‘After watching cartoons, I realise I’m still a kid’: Vaibhav Sooryavanshi’s hil – বৈভব সূর্যবংশী: কার্টুন দেখা থেকে আইপিএল মাতানো এক বিস্ময় বালকের গল্প
বৈভব সূর্যবংশী: মাঠের বিধ্বংসী ব্যাটার যখন শিশুসুলভ
আইপিএল ২০২৫-এর মেগা নিলামে মাত্র ১.১ কোটি টাকায় ১৩ বছর বয়সী এই কিশোরকে দলে নিয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। তখন হয়তো কেউ ভাবেনি যে এই ছেলেটিই এত দ্রুত বিশ্ব ক্রিকেটকে চমকে দেবে। মাঠের ভেতরে বোলারদের ঘুম কেড়ে নেওয়া বৈভব সূর্যবংশী মাঠের বাইরে কিন্তু একেবারেই সাধারণ এক কিশোর। তার সাম্প্রতিক কিছু স্বীকারোক্তি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উচ্চতা বা প্রতিভার চূড়ায় থাকলেও সে আসলে একজন সাধারণ স্কুলপড়ুয়া কিশোরই।
কার্টুন দেখা এবং শৈশবের আনন্দ
একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বৈভবকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার অবসর সময়ের কাটানোর উপায় নিয়ে। সেখানে তিনি সাবলীলভাবেই জানান, মানসিক প্রশান্তির জন্য তিনি কার্টুন দেখতে পছন্দ করেন। তার ভাষায়, ‘আমি রুমে বসে আমার প্রিয় কার্টুনগুলো দেখি। এটা আমাকে বাড়ির কথা মনে করিয়ে দেয় এবং আমি বুঝতে পারি যে আমি এখনও একজন বাচ্চা।’ এই স্বীকারোক্তিটি তার ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। একজন ১৫ বছর বয়সী কিশোর যখন আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে নিয়মিত ছক্কা হাঁকিয়ে স্টেডিয়াম কাঁপান, তখন তার এই সরল স্বীকারোক্তিটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী।
খাদ্যাভ্যাস ও চটজলদি আনন্দ
খাবারের ব্যাপারে বৈভব খুব বেশি খুঁতখুঁতে নন। তিনি জানান, বাড়িতে তৈরি সাধারণ খাবারই তার সবচেয়ে প্রিয়। তবে চিট মিল হিসেবে আইসক্রিমের প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতার কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। মাঠে বড় বড় বোলারদের শাসন করার চেয়েও তার কাছে এই ছোট ছোট আনন্দগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাট হাতে বিধ্বংসী রূপ
বৈভবের ব্যাটিং পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। চলতি মৌসুমে তিনি রেকর্ড ৬৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন, যা বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিরল। তার ব্যাটিংয়ের মূল রহস্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘শৈশব থেকেই আমি কঠোর পরিশ্রম করছি এবং ভবিষ্যতেও তা চালিয়ে যাব। আমার লক্ষ্য একটাই—ভালো ক্রিকেট খেলে একদিন ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা।’
নকআউট ম্যাচে ত্রাস
চণ্ডীগড়ের নিউ পিসিএ স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে তার বিধ্বংসী ব্যাটিং রাজস্থান রয়্যালসকে জয় এনে দিয়েছে। গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধেও তার রেকর্ড বেশ চমকপ্রদ। এর আগে টাইটানসের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচে তিনি যথাক্রমে ১০১ (৩৮ বল), ৩১ (১৮ বল) এবং ৩৬ (১৬ বল) রান করেছেন। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে বড় ম্যাচে চাপ নেওয়ার ক্ষমতা তার সহজাত।
ভবিষ্যতের পথচলা
বৈভব সূর্যবংশী এখন কেবল রাজস্থান রয়্যালসের ভরসার জায়গা নন, বরং আগামী দিনের ভারতীয় ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তবে তার সাফল্যের পেছনে কোনো জাদুমন্ত্র নেই, আছে কেবল নিরলস পরিশ্রম। বোলারদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে ওঠা এই কিশোর ভবিষ্যতে আরও অনেক মাইলফলক স্পর্শ করবেন বলে আশা করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
উপসংহার
মাঠের বাইরের বৈভব সূর্যবংশী যেমন একজন সাধারণ কিশোর, মাঠের ভেতরে তিনি ততটাই অপ্রতিরোধ্য। কার্টুন দেখে আনন্দ পাওয়া আর বাইশ গজে বোলারদের সীমানার বাইরে পাঠানো—এই দুই সত্তার সংমিশ্রণই তাকে করে তুলেছে অনন্য। আইপিএলের মঞ্চে তার এই যাত্রা মাত্র শুরু। ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় আছে, এই কিশোর ভবিষ্যতে আরও কত বড় উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেন।