক্রিকেট শিখতে এসেছিল।”
বিশ্বসেরা হওয়ার পরেও অটুট সম্পর্ক
বিরাট কোহলি আজ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা। তবুও তার শিকড় ভোলার কোনো লক্ষণ নেই। রাজকুমার শর্মা জানান, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার অংশুমান গায়কোয়াড়ও তাদের এই গভীর সম্পর্কের কথা জেনে অবাক হয়েছিলেন। অংশুমান গায়কোয়াড় একবার বলেছিলেন, ভারতীয় ক্রিকেটের এত দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তিনি এমন গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক আগে দেখেননি। বিরাটের প্রতিটি ম্যাচ রাজকুমার দেখেন এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই বিরাটের ফোন আসে—এই সম্পর্কটি আজও একই রকম অটুট রয়েছে।
আইপিএল ২০২৬-এ বিরাটের দাপট
মাঠের বাইরের আলোচনার পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে দেখা যায়, আইপিএল ২০২৬ মরশুমে বিরাট কোহলি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। আরসিবি-র হয়ে ১৫ ইনিংসে ৫০ গড়ে ৬০০ রান করেছেন এই অভিজ্ঞ ওপেনার। ১৬৪.৩৮ স্ট্রাইক রেটে খেলা বিরাট চারটি হাফ-সেঞ্চুরির পাশাপাশি কেকেআর-এর বিরুদ্ধে একটি অপরাজিত শতরানও উপহার দিয়েছেন। বিরাটের এই রান করার খিদে এবং দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা দিয়ে ক্রিকেট খেলেন।
কেন মানুষ ভুল বোঝে?
ভারতীয় ক্রিকেটে এক সময় একটি শান্তশিষ্ট রীতির প্রচলন ছিল। কিন্তু কোহলি সেই ধারার বিপরীতে গিয়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করতে ভয় পাননি। তার এই আবেগই তাকে মোটিভেট করে এবং দলের জয়ের জন্য বাড়তি এনার্জি জোগায়। রাজকুমার শর্মার মতে, এই অকৃত্রিম আবেগের বহিঃপ্রকাশই অনেক সময় বাইরের দর্শকদের কাছে অহংকারের মতো মনে হয়, কিন্তু বিরাটের সাহচর্য পাওয়া ব্যক্তিরা জানেন সে কতটা স্নেহশীল।
উপসংহার
একজন কোচ হিসেবে রাজকুমার শর্মা গর্বিত যে, বিশ্ব ক্রিকেটের এত উচ্চতায় পৌঁছেও বিরাট তার স্বভাব পরিবর্তন করেননি। তার এই বিনয় এবং সম্মান দেওয়ার সংস্কৃতিই তাকে কেবল একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও অনন্য করে তুলেছে। আইপিএল ২০২৬ ফাইনালের আগে এই ধরনের মন্তব্য বিরাটের সমালোচকদের জন্য একটি বড় জবাব হতে পারে। বিরাট কোহলি কেবল মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, নিজের ব্যক্তিত্বের স্বচ্ছতার মাধ্যমেও প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে চিনিয়ে দিচ্ছেন।