Wharton leads recovery as Yorkshire knock Durham off their perch – ভাইটালিটি ব্লাস্ট: ডারহামকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ইয়র্কশায়ার
ভাইটালিটি ব্লাস্টে ইয়র্কশায়ারের দাপুটে জয়
ভাইটালিটি ব্লাস্টের চলতি মৌসুমে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে ইয়র্কশায়ার। ব্যাংকস হোম রিভারসাইডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তারা ৫৮ রানে হারিয়েছে ডারহামকে। এই জয়ের ফলে নর্থ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় ডারহামকে টপকে শীর্ষে উঠে এসেছে ইয়র্কশায়ার। ১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডারহাম মাত্র ৯৩ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
ম্যাচের শুরু ও ইয়র্কশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয়
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা ইয়র্কশায়ারের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। ম্যাথু পটস এবং ক্যালাম পারকিনসনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৯ রানের মাথায় ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইয়র্কশায়ার। অ্যাডাম লিথ এবং উইল লাক্সটন দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। তবে এরপর দলের হাল ধরেন জেমস হোয়ার্টন এবং জনি বেয়ারস্টো।
পিচটি কিছুটা ধীরগতির থাকায় রান তোলা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে ধৈর্য ধরে খেলে হোয়ার্টন এবং বেয়ারস্টো জুটি দলকে এগিয়ে নেন। জনি বেয়ারস্টো ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল নাথান সোটারের বলে টানা দুটি ছক্কা। অন্যদিকে জেমস হোয়ার্টন ৪১ বলে ৬৪ রানের এক অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন। তার এই ব্যাটিংই ইয়র্কশায়ারকে ১৫১ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে। ডারহামের হয়ে ম্যাথু পটস এবং ক্যাসি অলড্রিজ প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন।
ডারহামের ব্যাটিং ধস ও স্পিনারদের আধিপত্য
১৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ডারহামের ব্যাটিং লাইনআপ ইয়র্কশায়ারের বোলারদের সামনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। হাসান আলী এবং ফাহিম আশরাফের তোপে শুরুতেই দুই ওপেনার গ্রায়েম ক্লার্ক এবং অ্যালেক্স লিস সাজঘরে ফেরেন। ১০ রানের মাথায় ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ডারহাম আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
মইন আলী, ডম বেস এবং জাফর চোহানের ঘূর্ণি জাদুতে ডারহামের ব্যাটাররা একে একে ব্যর্থ হয়েছেন। ডেভিড বেডিংহাম কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন, তার ব্যাট থেকে আসে দলের সর্বোচ্চ ৪১ রান। তবে মইন আলীর বলে রিভিসের দুর্দান্ত ক্যাচে বেডিংহামের বিদায়ের পর ডারহামের পরাজয় ছিল সময়ের ব্যাপার।
স্পিন ট্র্যাপে কুপোকাত ডারহাম
ম্যাচটি যে পুরোপুরি স্পিনারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তা ডারহামের ইনিংস দেখলেই বোঝা যায়। মাত্র ৯৩ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। হাসান আলী, মইন আলী এবং ডম বেস প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। মাঠের ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ে ইয়র্কশায়ারের শৃঙ্খলা ডারহামের ব্যাটারদের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্ন। বিশেষ করে ১১তম ওভারের পর ডারহামের ব্যাটিং লাইনআপ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। মাত্র ৭০ রানেই তাদের ৬টি উইকেট পড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১৭তম ওভারের আগেই ডারহাম ৯৩ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
পয়েন্ট টেবিলে বড় পরিবর্তন
এই জয়ের ফলে ইয়র্কশায়ার নর্থ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করে নিল। অন্যদিকে, টানা তিন জয়ের পর এটিই ছিল ডারহামের প্রথম পরাজয়। ইয়র্কশায়ারের এই জয়টি তাদের দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বোলিং এবং ব্যাটিং—উভয় বিভাগেই তারা যে দক্ষতা দেখিয়েছে, তা তাদের টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ইয়র্কশায়ার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে বর্তমান ফর্ম বলছে, তারা এখন দারুণ ছন্দে আছে এবং প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।