Report

Bairstow leads charge as Yorkshire hand out Roses hammering: ইয়র্কশায়ারের ঐতিহাসিক জয়

Avatar photo Vikram Desai · · 1 min read

হেডিংলিতে ইয়র্কশায়ারের ঐতিহাসিক জয় এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের লজ্জা

ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী রোজেস ডার্বিতে হেডিংলির মাঠ সাক্ষী থাকল এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইয়র্কশায়ার নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৩ রানের এক বিশাল স্কোর খাড়া করে। জবাব দিতে নেমে ইয়র্কশায়ারের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে মাত্র ১৫ ওভারের মধ্যে ১০৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় ল্যাঙ্কাশায়ার লাইটনিং। ১০৬ রানের এই বিশাল পরাজয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে ল্যাঙ্কাশায়ারের সবচেয়ে বড় রানের ব্যবধানে পরাজয়। এই জয়ের মাধ্যমে উত্তর গ্রুপে ৫ ম্যাচের মধ্যে ৪টিতে জয় নিয়ে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল ইয়র্কশায়ার।

জনি বেয়ারস্টোর ব্যাটিং তাণ্ডব ও লাক্সটনের যোগ্য সঙ্গ

ম্যাচের শুরুতেই ইয়র্কশায়ার কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল যখন ওপেনার অ্যাডাম লিথ টম অ্যাসপিনওয়ালের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে সেই ধাক্কা দ্রুতই সামাল দেন অধিনায়ক জনি বেয়ারস্টো এবং তরুণ উইল লাক্সটন। ল্যাঙ্কাশায়ারের পেসার লুক উড বেয়ারস্টোকে একটি মেইডেন ওভার বল করে চাপে ফেলার চেষ্টা করলেও, অন্যপ্রান্তে সাকিব মাহমুদের করা ষষ্ঠ ওভারে লাক্সটন দুটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা মেরে ইয়র্কশায়ারকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন। পাওয়ারপ্লে শেষে ইয়র্কশায়ারের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৭ রান।

এরপর শুরু হয় বেয়ারস্টো ও লাক্সটনের ব্যাটিং তাণ্ডব। দ্বিতীয় উইকেটে তারা মাত্র ৪৪ বলে ১০৫ রানের এক বিধ্বংসী পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। বেয়ারস্টো মাত্র ৩২ বলে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৭৩ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে লিয়াম লিভিংস্টোনের স্পিনে ডিপ স্কয়ার লেগ অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন বেয়ারস্টো। তার এই ইনিংসে ৪টি বিশাল ছক্কা ও একাধিক চারের মার ছিল।

মিডল অর্ডারের পতন ও হোয়ার্টনের ক্যামিও

বেয়ারস্টো আউট হওয়ার ঠিক পরের ওভারেই ইয়র্কশায়ার শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন বাঁহাতি স্পেনার টম হার্টলি। প্রথমে উইল লাক্সটনকে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ বানানোর পর, অভিজ্ঞ মঈন আলীকে শূন্য রানে বোল্ড করে ল্যাঙ্কাশায়ারকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি। ইয়র্কশায়ারের স্কোর এক সময় ১ উইকেটে ১৩৫ থেকে মুহূর্তের মধ্যে ৪ উইকেটে ১৩৭ রানে পরিণত হয়। তবে শেষ দিকে জেমস হোয়ার্টনের ১৬ বলে অপরাজিত ৩৫ রানের দ্রুতগতির ক্যামিও ইনিংস ইয়র্কশায়ারকে ২১৩ রানের বিশাল স্কোরে পৌঁছে দেয়। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে টম অ্যাসপিনওয়াল ৩২ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। অপরদিকে সাকিব মাহমুদ ৪ ওভারে ৬০ রান দিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টি-টোয়েন্টি স্পেলের রেকর্ড গড়েন।

ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয় এবং স্পিন জাদু

২১৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ল্যাঙ্কাশায়ার লাইটনিং। মাত্র ১৯ বলের মধ্যে তাদের ৩টি উইকেট পড়ে যায় এবং স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ২৭ রান। পাকিস্তানি পেসার হাসান আলী প্রথম ওভারেই এক দুর্দান্ত ইনসুইঙ্গারে কিটন জেনিংসের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেন। এরপর ফাহিম আশরাফ বোল্ড করেন ম্যাটি হার্স্টকে। অভিজ্ঞ অফস্পিনার মঈন আলী নিজের প্রথম ওভারেই মার্কাস হ্যারিসকে বোল্ড করে ল্যাঙ্কাশায়ারের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।

ল্যাঙ্কাশায়ারের বাকি ব্যাটসম্যানরাও ইয়র্কশায়ারের স্পিন আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। লেগস্পিনার জাফর চোহানের বলে বেন ম্যাকডারমটকে দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে পরিণত করেন ম্যাথিউ রেভিস। এরপর মঈন আলীর বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউর শিকার হন জো মুরস। ১০ম ওভারে মাত্র ৬৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় ল্যাঙ্কাশায়ার।

লিভিংস্টোনের একাকী লড়াই এবং চোহানের তান্ডব

ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে একমাত্র লিয়াম লিভিংস্টোন কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তিনি ৩০ বলে ৪৪ রানের একটি ইনিংস খেলেন, তবে তা পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। এজে টাই-এর বলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে লিভিংস্টোন বিদায় নিলে ল্যাঙ্কাশায়ারের স্কোর দাঁড়ায় ৯৭ রানে ৭ উইকেট। এরপর জাফর চোহান ১৫তম ওভারে পরপর দুই বলে অ্যাসপিনওয়াল ও সাকিব মাহমুদকে বোল্ড করে ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংস ১০৭ রানে গুটিয়ে দেন। ইয়র্কশায়ারের পক্ষে জাফর চোহান মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪টি এবং মঈন আলী ১৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে ইয়র্কশায়ার তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল, অন্যদিকে ল্যাঙ্কাশায়ারকে এখন টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে।

Share
Avatar photo
Vikram Desai

Vikram Desai writes extensively about cricket history, legendary players, and record-breaking performances. He has spent years researching domestic and international cricket archives across multiple eras.