13 Cr Star Out Of Plans; Players Delhi Capitals Should Release Before IPL 2027
দিল্লি ক্যাপিটালস আবারও এক বছর পেরিয়ে গেল ট্রফি ছাড়া। ২৪ মে, রবিবার তাদের মৌসুম শেষ হয়েছে ষষ্ঠ স্থানে থাকা অবস্থায়, মাত্র ১৪ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে। আক্ষর প্যাটেলদের নেতৃত্বে দলটি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে আইপিএল শিরোপা থেকে বঞ্চিত। তবে শেষ তিন ম্যাচে জয় পেয়ে একটু আশার আলো দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে এডেন গার্ডেন্সে হারিয়ে শেষ গ্রুপ ম্যাচে। কিন্তু এখন চোখ আইপিএল ২০২৭-এর দিকে। আর সেখানে উন্নতি করতে হলে দল গঠনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এবং এই প্রসঙ্গেই আসছে কথা: 13 Cr Star Out Of Plans; Players Delhi Capitals Should Release Before IPL 2027।
কাকে কাকে ছাড়া উচিত দিল্লি ক্যাপিটালসের?
আইপিএল ২০২৭-এর জন্য স্কোয়াড আপডেট করতে হলে বাজেট ফাঁকা করা জরুরি। নিম্নলিখিত খেলোয়াড়দের ছাড়া হলে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ফিরে আসবে প্রায় ৩৪.৫ কোটি টাকা। নিচে তালিকা ও বিশ্লেষণ:
১. করুণ নায়ার – ৫০ লাখ
৩৪ বছর বয়সী করুণ নায়ার আইপিএল ২০২৫-এ ৮ ইনিংসে ১৯৮ রান করে আশা জাগিয়েছিলেন। তাই ২০২৬-এর আগে তাঁকে ৫০ লাখ টাকায় ধরে রাখা হয়। কিন্তু আইপিএল ২০২৬-এ তিনি মাত্র ১৮ রান করলেন ২ ইনিংসে। ব্যাটে শূন্য হওয়ার পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও তিনি টিমের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
বিশেষ করে পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে, যখন দলকে ২৬৫ রান ধার্য করতে হয়েছিল, সেখানে তিনি শ্রেয়স আয়ারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ফেলেন। যা ম্যাচের ফলাফলই পালটে দেয়। এই কারণেই তাঁকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত।
২. টি. নাতরাজন – ১০.৭৫ কোটি
বামহাতি ফাস্ট বোলার টি. নাতরাজনের বেলায় অনেকেই হতাশ। ১০.৭৫ কোটি টাকার বিনিময়ে তাঁকে ধরে রাখা হয়েছিল, কিন্তু তিনি আইপিএল ২০২৫-এ খেলেননি কোনো ম্যাচ। আইপিএল ২০২৬-এ তিনি শুরুটা ভালো করলেও মাঝামাঝি থেকে তাঁর কার্যকারিতা নেমে যায়।
১০ ম্যাচে মাত্র ৫ উইকেট নিয়ে তাঁর ইকোনমি ছিল ১১.১৮। এমনকি ৬ ম্যাচ ধরেই তিনি উইকেট পাননি। এই বিষম পরিস্থিতির মধ্যে দিল্লি ক্যাপিটালস শেষ পর্যন্ত তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়। তাই ২০২৭-এ আবার রাখা অযৌক্তিক হবে।
৩. মুকেশ কুমার – ৮ কোটি
দিল্লির বোলিং এককালে তাঁর উপর ভার ছিল, কিন্তু আইপিএল ২০২৬-এ মুকেশ কুমারের পারফরম্যান্স তো আর আগের মতো নয়। ৩২ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার ১০ ম্যাচে মাত্র ৬ উইকেট নিয়েছেন। ইকোনমি ছিল ১১-এর বেশি।
দলের পেস আক্রমণে ভারসাম্য রাখতে হলে নতুন তরুণদের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাই মুকেশ কুমারকে ছাড়া যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ হবে।
৪. রেহান আহমেদ – ২ কোটি
আইপিএল ২০২৬ নিলামে বেঞ্জামিন ডাকেটকে ২ কোটি টাকায় কিনেছিল দিল্লি, কিন্তু তিনি শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যান ইংল্যান্ডের জন্য খেলার কারণে। বিসিসিআই তাঁকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়। তার পরিবর্তে দল ৭৫ লাখে কিনেছিল রেহান আহমেদকে।
প্রবল আশা ছিল যুব স্পিনারের জন্য, কিন্তু আইপিএল ২০২৬-এ তিনি একটিও ম্যাচ খেলেননি। এমন খেলোয়াড়কে রাখা বোধগম্য হয় না। তাঁকে ছাড়া হলে দল পুনরায় ২ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
৫. কুলদীপ যাদব – ১৩.২৫ কোটি
এটা অবশ্যই একটি বড় সিদ্ধান্ত। কুলদীপ যাদব হলেন বিশ্বমানের স্পিনার, তবু আইপিএল ২০২৬-এ তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষ চোখ টানেনি। ১১ ম্যাচে ১০ উইকেট, যদিও শেষ ম্যাচে ৩ উইকেট নেওয়া হলেও তা পুরো মৌসুমের হিসাব না। তাঁর ইকোনমি ও স্ট্রাইক রেট আগের মতো হুমকি দেয়নি।
টিম ম্যানেজমেন্ট যদি ভাবে এক বছর খারাপ পারফরম্যান্সের পর তাঁকে ধরে রাখা উচিত, তবু আইপিএল ২০২৭ নিলামে বিশাল বাজেট পাওয়ার জন্য কুলদীপকে ছাড়া হতে পারে। এর ফলে ১৩.২৫ কোটি টাকা বাজেটে ফিরবে।
মোট কত বাজেট ফিরবে?
- করুণ নায়ার – ৫০ লাখ
- টি নাতরাজন – ১০.৭৫ কোটি
- মুকেশ কুমার – ৮ কোটি
- রেহান আহমেদ – ২ কোটি
- কুলদীপ যাদব – ১৩.২৫ কোটি
মোট: ৩৪.৫০ কোটি টাকা
এই বাজেট দিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালস আইপিএল ২০২৭-এ নতুন তারকা খেলোয়াড় কিনতে পারবে। সঠিক পরিকল্পনা ও নিলাম কৌশল থাকলে আগামী মৌসুমে দলটি আরও স্পর্ধা নিয়ে উঠে আসতে পারে।
আইপিএল একটি প্রতিযোগিতা যেখানে প্রতি বছর পরিবর্তন হয়। দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ২০২৭ হতে পারে সেই পরিবর্তনের বছর, শুধুমাত্র সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়া হলে।