Report

ফ্লাডলাইটের নাটকীয় রাতে “Dickson helps Glamorgan past old side Somerset on night of floodlight drama” শিরোনামে গ্ল্যামারগনের দুর্দান্ত জয়

Avatar photo Reyansh Bansal · · 1 min read

ক্রিকেট মাঠে রোমাঞ্চকর এক রাত! ভাইটালিটি ব্লাস্টের ম্যাচে কুপার অ্যাসোসিয়েটস গ্রাউন্ড, টনটনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সমারসেটকে শেষ বলের থ্রিলারে চার উইকেটে হারিয়েছে গ্ল্যামারগন। এই জয়ের ফলে সমারসেটের বিরুদ্ধে ভাইটালিটি ব্লাস্টে দ্বিগুণ জয় নিশ্চিত করলো গ্ল্যামারগন। ফ্লাডলাইটের নাটকীয়তা এবং শন ডিকসনের অসাধারণ ইনিংস এই ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রেখেছে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে সমারসেট নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০২ রানের বিশাল স্কোর গড়েছিল। জবাবে, গ্ল্যামারগন ১৯.২ ওভারে ১৯৪ রান তোলার পর ফ্লাডলাইট বিভ্রাটের কারণে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে জিমি নিশামের শেষ বলে বাউন্ডারিতে ভর করে জয় তুলে নেয় গ্ল্যামারগন।

সমারসেটের ইনিংস: গ্রেগরি ও অ্যাবেলের দৃঢ়তা

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সমারসেটের শুরুটা হয়েছিল বেশ আক্রমণাত্মক। ওপেনার টম ব্যান্টন এবং জশ থমাস দ্রুত গতিতে রান তোলেন। ব্যান্টন তার সংক্ষিপ্ত ইনিংসে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা মেরে ৩৯ রান করে যখন ডিপ স্কোয়ারে সাবেক সতীর্থ নেড লিওনার্ডের বলে ক্যাচ আউট হন, তখন দলের স্কোরবোর্ডে অর্ধশত রান পার করে গিয়েছিল। এর পর লিওনার্ড তার তিন ওভারে ৫০ রান খরচ করেন, যা গ্ল্যামারগনের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। পাওয়ারপ্লে শেষে টমাসের ১৮ রানে আউট হওয়ার পর বেন কেলওয়ের বলে সমারসেটের স্কোর দাঁড়ায় ৬০। দ্রুত উইকেট হারানোর ফলে ৮৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল সমারসেট। জর্ডান হারম্যান রান আউট হন এবং টমাস রি ২ রান করে ড্যান ডাউটওয়েটের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

এই কঠিন মুহূর্তে অধিনায়ক লুইস গ্রেগরি এবং টম অ্যাবেল দলের হাল ধরেন। এই জুটি পঞ্চম উইকেটে ৯০ রানের এক অসাধারণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলে, যা সমারসেটকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যায়। গ্রেগরি মাত্র ২৮ বলে ৫৪ রানের একটি বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকান এবং মাত্র ২৪ বলে নিজের অর্ধশত রান পূর্ণ করেন। অ্যাবেলও তার সাথে যোগ্য সঙ্গ দেন, ৪১ রান করে তিনি ডাউটওয়েটের বলে ডিপ স্কোয়ারে ধরা পড়েন। গ্রেগরির দ্রুত রান আউটের পর ড্যানিয়েল স্যামস মাত্র ১২ বলে ২৪ রান করে সমারসেটকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করতে সাহায্য করেন, যা প্রতিপক্ষের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তৈরি করে। গ্ল্যামারগনের পক্ষে ড্যান ডাউটওয়েট ৩৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন।

গ্ল্যামারগনের রোমাঞ্চকর তাড়া: ডিকসন ও ফ্লাডলাইটের নাটক

২০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গ্ল্যামারগনের ইনিংসের শুরুটা হয়েছিল দ্রুত। কিরণ কার্লসন প্রথম ওভারেই ক্রেইগ ওভারটনের বলে একটি ছক্কা হাঁকান এবং দ্বিতীয় ওভারে জশ শ-এর বলেও আরেকটি ছক্কা মেরে দলের রান গতি বাড়ান। তবে এই দ্রুতগতির শুরুর পরেই তাদের ইনিংসে একটি অপ্রত্যাশিত বাধা আসে – ফ্লাডলাইট বিভ্রাট। মাঠের একটি ফ্লাডলাইট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। উভয় অধিনায়কের সাথে আলোচনার পর আম্পায়াররা একটি ফ্লাডলাইট বন্ধ রেখেই খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

খেলোয়াড়দের বিরতির পর কার্লসন ২৯ রানে থাকাকালীন স্যামসের প্রথম বলেই রি-এর হাতে মিডউইকেটে ক্যাচ আউট হওয়ার সুযোগ পান, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রি ক্যাচটি ফেলে দেন। তবে পরের বলেই তিনি লং-অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর কেলওয়ে দ্রুত জেইক বলের বলে আউট হন এবং উইল স্মেল ২২ রান করে ওভারটনের বলে এলবিডব্লিউ হন। ওভারটন পাওয়ারপ্লে শেষ করেন একটি উইকেট মেইডেন ওভার দিয়ে, যা গ্ল্যামারগনকে ৫৫ রানে ৩ উইকেটে ফেলে দেয়। এই পরিস্থিতিতে গ্ল্যামারগন কিছুটা চাপে পড়েছিল, কিন্তু তাদের জয়ের আশা তখনও বেঁচে ছিল।

শন ডিকসনের ম্যাচ জেতানো ইনিংস

গ্ল্যামারগনের ইনিংসে আসল মোড় আসে যখন শন ডিকসন মাঠে আসেন। ১৪ রানে থাকাকালীন তিনি গ্রেগরির বলে থার্ড-ম্যানে বলের হাতে জীবন পান, যা সমারসেটের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়। ডিকসন এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন এবং দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। তিনি প্রথমে শ-এর বলে, তারপর লুইস গোল্ডসওয়ার্থির বলে এবং স্যামসের বলে আরেকটি ছক্কা মেরে মাত্র ৩৩ বলে তার দুর্দান্ত অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তার এই ইনিংস গ্ল্যামারগনকে ম্যাচ জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যায়।

যদিও স্যামস একটি স্লোয়ার বলের মাধ্যমে ডিকসনের ৬৩ রানের ইনিংসের অবসান ঘটান, তখন দলের স্কোর ছিল ১৫ ওভারে ১৪৪ রান এবং হাতে ছিল ৪ উইকেট। তবে ডিকসনের বিদায়ের পর আসা ট্রাইব দুর্দান্ত ব্যাট করতে থাকেন। ২৬ রানে থাকাকালীন তিনি বলের ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে দ্রুত রান বাড়াতে থাকেন। তবে শ-এর একটি ফুল টসে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ আউট হয়ে তিনি ৪৮ রানে বিদায় নেন।

শেষ বলের নাটকীয়তা ও গ্ল্যামারগনের জয়

ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের জন্য গ্ল্যামারগনের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান, এবং বল করছিলেন জেইক বল। ড্যান ডাউটওয়েট ওভারের দ্বিতীয় বলে একটি বিশাল ছক্কা মেরে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন। কিন্তু ফ্লাডলাইট আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরও একবার নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। ফ্লাডলাইট ঠিক হওয়ার পর খেলা পুনরায় শুরু হলে ডাউটওয়েট লং-অনে ক্যাচ আউট হন, যার ফলে জয়ের চাপ আরও বাড়ে। তবে জিমি নিশাম, যিনি এই ম্যাচের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন, শেষ বলে লেগ সাইড দিয়ে একটি বাউন্ডারি মেরে গ্ল্যামারগনকে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।

এই জয় শুধু গ্ল্যামারগনের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং ভাইটালিটি ব্লাস্টে তাদের প্রতিপক্ষ সমারসেটের বিরুদ্ধে একটি অসাধারণ দ্বিগুণ জয়ও নিশ্চিত করেছে। শন ডিকসন তার পুরনো দলের বিরুদ্ধে যেভাবে পারফর্ম করলেন, তা নিঃসন্দেহে ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স ছিল। ফ্লাডলাইটের বিভ্রাট এবং শেষ বলের নাটকীয়তা এই ম্যাচটিকে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘস্থায়ী করে রাখবে।

Share
Avatar photo
Reyansh Bansal

Reyansh Bansal covers Indian cricket, international tournaments, and player performance trends. His reporting emphasizes factual accuracy and statistical depth.