Virat Kohli teases Shubman Gill and Gujarat Titans with wild gestures during Qua – আইপিএল ২০২৬: কোহলির মজার অঙ্গভঙ্গি ভাইরাল, গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় আরসিবির
আইপিএল ২০২৬-এ আরসিবির দাপট ও বিরাটের মজার মুহূর্ত
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) আইপিএল ২০২৬-এর কোয়ালিফায়ার ১ ম্যাচে গুজরাট টাইটানসকে (GT) ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে আরসিবি ব্যাটাররা যেন এক ক্রিকেটীয় মাস্টারক্লাস উপহার দিলেন। প্রথম ইনিংসে তারা সংগ্রহ করেছিল ২৫৪/৫, যা আইপিএল প্লে-অফের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
ব্যাটিংয়ের মহোৎসব ও ইতিহাস
দলের অধিনায়ক রজত পাটিদার ৩৩ বলে ৯৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার পাশাপাশি বিরাট কোহলি এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া প্রত্যেকেই ৪৩ রান করে অবদান রাখেন। এই ম্যাচের মাধ্যমে বিরাট কোহলি এক অনন্য রেকর্ডের মালিক হয়েছেন; টানা চার আইপিএল মৌসুমে ৬০০-এর বেশি রান করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে এই ইনিংসে তিনি তাদের বিপক্ষে ৫০০ রান পূর্ণ করার মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন, যা আইপিএলের ইতিহাসে যে কোনো ব্যাটারের জন্য অনন্য অর্জন।
শুভমান গিলের সাথে বিরাটের খুনসুটি
ম্যাচের উত্তেজনার মাঝেও বিরাট কোহলির হাসিখুশি মেজাজ নজর কেড়েছে সমর্থকদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গুজরাট টাইটানসের গ্রুপ ফটো সেশনের সময় কোহলি শুভমান গিলকে লক্ষ্য করে তার বিখ্যাত ‘বাবাজি কা ঠুল্লু’ অঙ্গভঙ্গি করছেন। শুধুমাত্র তাই নয়, কোহলিকে নাচতে এবং মজার ছলে সাপ সদৃশ অঙ্গভঙ্গি করতেও দেখা যায়, যা মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। এই হালকা মেজাজের মুহূর্তগুলো ক্রিকেটের মাঠের স্নায়ুচাপ কমানোর এক দারুণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বল হাতে কোহলির কৌতুক
আরও একটি মজার মুহূর্ত ছিল যখন কোহলি বল হাতে নিয়ে বোলিংয়ের রান-আপ অনুশীলন করছিলেন। তিনি আম্পায়ারের কাছে গিয়ে নিজের ক্যাপটি দিয়ে কিছু সময় কথা বলেন এবং হাসি বিনিময় করেন। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা ভেবেছিলেন হয়তো এই ম্যাচে কোহলি বল করবেন, যা নিয়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে বল করতে দেখা যায়নি, তবে তার এই আচরণ মাঠের পরিবেশকে যথেষ্ট আনন্দদায়ক করে তুলেছিল।
গুজরাট টাইটানসের অসহায়ত্ব
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরু থেকেই চাপে ছিল শুভমান গিলের দল। পাওয়ারপ্লের ভেতরেই পাঁচটি উইকেট হারিয়ে তারা লড়াই থেকে প্রায় ছিটকে যায়। রাহুল তেওয়াতিয়া ৬৮ রানের দ্রুত একটি ইনিংস খেললেও সঙ্গীর অভাবে লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত গুজরাট টাইটানস ১৬২ রানে অলআউট হয়। জ্যাকব ডাফি আরসিবির হয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।
ভবিষ্যৎ পথচলা
এই পরাজয়ের পরেও গুজরাট টাইটানসের সামনে ফাইনালে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তারা আগামী ২৬ মে এলিমিনেটর ম্যাচের জয়ী দলের (রাজস্থান রয়্যালস বা সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ) মুখোমুখি হবে কোয়ালিফায়ার ২-এ। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু দ্বিতীয়বারের মতো টানা ফাইনালে উঠে নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে মরিয়া।
ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই ম্যাচটি কেবল একটি জয়-পরাজয়ের লড়াই ছিল না, বরং কোহলির মতো তারকারা কীভাবে খেলার মাঠেও ইতিবাচক ও মজার পরিবেশ বজায় রাখতে পারেন, তা ছিল দেখার মতো। আরসিবির এই দাপুটে ফর্ম তাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে আরও জোরালো করেছে।