Chennai Super Kings Release A Massive Notice On Entering WPL With A New Team – ডব্লিউপিএল-এ প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুলল চেন্নাই সুপার কিংস
ডব্লিউপিএল-এ চেন্নাই সুপার কিংসের আগমনের সম্ভাবনা
আইপিএলের মঞ্চে চেন্নাই সুপার কিংস একটি নামী ব্র্যান্ড। পুরুষদের ক্রিকেটে তাদের দাপট সর্বজনবিদিত। এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নজর দিয়েছে নারী ক্রিকেটের দিকে। উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL) গত কয়েক বছরে নারী ক্রিকেটের চিত্রপট আমূল বদলে দিয়েছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্ট এখন বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সাফল্যের ধারায় এবার চেন্নাই সুপার কিংসও তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ্যে এনেছে।
সিইও কাশি বিশ্বনাথনের মন্তব্য
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চেন্নাই সুপার কিংসের সিইও কাশি বিশ্বনাথন জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক রূপা গুরুনাথ ক্রিকেট অনুরাগী হিসেবে নারী ক্রিকেটকে দারুণভাবে সমর্থন করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে চান যে, সঠিক সময় এবং সুযোগ এলে সিএসকে যেন ডব্লিউপিএল-এর অংশ হয়। বিশ্বনাথন অবশ্য পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা নেই, তবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন।
তিনি আরও বলেন, “রূপা গুরুনাথ ক্রিকেটকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। আমরা যদি সুযোগ পাই এবং প্রতিযোগিতায় নামার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে আমরা অবশ্যই ডব্লিউপিএল-এ যুক্ত হতে চাইব। তবে এটি কবে ঘটবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।”
পাঞ্জাব কিংসের আগ্রহ
চেন্নাই সুপার কিংস ছাড়াও পাঞ্জাব কিংসও ডব্লিউপিএল-এ দল কেনার ব্যাপারে নিজেদের ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। পাঞ্জাব কিংসের সহ-মালিক মোহিত বর্মন জানিয়েছেন যে, নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং তারা এই মঞ্চের অংশ হতে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি আরও যোগ করেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগ না করার অর্থ এই নয় যে তাদের নারী ক্রিকেটের প্রতি বিশ্বাস নেই, বরং এটি ছিল ব্যবসার কৌশল এবং সময়ের সঠিক ব্যবহারের বিষয়।
বিসিসিআই-এর অবস্থান
যদিও আইপিএলের একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ডব্লিউপিএল সম্প্রসারণের দাবি তুলছে, তবুও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এই বিষয়ে বেশ সাবধানী। বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, লিগটিকে আরও স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী করার পরেই নতুন দল অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের ব্যস্ততা এবং খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডব্লিউপিএল-এর জন্য একটি বড় উইন্ডো খুঁজে পাওয়া এখন বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য।
উপসংহার
ডব্লিউপিএল বর্তমানে ৫টি দল নিয়ে যাত্রা করছে—মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু, দিল্লি ক্যাপিটালস, ইউপি ওয়ারিয়র্স এবং গুজরাট জায়ান্টস। চেন্নাই বা পাঞ্জাবের মতো শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যোগ দিলে লিগের জনপ্রিয়তা যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এখন দেখার বিষয়, বিসিসিআই কবে নাগাদ সম্প্রসারণের সবুজ সংকেত দেয় এবং সিএসকে-এর মতো দলগুলো কবে ডব্লিউপিএল-এর অঙ্গনে পা রাখে।
নারী ক্রিকেটের এই জয়যাত্রা এখন কেবল শুরু। চেন্নাই সুপার কিংসের মতো ঐতিহ্যবাহী দলগুলো যুক্ত হলে তা কেবল ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্যই নয়, বরং ভারতীয় নারী ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নতির জন্যই একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আপাতত ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষায় থাকতে হবে বোর্ডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য।