“Might not”: Kieron Pollard drops massive hint on captaincy change after Hardik Pandya’s struggles
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দুঃসময়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন পোলার্ড
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (এমআই) জন্য দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে। দশ দলের এই টুর্নামেন্টে ১৪টি ম্যাচ খেলে মাত্র ৪টিতে জয় পাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিটি শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে। অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার অধীনে দলের এই বিপর্যয়কর পারফরম্যান্স এখন সমর্থকদের মধ্যে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমের শেষ ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে হারের পর মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচ কাইরন পোলার্ডের মন্তব্য নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সামনের মৌসুমের আগে দলের নেতৃত্বের কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পোলার্ডকে হার্দিক পান্ডিয়ার অধিনায়কত্ব এবং দলের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। পোলার্ডের কথায় ছিল বাস্তবতা ও দায়বদ্ধতার ছাপ। তিনি সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, মাঠের ফলাফল প্রত্যাশামাফিক হয়নি। পোলার্ডের মতে, “হ্যাঁ, হার্দিকের জন্য বিষয়টি হয়তো অতটা সহজ ছিল না যতটা সে চেয়েছিল, কিন্তু এখনই সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় আসেনি। তবে এটি সত্য যে, ১২ মাস আগে আমরা যেখানে ছিলাম, সেখান থেকে এবার অনেক নিচে নেমে এসেছি। এই অসংগতিগুলো আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা বসব, আলোচনা করব এবং আশা করি আগামী ১০ মাসে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।”
হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স
অধিনায়ক হওয়ার পাশাপাশি একজন অলরাউন্ডার হিসেবেও হার্দিক পান্ডিয়া এই মৌসুমে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আইপিএল শুরু করলেও মাঠের খেলায় তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। পরিসংখ্যান বলছে:
- ১০টি ম্যাচে মোট রান সংগ্রহ করেছেন ২০৬।
- স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৮, যা তার মানের খেলোয়াড়ের জন্য যথেষ্ট নয়।
- বল হাতে উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৪টি।
- তার বোলিং ইকোনমি রেট ছিল প্রায় ১২, যা দলের রান আটকে রাখার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এই পারফরম্যান্সের কারণে অধিনায়ক হিসেবে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা আরও সহজ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞ এবং সমর্থকদের মতে, হার্দিকের ওপর অধিনায়কত্বের চাপ তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ক্রমাবনতি
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ধীরে ধীরে তাদের পুরনো দাপট হারাচ্ছে। ২০২২ সালে তারা ছিল টেবিলের তলানিতে (১০ম), ২০২৩ সালে প্লে-অফ থেকে বিদায় নেয়, এবং ২০২৬ মৌসুমে আবারও নবম স্থানে শেষ করল। দলের এমন দৈন্যদশা কেন হচ্ছে, তা নিয়ে ম্যানেজমেন্টকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচেও মুম্বাই জয়ের ভালো অবস্থানে ছিল, কিন্তু পাওয়ারপ্লেতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। খোদ অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া স্বীকার করেছেন যে, রান তাড়া করার লক্ষ্যটি অর্জনযোগ্য ছিল, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকলাপে ঘাটতি ছিল প্রকট।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
পোলার্ডের কথায় স্পষ্ট যে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাদের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে চায়। আগামী ১০ মাস সময়কে তারা পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছে। দলের ড্রেসিংরুমে এখন কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি উঠছে। হার্দিক পান্ডিয়াকে নেতৃত্বে রাখা হবে নাকি অন্য কারো হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মতো একটি সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি যারা অতীতে বহুবার শিরোপা জিতেছে, তাদের জন্য এই ব্যর্থতা মেনে নেওয়া কঠিন। তবে ആരാധকরা এখন অপেক্ষায় আছেন ম্যানেজমেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের। ক্রিকেট ভক্তদের এখন একটাই প্রশ্ন, হার্দিক পান্ডিয়া কি আগামী মৌসুমেও দলের নেতৃত্বে থাকবেন, নাকি নতুন কোনো মুখ দেখা যাবে মুম্বাইয়ের জার্সিতে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আপাতত আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।