জর্জ লিন্ডে নায়ক: নটস লো-স্কোরার ম্যাচে বিয়ার্সকে আটকে দিল – George Linde the hero as Notts hold off Bears in low-scorer
ক্রিকেট প্রেমীরা ভাইটালিটি ব্লাস্টের আরেকটি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ উপভোগ করলো যেখানে শেষ পর্যন্ত নটস আউটলজ এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ওয়ারউইকশায়ার বিয়ার্সকে তিন উইকেটে পরাজিত করে। ট্রেন্ট ব্রিজের এই লো-স্কোরিং থ্রিলারে, বিয়ার্স প্রথমে ব্যাট করে ১৯.২ ওভারে মাত্র ১৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে, নটস আউটলজ শেষ বলের ঠিক আগে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার জর্জ লিন্ডে শেষ মুহূর্তে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন। এই জয় নটসকে তাদের প্রথম তিনটি হারের পর ব্যাক-টু-ব্যাক জয় এনে দিলো, যা তাদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
নটসের বোলিং দাপট: বিয়ার্সকে ১৩৯ রানে বেঁধে রাখা
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়ারউইকশায়ার বিয়ার্স শুরুটা দারুণ করেছিল। ওপেনার রন ইয়েটস এবং জেন মালিক দ্রুত রান তুলতে থাকেন। তারা দুজনেই তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৩২ বলে ৫৪ রানের একটি শক্তিশালী সূচনা এনে দেন। কিন্তু এই ছন্দ বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি বিয়ার্স। ইয়েটস এবং মালিক দুজজনই মাত্র সাত বলের ব্যবধানে আউট হয়ে যান। ইয়েটস ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন এবং মালিক শর্ট থার্ডে ক্যাচ তুলে দেন। এই দুটি দ্রুত উইকেটের পতনের পর বিয়ার্সের ইনিংসে আর সেই প্রাথমিক গতি ফিরে আসেনি।
নটসের বোলাররা দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং করে বিয়ার্সের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ বজায় রাখেন। অফস্পিনার ম্যাকক্যান ইংল্যান্ড লায়ন্স থেকে ফিরে আসা ড্যান মাউসলিকে তার রিভার্স সুইপ মিস করিয়ে একটি বড় উইকেট তুলে নেন। এর ফলে ১০ ওভারের মধ্যে ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিয়ার্স চাপে পড়ে যায়। ডিওন পেনিংটন এবং বেন হাওয়েলও উইকেট শিকারে যোগ দেন। বিউ ওয়েবস্টার, যিনি ৪৪ বলের মোকাবিলায় ২৩ রান করেন, একটি ছক্কা হাঁকালেও নটসের নিয়ন্ত্রিত বোলিং তাকে বড় স্কোর করতে দেয়নি। মোহাম্মদ আলী তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিয়ে বিয়ার্সের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তার ২৭ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেটের পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। কাই স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করে ২৮ বলে ৩৪ রান করেন, যা বিয়ার্সের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল। ক্রিস ওকস এবং জর্ডান থম্পসনও সংক্ষিপ্ত অবদান রাখেন, কিন্তু নটস আউটলজ তাদের ১৩৯ রানে অলআউট করতে সক্ষম হয়, যা শেষ পর্যন্ত একটি কঠিন লক্ষ্য প্রমাণ হয়।
নটসের জয়ের পথে সংগ্রাম: রন ইয়েটসের স্পিন জাদু
জয়ের জন্য ১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নটস আউটলজ পাওয়ারপ্লেতে দুর্দান্ত শুরু করে। জো ক্লার্ক ক্রিস ওকসের বলে উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়লেও, নটস পাওয়ারপ্লেতে ১ উইকেটে ৬৭ রান তুলে নেয়। জ্যাক হেইন্স তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ১৭ বলে ৩৬ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন এবং স্কটল্যান্ডের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় জর্জ মুনসি ৩০ বলে ২৭ রান করে নটসের জয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন। মনে হচ্ছিল নটস সহজেই জয় তুলে নেবে।
কিন্তু এরপরই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন ওয়ারউইকশায়ার বিয়ার্সের অফস্পিনার রব ইয়েটস। তিনি এক অসাধারণ স্পেল উপহার দেন, যেখানে মাত্র ১৩ বলের মধ্যে ৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন! তার স্পিন জাদু নটসকে ৭২ রানে ১ উইকেট থেকে ৮৭ রানে ৬ উইকেটে পরিণত করে ফেলে, যা তাদের গুরুতর বিপদে ফেলে দেয়। হেইন্স মিড-অফে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন, টম মুরসকে বোল্ড করেন এবং একই ওভারে ফ্রেডি ম্যাকক্যান ও মুনসির ক্যাচ নিজে ধরে নেন। বিউ ওয়েবস্টার বেন হাওয়েলকে আউট করার পর নটস নিজেদেরকে এক গভীর সংকটের মধ্যে দেখতে পায়।
জর্জ লিন্ডের বীরত্বপূর্ণ ফিনিশ
নটস যখন ৮৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট এবং জর্জ লিন্ডে হাল ধরেন। প্যাটারসন-হোয়াইট ১৪ বলে ২০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে একটি স্লগ-সুইপ ছক্কাও ছিল। কিন্তু উসমান তারিক তাকে বোল্ড করে দেন, যখন নটসের জয়ের জন্য ২৭ বলে ২২ রানের প্রয়োজন ছিল। স্কোর তখন ১১৮ রানে ৭ উইকেট।
এই পরিস্থিতিতে মাঠে নামেন দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার জর্জ লিন্ডে। তিনি তার ঠাণ্ডা মাথায় দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। লিন্ডে অফ-সাইড বাউন্ডারিতে একটি চার মেরে দর্শকদের স্নায়ুচাপ কিছুটা কমিয়ে আনেন এবং ড্যান মাউসলিকে লং-অনের উপর দিয়ে একটি দর্শনীয় ছক্কা হাঁকান। উসমান তারিক ১৯তম ওভারে মাত্র ২ রান দিলেও, লিন্ডে তার দলকে শেষ পর্যন্ত জয়ের কাছে নিয়ে যান।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য নটসের প্রয়োজন ছিল ৩ রান। রিচার্ড গ্লিসন বোলিং করতে আসেন। ম্যাচের উত্তেজনা তখন চরমে। গ্লিসন শেষ বলের ঠিক আগে পর্যন্ত লড়াই করেন, কিন্তু লিন্ডে একটি বাইরের কিনারায় (outside edge) চার মেরে দলকে অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন। তার ২৫ বলে ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংসটিতে ছিল দুটি চার এবং একটি ছক্কা, যা তাকে ম্যাচের নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এই লো-স্কোরিং থ্রিলারটি প্রমাণ করলো যে টি-২০ ক্রিকেটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিছুই বলা যায় না এবং একাই একজন খেলোয়াড় ম্যাচের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন। নটস আউটলজের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং টুর্নামেন্টের বাকি অংশ খেলার জন্য নতুন প্রেরণা জোগাবে।