“An allrounder”: Jofra Archer claims new role after winning POTM against Mumbai – An allrounder: Jofra Archer claims new role after winning POTM against Mumbai
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে জয়ের নায়ক আর্চার
আইপিএল ২০২৬-এর উত্তেজনাময় মুহূর্তে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালস এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল কার্যত একটি নক-আউট লড়াই। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে এই ম্যাচে জয় ছাড়া রাজস্থানের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না। আর সেই কঠিন সময়ে দলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন জোফরা আর্চার। ব্যাট এবং বল—উভয় ক্ষেত্রেই অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন।
“An allrounder”: Jofra Archer claims new role after winning POTM against Mumbai
ম্যাচ পরবর্তী উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে ম্যান অফ দ্য ম্যাচের ট্রফি হাতে নিয়ে জোফরা আর্চার নিজেকে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে দাবি করেন। সাধারণত বিশ্ব ক্রিকেটে তাকে একজন বিধ্বংসী পেসার হিসেবে চেনা হলেও, মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে ১৫ বলে ৩২ রানের ক্যামিও এবং ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচ করে ৩টি উইকেট নেওয়া তার এই দাবির যথার্থতা প্রমাণ করে। আর্চার বলেন, “আমি নিজেকে একজন অলরাউন্ডার হিসেবেই গণ্য করি। শারীরিকভাবেও এখন আমি বেশ ভালো বোধ করছি।”
বল হাতে আর্চারের কারিশমা
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন আর্চার। রোহিত শর্মাকে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পাইয়ে দিয়ে তিনি শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্তভাবে। এরপর নামান ধীর এবং হার্দিক পান্ডিয়াও আর্চারের গতির মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে হার্দিক পান্ডিয়ার উইকেটটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। হার্দিক তখন ১৫ বলে ৩৪ রান করে সেট হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আর্চারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তাকে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়। পান্ডিয়ার বিদায়ের পর মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে এবং মুম্বাই ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রানে আটকে যায়।
ব্যাটিংয়েও চমক
রাজস্থান রয়্যালস প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২০৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। এই স্কোরের পেছনে আর্চারের ১৫ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংসটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্চার জানান, তিনি এত আগে ব্যাটিংয়ে নামার আশা করেননি। কোচ তাকে প্যাড পরে মাঠে নামার নির্দেশ দিলে তিনি কিছুটা অবাকই হয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট।
কোচের পরামর্শ ও বোলিং কৌশল
নিজের বোলিং প্রসঙ্গে আর্চার বলেন, “আমি সব সময় সঠিক জায়গায় বল ফেলার চেষ্টা করি। অনেক সময় সাফল্য আসে, আবার অনেক সময় আসে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমরা দল হিসেবে সফল হয়েছি। কোচের নির্দেশে আমি এখন আর স্লোয়ার বলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করছি না। কোচ আমাকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, গতির হেরফের না করে স্বাভাবিক বোলিং করতে।”
প্লে-অফের লড়াইয়ে রাজস্থান
এই জয় রাজস্থান রয়্যালসকে প্লে-অফের দৌড়ে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। ওয়াংখেড়ের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে আর্চারের অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রমাণ করে যে, একজন দক্ষ ক্রিকেটার দলের প্রয়োজনে যে কোনো ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। আইপিএল ২০২৬-এর এই পর্যায়ে এসে আর্চারের ফর্ম রাজস্থান শিবিরের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর। মুম্বাইয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে আর্চারের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
ম্যাচটি ছিল এক কথায় রোলার-কোস্টার রাইড। মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যানরা একাধিকবার ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করলেও, আর্চারের নিখুঁত স্পেল এবং কার্যকরী ব্যাটিংয়ের কাছে শেষ পর্যন্ত তাদের হার মানতে হয়। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন প্লে-অফের পরবর্তী লড়াইগুলোর দিকে, যেখানে আর্চারের মতো তারকারা বড় ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।