News

Edwards: Sciver-Brunt’s return will make competition for places ‘even more excit – ইংল্যান্ডের স্কোয়াড বিশ্লেষণ

Avatar photo Vikram Desai · · 1 min read

ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ শার্লট এডওয়ার্ডস আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দলের বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। দলের তারকা অলরাউন্ডার নাট সিভার-ব্রান্ট ইনজুরি কাটিয়ে প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এডওয়ার্ডস মনে করেন, সিভার-ব্রান্টের এই আগমন দলের ভেতরের লড়াইকে আরও বাড়িয়ে দেবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, Edwards: Sciver-Brunt’s return will make competition for places ‘even more excit। ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর দলের এই অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ইংল্যান্ড শিবিরকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে।

সিভার-ব্রান্টের প্রত্যাবর্তন এবং ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট

নাট সিভার-ব্রান্ট গত এপ্রিলের ২৯ তারিখে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সময় পায়ের পেশিতে (calf) চোট পেয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে রয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে তিনি আর ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামেননি। তবে আগামী ১২ জুন বার্মিংহামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী কোচ শার্লট এডওয়ার্ডস।

বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে ইংল্যান্ড দল কার্ডিফে আগামী ৮ জুন অস্ট্রেলিয়া এবং ১০ জুন ভারতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেই সিভার-ব্রান্টকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। তবে বিশ্বকাপে তাকে হয়তো অলরাউন্ডার হিসেবে নয়, বরং একজন খাঁটি ব্যাটার হিসেবে খেলতে দেখা যাবে। এডওয়ার্ডস বলেন, “সে এই সপ্তাহে এবং শনিবারে ভালো অনুশীলন করেছে, রানিং সেশনও সম্পন্ন করেছে। আশা করছি প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচেই সে মাঠে নামবে। তবে বিশ্বকাপে সম্ভবত সে বোলিং করবে না, কেবল ব্যাটিং ভূমিকাতেই থাকবে। আর এই কারণেই আমরা দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছি। ফ্রেয়া কেম্প আজ রাতে বোলিং করেননি, যা আগামী সপ্তাহের জন্য সত্যিই ইতিবাচক।”

ভারতের বিপক্ষে ‘নিখুঁত’ জয় ও সিরিজের অভিজ্ঞতা

ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করেছে ইংল্যান্ড। টনটনে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পায় ইংলিশ মেয়েরা। ১৮১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে এই জয়টি ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের যৌথ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং নিজেদের মাটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এই জয়কে ‘নিখুঁত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কোচ এডওয়ার্ডস।

সিভার-ব্রান্টের অনুপস্থিতিতেও ইংল্যান্ড দল নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের বিপক্ষে ব্যাক-টু-ব্যাক টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে। দলের নিয়মিত সেরা তারকাকে ছাড়া এই জয়গুলো প্রমাণ করে যে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং গভীরতা কতটা শক্তিশালী। দলের একাধিক ব্যাটার নতুন ও অপরিচিত পজিশনে নেমে নিজেদের প্রমাণ করেছেন, যা বিশ্বকাপের আগে টিম ম্যানেজমেন্টের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্যাপসি ও নাইট জুটির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে দুর্দান্ত ৭৪ রান করেছিলেন অ্যালিস ক্যাপসি। তবে ভারতের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি নিজের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। মাত্র ৪৩ বলে অপরাজিত ৮২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ২০২২ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ক্যাপসি ইতিমধ্যেই ৫১টি টি-টোয়েন্টি এবং ৩৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। তার এই পরিণত ব্যাটিং কোচকে মুগ্ধ করেছে। এডওয়ার্ডস বলেন, “সে যে অবস্থানে থেকে ম্যাচে এসেছিল (৩৮ রানে ৩ উইকেট), সেখান থেকে যেভাবে সে ব্যাটিং করেছে, তাতে আমি সত্যিই গর্বিত।”

ক্যাপসির সাথে চতুর্থ উইকেটে ১৩৭ রানের এক অনবদ্য পার্টনারশিপ গড়েন অধিনায়ক হেদার নাইট। নাইট নিজে ৪২ বলে অপরাজিত ৭০ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। গত বছরের মে মাসের পর এটিই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার প্রথম হাফ সেঞ্চুরি, যা তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর গত বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের শেষ দিকে তিনি দলে ফিরেছিলেন। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী এই ইনিংসটি তার ফর্মে ফেরার বড় প্রমাণ। এছাড়া এই সিরিজের মাধ্যমেই হেদার নাইট শার্লট এডওয়ার্ডসকে ছাড়িয়ে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। কোচের মতে, অনেকে তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিলেও তিনি জানতেন নাইট ঠিকই এমন পারফরম্যান্স করবেন।

দল নির্বাচন নিয়ে মধুর সমস্যা ও সুস্থ প্রতিযোগিতা

ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারে এখন একাধিক বিকল্প রয়েছে, যা নির্বাচকদের জন্য এক মধুর সমস্যা তৈরি করেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে দলে ফেরা ড্যানি ওয়াট-হজ দুই ইনিংসে যথাক্রমে ২৯ ও ৫ রান করেছেন। অন্যদিকে সোফিয়া ডাঙ্কলিকে পুরো গ্রীষ্মজুড়েই কিছুটা অফ-ফর্মে দেখা গেছে। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে অ্যামি জোন্স ৬৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। এছাড়া অলরাউন্ডার ফ্রেয়া কেম্প ব্রিস্টলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পাশাপাশি ১৫ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। এই সবকিছুই আগামী দশ দিনের জন্য এডওয়ার্ডসকে অনেক কিছু ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে।

টপ অর্ডারের এই বৈচিত্র্য নিয়ে এডওয়ার্ডস বলেন, “এগুলো খুবই ইতিবাচক সমস্যা। আমাদের দলের খেলোয়াড়রা বর্তমানে দারুণ ফর্মে রয়েছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, দলের সেরা ছয় ব্যাটারের যেকোনো পজিশনে ব্যাট করার যোগ্যতা থাকা উচিত। আমাদের মেয়েরা ঠিক সেটাই করে দেখাচ্ছে। আমরা ব্যাটিং অর্ডারে এই নমনীয়তা এবং বৈচিত্র্যই চেয়েছিলাম।”

দলের জায়গা ধরে রাখার জন্য খেলোয়াড়দের এই সুস্থ লড়াইকে স্বাগত জানিয়েছেন কোচ। ডাঙ্কলির অফ-ফর্ম নিয়ে তৈরি হওয়া চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দলে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিলাম যেখানে পারফর্ম করার তাগিদ থাকবে, কিন্তু তা যেন খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েরা জানে যে দলে টিকে থাকতে হলে ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স করতে হবে। বিশ্বকাপের আগে এই ধরনের চাপ ইতিবাচক পারফরম্যান্স বের করে আনতে সাহায্য করে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত সন্তোষজনক।”

Share
Avatar photo
Vikram Desai

Vikram Desai writes extensively about cricket history, legendary players, and record-breaking performances. He has spent years researching domestic and international cricket archives across multiple eras.