IPL 2026: বৈভব সূর্যবংশীর সাফল্যে শঙ্কিত প্রতিপক্ষ, চাহালের মন্তব্যে তোলপাড়
আইপিএল ২০২৬-এর নতুন বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী
চলতি আইপিএল ২০২৬ মরসুমে সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে যেভাবে তিনি ব্যাটিং করছেন, তা অভাবনীয়। তাঁর নির্ভীক মানসিকতা এবং পরিপক্ক পারফরম্যান্স বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কেড়েছে। বিহারের এই তরুণ ব্যাটার এখন আইপিএলের অন্যতম বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন বোলারদের কাছে।
চলতি মরসুমে বৈভব সূর্যবংশীর ধারাবাহিকতা এক কথায় অবিশ্বাস্য। ১৩টি ম্যাচ খেলে তিনি ইতিমধ্যে ৫২৭ রানের বেশি সংগ্রহ করেছেন। তাঁর ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইক রেট ২৩৬.৩২, যা যে কোনো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য রীতিমতো বিধ্বংসী। মরসুমে এখন পর্যন্ত একটি সেঞ্চুরি এবং তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি, যার মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর ১০৩ রান।
যুজবেন্দ্র চাহালের অদ্ভুত মন্তব্য
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং রাজস্থান রয়্যালসের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে যুজবেন্দ্র চাহালের একটি মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। পঞ্জাব কিংসের প্লে-অফের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছিল এই ম্যাচের ফলের ওপর। কারণ রাজস্থান রয়্যালস পরাজিত হলে পঞ্জাব কিংসের জন্য শেষ চারের টিকিট পাওয়া সহজ হয়ে যেত।
এই প্রেক্ষাপটেই চাহাল ঠাট্টা করে বলেছিলেন, রোহিত শর্মা যেন ডাবল সেঞ্চুরি করেন এবং বৈভব সূর্যবংশী যেন গোল্ডেন ডাক অর্থাৎ শূন্য রানে আউট হন। যদিও চাহাল এটি মজার ছলেই বলেছিলেন, তবুও ক্রিকেট মহলে এটি স্পষ্ট যে বৈভব এখন কতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। চাহাল বলেন, আমরা লখনউতেই আছি। আশা করি রাজস্থান কাল হারবে এবং রোহিত শর্মা ২০০ রান করবে, অনেকদিন এমন ইনিংস দেখা হয়নি।
পঞ্জাব কিংসের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
অন্যদিকে, লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয়ের মাধ্যমে পঞ্জাব কিংস নিজেদের প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। একানা স্টেডিয়ামে ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্জাব মাত্র ১৮ ওভারেই জয় তুলে নেয়। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ৫১ বলে ১০১ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন প্রভসিমরণ সিং, তাদের ১৪০ রানের জুটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
মরসুমের শুরুতে প্রথম সাতটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টি জয় পেলেও, পরবর্তী ছয়টি ম্যাচে টানা পরাজয় পঞ্জাবকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছিল। চাহাল জানান, সেই কঠিন সময়ে দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ইতিবাচক রাখাটাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। খেলোয়াড়রা নেতিবাচক চিন্তার বদলে অনুশীলনে উন্নতির দিকেই বেশি নজর দিয়েছিলেন। চাহালের মতে, টানা হারের পর দলের ঐক্য বজায় রাখাটাই সবথেকে বড় কাজ ছিল, যেখানে তারা সফল হয়েছেন।
উপসংহার
বৈভব সূর্যবংশীর উত্থান কোনো রূপকথার গল্পের চেয়ে কম নয়। যে বয়সে কিশোররা স্কুলের ক্রিকেটে নিজেদের জড়ো করে, সেই বয়সেই বৈভব বিশ্বের সেরা বোলারদের শাসন করছেন। তবে সাফল্য সব সময়ই ঈর্ষা এবং চাপের সৃষ্টি করে। প্রতিপক্ষ দলগুলো তাঁর পারফরম্যান্সে চিন্তিত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একজন প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়, যে নিজের দলের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিচ্ছে, তাঁর ব্যর্থতা কামনা করাটা খেলার স্পিরিটের সঙ্গে মানানসই কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলোতে বৈভব নিজেকে কোথায় নিয়ে যান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।