Vijay Shankar Joins Lanka Premier League Days After IPL Retirement – আইপিএল থেকে অবসরের পরই লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে নাম লেখালেন বিজয় শঙ্কর
নতুন অধ্যায়: লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে বিজয় শঙ্কর
ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচিত মুখ বিজয় শঙ্কর তার ক্যারিয়ারের এক নতুন মোড় নিলেন। আইপিএল এবং ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) ষষ্ঠ সংস্করণের জন্য ক্যান্ডি রয়্যালসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তটি ক্রিকেট বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে অবসর পরবর্তী ক্রিকেটারের পথচলা নিয়ে।
এলপিএল এবং বিজয় শঙ্করের নতুন চ্যালেঞ্জ
আগামী ১৭ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ আসর। ১ জুন অনুষ্ঠিত হবে খেলোয়াড়দের ড্রাফট। এই টুর্নামেন্টে ২১টি দেশের ৬৫০ জনেরও বেশি খেলোয়াড় নিবন্ধিত হয়েছেন, যার মধ্যে থেকে ৩১০ জনকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। বিজয় শঙ্কর, যিনি ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, ক্যান্ডি রয়্যালসের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। তার অভিজ্ঞতা দলটিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চেন্নাই সুপার কিংসের সাথে ক্যারিয়ারের ইতি
বিজয় শঙ্কর ২০১৪ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) অংশ ছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় তিনি বেশ কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেললেও, ২০২৫ সালে সিএসকের হয়ে তার শেষ যাত্রাটি খুব একটা সুখকর ছিল না। সেই মৌসুমে মাত্র ৫ ইনিংসে ১১৮ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। যার ফলে, আইপিএল ২০২৬ নিলামের আগে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। পরবর্তী নিলামে কোনো দল তার প্রতি আগ্রহ না দেখানোয় তিনি অবসরের পথ বেছে নেন।
অবসরের নেপথ্যে আবেগ
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন বার্তায় বিজয় শঙ্কর লিখেছেন, ‘ক্রিকেট আমার জীবন। ১০ বছর বয়স থেকে শুরু করে ২৫ বছর ধরে আমি প্রতিটি স্তরে খেলেছি। দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত।’ তিনি আরও জানান, নতুন সুযোগ অন্বেষণ করতে এবং আরও বেশি ক্রিকেট খেলার লক্ষ্যেই তিনি আইপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। জানা গেছে, এলপিএল ছাড়াও তিনি বিপিএল, কানাডা টি২০ লিগ এবং এমএলসি-র মতো টুর্নামেন্টেও অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছেন।
বিসিসিআই-এর নিয়ম ও ভারতীয় ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সক্রিয় খেলোয়াড়দের বিদেশি লিগে খেলার অনুমতি দেয় না। তাই বিজয় শঙ্করের মতো খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক লিগে সুযোগ পেতে আগেভাগেই অবসর নিতে হয়। অতীতে মুনাফ প্যাটেল এবং ইরফান পাঠানের মতো ক্রিকেটাররা এলপিএল খেলেছেন। বিজয় শঙ্করের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনরায় বিসিসিআই-এর ‘কুলিং-অফ পিরিয়ড’ সংক্রান্ত বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। অতীতে বোর্ড খেলোয়াড়দের অবসর নেওয়ার পর এক বছরের কুলিং-অফ পিরিয়ডের নিয়ম নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছিল, যাতে খেলোয়াড়রা অবসরের পরপরই বিদেশি লিগে যোগ দিতে না পারেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ওপর প্রভাব
বিজয় শঙ্করের এই পদক্ষেপটি আধুনিক ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি সংস্কৃতির এক নতুন চিত্র তুলে ধরেছে। একজন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার যখন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট ছেড়ে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজের ভাগ্য অন্বেষণ করেন, তখন তা ক্রিকেটের সামগ্রিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এখন দেখার বিষয়, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে তার পারফরম্যান্স কেমন হয় এবং এটি ভবিষ্যতে কতজন ভারতীয় ক্রিকেটারকে একই পথে হাঁটতে উদ্বুদ্ধ করে।
ক্যান্ডি রয়্যালস শিবিরে বিজয় শঙ্করের অন্তর্ভুক্তি কেবল দলের ভারসাম্যই বাড়াবে না, বরং টুর্নামেন্টের আকর্ষণও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই অভিজ্ঞ তারকার নতুন ইনিংস দেখার জন্য।