BCCI Shakes Setup, Does This For The 1st Time In History: Women’s Cricket Revolution
ভারতীয় নারী ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) দীর্ঘ সময় ধরে দেশের নারী ক্রিকেটের মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে সমান পারিশ্রমিক, উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL) চালু করা এবং খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা এই খেলাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিসিসিআই আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিল।
সামনেই রয়েছে ২০২৬ সালের আইসিসি উইমেন্স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১২ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টের জন্য ভারত তাদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ১৪ জুন এজবাস্টনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে হারমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। গ্রুপ এ-তে ভারতের সঙ্গী অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস।
বেঙ্গালুরুতে বিশেষজ্ঞ নারী কোচ নিয়োগ
বিসিসিআই সম্প্রতি তাদের বেঙ্গালুরুস্থ সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে (COE) তিনজন বিশেষজ্ঞ নারী কোচকে নিয়োগ দিয়েছে। বিসিসিআইয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে নারীদের কোচ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেওয়া হলো। এই পরিবর্তনের ফলে ভারতের তরুণ ও অভিজ্ঞ নারী ক্রিকেটাররা সরাসরি সাবেক তারকা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাবেন। তারা এই সেন্টারের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন।
যাঁরা দায়িত্ব পেলেন
নিয়োগ পাওয়া এই তিন কোচ ভারতের ক্রিকেটে সুপরিচিত নাম:
- নুশিন আল খাদির (বোলিং কোচ): ভারতের হয়ে ৭৮টি ওয়ানডে ও ৫টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। ওয়ানডেতে ১০০ উইকেটের মালিক নুশিনের ইকোনমি রেট অত্যন্ত ঈর্ষণীয়।
- ভি আর ভানিথা (ফিল্ডিং কোচ): ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভানিথা বর্তমানে একজন দক্ষ কোচ ও ট্যালেন্ট স্কাউট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
- সুনিত্রা পারঞ্জপে (ব্যাটিং কোচ): ২০০২ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ভারতের হয়ে টেস্ট ও ওয়ানডে খেলা এই অলরাউন্ডার তার ব্যাটিং ও বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা দিয়ে তরুণীদের পথপ্রদর্শন করবেন।
নারী ক্রিকেটের বিবর্তন ও বর্তমান চিত্র
গত কয়েক বছরে ভারতীয় নারী ক্রিকেটের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এক সময় যেখানে নারী ক্রিকেটারদের সুযোগের অভাব, কম বেতন এবং প্রচারের অভাব ছিল, আজ সেখানে তারা বিশ্বমঞ্চে বীরত্ব দেখাচ্ছেন। ডব্লিউপিএল (WPL) চালু হওয়ার পর প্রতিভা অন্বেষণের পথ অনেক সহজ হয়েছে। ভারতের নারী ক্রিকেটাররা এখন দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস নারী ক্রিকেটের জন্য এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বিসিসিআইয়ের এই নতুন সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, নারী ক্রিকেটকে এখন আর খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি পুরুষ ক্রিকেটের মতোই গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই পেশাদার কাঠামো নারী ক্রিকেটারদের দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য পেতে সাহায্য করবে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা
হারমানপ্রীত কৌর এবং সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানার নেতৃত্বে দলটি এখন বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ কোচদের পরামর্শে তাদের দক্ষতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ কোচদের নিয়ে গড়া এই নতুন সেটআপ মাঠের খেলায় কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য ক্রিকেট বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এই সাহসী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বিশ্ব ক্রিকেটে অন্য দেশগুলোর জন্যও একটি মডেল হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারত নারী ক্রিকেটকে একটি শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর। এটি শুধু জয় বা পরাজয়ের লড়াই নয়, বরং একটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের লড়াই।
সামনের দিনগুলোতে আমরা হয়তো আরও বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছি, যেখানে নারীরা কেবল খেলার মাঠেই নয়, বরং মাঠের বাইরের কোচিং এবং ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।