Latest Cricket News

Rishabh Pant released, Ajinkya Rahane retained! 27 players receive clear verdict

Avatar photo Vikram Desai · · 1 min read

আইপিএল ২০২৬-এর সমাপ্তি এবং আগামী মৌসুমের উত্তেজনা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) ২০২৬ মৌসুমটি এখন তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বর্তমান মৌসুমের আর মাত্র কয়েকটি ম্যাচ বাকি রয়েছে, যা নির্ধারণ করবে এবারের চ্যাম্পিয়ন কে হবে। ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে ৬টি দলই শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে। এই বছরটি বহু তারকা ক্রিকেটারের জন্য অত্যন্ত অম্ল-মধুর ছিল। অনেক নামী ক্রিকেটারই তাদের চেনা ছন্দ খুঁজে পেতে লড়াই করেছেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি।

বিশেষ করে সূর্যকুমার যাদব, ঋষভ পান্ত, অজিঙ্কা রাহানে এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের মতো বড় তারকাদের পারফরম্যান্স অধিকাংশ ম্যাচেই ধারাবাহিক ছিল না। যেহেতু ২০২৭ সালের মেগা মৌসুমের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন, খেলোয়াড় ধরে রাখা (Retain) এবং ছেড়ে দেওয়ার (Release) প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, তাই ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—কারা থাকছেন আর কারা বাদ পড়ছেন? এই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভারতের প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার আম্বাতি রায়ডু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং তাদের বর্তমান চুক্তির মূল্যের ওপর ভিত্তি করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যৎবাণী করেছেন।

আম্বাতি রায়ডুর বিশ্লেষণ এবং ২৭ জন তারকার ভাগ্য নির্ধারণ

আইপিএল ২০২৬-এর কোয়ালিফায়ার ১ ম্যাচের ঠিক আগে, বিখ্যাত ক্রিকেট পোর্টাল ESPNCricinfo তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি আকর্ষণীয় ভিডিও প্রকাশ করেছে। এই ভিডিওতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন নির্ভরযোগ্য ব্যাটার আম্বাতি রায়ডুকে বিভিন্ন দলের ২৭ জন প্রথম সারির তারকা খেলোয়াড়ের নাম দেওয়া হয়। রায়ডুকে তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছিল যে, সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর উচিত এই খেলোয়াড়দের ধরে রাখা নাকি আসন্ন ২০২৭ মৌসুমের আগে রিলিজ করে দেওয়া।

এই ২৭ জনের তালিকায় দেশী ও বিদেশী মিলিয়ে বিশ্বমানের একাধিক তারকা ক্রিকেটার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রায়ডু সাধারণত বেশিরভাগ খেলোয়াড়কেই দলে রেখে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সাহসী এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যা ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঋষভ পান্তকে রিলিজ করার সাহসী পরামর্শ

রায়ডুর এই বিশ্লেষণের সবচেয়ে বড় হাইলাইট ছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস (LSG) দলের অধিনায়ক ঋষভ পান্তকে নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত। পান্তকে লখনউ ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রায় ২৭ কোটি টাকার এক রেকর্ড মূল্যে দলে নিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, পরপর দুই মৌসুমে তিনি অধিনায়ক এবং ব্যাটার হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রায়ডুর মতে, ২৭ কোটি টাকার মতো বিশাল প্রাইস ট্যাগ মাথায় নিয়ে খেললে পারফর্ম করার চাপ অনেক বেড়ে যায়। যেহেতু পান্ত পর পর দুই আসরে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি, তাই রায়ডুর স্পষ্ট রায় হলো—লখনউয়ের উচিত ২০২৭ সালের মেগা নিলামের আগে তাকে রিলিজ করে দেওয়া। এটি লখনউয়ের পার্স ভ্যালু বাড়াতে এবং পান্তকে নতুন করে শুরু করতে সাহায্য করতে পারে।

অজিঙ্কা রাহানের রিটেইনড হওয়ার সম্ভাবনা

বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে আছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার অজিঙ্কা রাহানে। চলতি মৌসুমে আশানুরূপ রান না পেলেও, রায়ডু মনে করেন রাহানেকে তার ফ্র্যাঞ্চাইজির ধরে রাখা উচিত। রায়ডুর মতে, দলের কঠিন পরিস্থিতিতে রাহানের মতো ঠাণ্ডা মাথার এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় দলের ড্রেসিংরুমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রান না পেলেও তার কৌশলগত জ্ঞান তরুণ খেলোয়াড়দের পথ দেখাতে সাহায্য করে, যা যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য অমূল্য সম্পদ।

কেকেআর অধিনায়ক ও অন্যান্য বড় নামদের ভবিষ্যৎ

কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) দলের অধিনায়কের ক্ষেত্রেও রায়ডু একটি চমৎকার বিশ্লেষণ দিয়েছেন। কেকেআর অধিনায়কও গত দুই মৌসুমে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাবের কারণে সমালোচিত হয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও, আম্বাতি রায়ডু তাকে রিটেইন করার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। রায়ডুর বিশ্বাস, দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং নেতৃত্ব বজায় রাখার স্বার্থে কেকেআর তাদের অধিনায়কের ওপর আস্থা রাখবে।

এই তালিকায় থাকা অন্য তারকাদের মধ্যে সূর্যকুমার যাদব, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, মহেন্দ্র সিং ধোনি, রোহিত শর্মা এবং মাথিশা পাথিরানার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রায়ডু এদের প্রত্যেককেই তাদের নিজ নিজ দলে ধরে রাখার পক্ষে অত্যন্ত জোরালো যুক্তি দিয়েছেন। বিশেষ করে সিএসকে-র মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের রোহিত শর্মার মতো কিংবদন্তিদের ক্ষেত্রে রায়ডুর একটাই কথা—তারা হলেন ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল স্তম্ভ, যাদের কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। একইভাবে মাথিশা পাথিরানার ডেথ ওভারের বোলিং দক্ষতা এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বের ক্ষমতা তাদের রিটেইন করার সিদ্ধান্তকে সহজ করে তোলে।

‘রিলিজ এবং বাই ব্যাক’ স্ট্র্যাটেজি

বিশ্লেষণ চলাকালীন আম্বাতি রায়ডু একটি অত্যন্ত কার্যকরী কৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন, যা হলো ‘রিলিজ এবং বাই ব্যাক’। অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের উচ্চ মূল্যের কারণে সরাসরি রিটেইন করতে পারে না। সেক্ষেত্রে দলগুলো তাদের রিলিজ করে দেয় এবং নিলামের টেবিলে রাইট টু ম্যাচ (RTM) কার্ড ব্যবহার করে বা কম মূল্যে পুনরায় কিনে নেয়। রায়ডু মনে করেন, ২০২৭ সালের মেগা নিলামে অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিই এই কৌশলের আশ্রয় নেবে, যা তাদের স্কোয়াডের গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

ভবিষ্যৎ নিলামের ওপর এর প্রভাব

আম্বাতি রায়ডুর মতো একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের এই মতামত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। আইপিএল ২০২৭ মৌসুমের আগে দলগুলো যখন তাদের চূড়ান্ত রিটেনশন তালিকা তৈরি করবে, তখন পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের অর্থনৈতিক মূল্যও বড় ভূমিকা পালন করবে। পান্তের রিলিজ হওয়া বা রাহানের টিকে যাওয়ার মতো সিদ্ধান্তগুলো শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলে, তা আগামী মেগা নিলামের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আসল পদক্ষেপ দেখার জন্য।

Share
Avatar photo
Vikram Desai

Vikram Desai writes extensively about cricket history, legendary players, and record-breaking performances. He has spent years researching domestic and international cricket archives across multiple eras.