Watch- Devdutt Padikkal Takes Virat Kohli’s Revenge From Jason Holder – দেবদত্ত পাডিক্কালের কোহলির হয়ে প্রতিশোধ: আরসিবি বনাম জিটি আইপিএল ২০২৬ কোয়ালিফায়ার ১
আইপিএল ২০২৬ কোয়ালিফায়ার ১: ধরমশালায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ঐতিহাসিক জয়
আইপিএল ২০২৬-এর প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ধরমশালার মাঠে এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সাক্ষী থাকলো ক্রিকেটপ্রেমীরা। গুজরাট টাইটান্সকে (GT) ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। এই ম্যাচে আরসিবির ব্যাটিং লাইনআপ গুজরাটের বোলিং আক্রমণকে একেবারে তছনছ করে দেয়। অধিনায়ক রজত পাতিদারের মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে আরসিবি বোর্ডে ২৫৪/৫ রানের এক পর্বতসম রান খাড়া করে। এটি আইপিএল প্লে-অফের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় রান।
তবে এই ম্যাচটি কেবল চার-ছক্কা আর উইকেটের পতনের জন্যই মনে রাখা হবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন আলোচনার শীর্ষে রয়েছে বিরাট কোহলি, জেসন হোল্ডার এবং দেবদত্ত পাডিক্কালের মধ্যকার এক ‘টিট-ফর-ট্যাট’ বা যেমন কর্ম তেমন ফল পর্ব। বিরাট কোহলিকে আউট করার পর জেসন হোল্ডারের উগ্র উদযাপন এবং পরবর্তীতে দেবদত্ত পাডিক্কালের দেওয়া যোগ্য জবাব ম্যাচের উত্তেজনাকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।
কী ঘটেছিল বিরাট কোহলি এবং জেসন হোল্ডারের মধ্যে?
ম্যাচের প্রথমার্ধে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে আরসিবির শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছিল। ওপেনার ভেঙ্কটেশ আইয়ারের ঝোড়ো ইনিংসের পর বিরাট কোহলি এবং দেবদত্ত পাডিক্কাল ইনিংসের হাল ধরেন। কোহলিকে বেশ চেনা ছন্দে দেখাচ্ছিল। তিনি ২৫ বলে ৪৩ রান করেন, যার মধ্যে ছিল পাঁচটি চার এবং একটি দুর্দান্ত ছক্কা। পাডিক্কাল ও কোহলির জুটিতে ভর করে মাত্র ৯ ওভারের মধ্যেই আরসিবির স্কোর ৯৩ রানে পৌঁছে যায়। মনে হচ্ছিল কোহলি আজ আরও একটি বড় ইনিংস খেলতে চলেছেন।
কিন্তু নবম ওভারে গুজরাট টাইটান্সের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার এই জুটিতে আঘাত হানেন। হোল্ডারের একটি শর্ট ডেলিভারি সঠিকভাবে পড়তে পারেননি কোহলি। কাট শট খেলার পরিবর্তে তিনি একটি অদ্ভুত হুক শট খেলার চেষ্টা করেন, কিন্তু বলটি ব্যাটের নিচের কানায় লেগে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে। এই আউটের সাথে সাথেই কোহলির এক দুর্দান্ত ইনিংসের অবসান ঘটে।
কোহলি আউট হওয়ার ঠিক পরপরই মাঠের চিত্রটা বদলে যায়। জেসন হোল্ডার অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে উইকেট পাওয়ার আনন্দ উদযাপন করতে শুরু করেন। তিনি বিরাটের সামনে গিয়ে বিশেষভাবে শরীর দুলিয়ে এবং জগিং করার ভঙ্গিতে দৌড়ে একটি অঙ্গভঙ্গি করেন, যা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি আরসিবির প্রাক্তন অধিনায়ককে প্যাভিলিয়নের পথ দেখাচ্ছেন। হোল্ডারের এই অতিরিক্ত এবং কিছুটা অপমানজনক উদযাপন বেঙ্গালুরু শিবিরের কারোরই নজর এড়ায়নি।
হোল্ডারকে তাঁর নিজের ওষুধেই জবাব দিলেন দেবদত্ত পাডিক্কাল
ক্রিকেটে প্রবাদ আছে, মাঠের ভেতরে কোনো স্লেজিং বা অতিরিক্ত উদযাপন বিনা জবাবে পার পায় না। এই ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে গুজরাট টাইটান্স। ষষ্ঠ ওভারে যখন জেসন হোল্ডার ব্যাট করতে নামেন, তখন দল ইতিমধ্যেই খাদের কিনারায়।
আরসিবির উদীয়মান বোলার রাসিখ সালামের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে জেসন হোল্ডার মাত্র তিন বল খেলে শূন্য রানে (ডক) আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। হোল্ডারের উইকেট পতনের সাথে সাথেই দেবদত্ত পাডিক্কাল এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি। তিনি মাঠের মাঝেই হুবহু সেই একই ‘জগিং’ স্টাইলের উদযাপন নকল করে দেখান, যা প্রথম ইনিংসে হোল্ডার কোহলির আউটের পর করেছিলেন।
পাডিক্কাল তাঁর সতীর্থদের দিকে দৌড়ে যাওয়ার সময় হোল্ডারের সেই অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গির নিখুঁত অনুকরণ করেন। এটি ছিল কোহলিকে অসম্মান করার সরাসরি ও উপযুক্ত এক জবাব। মাঠের এই মুহূর্তটি ক্যামেরায় বন্দী হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়। আরসিবি সমর্থকেরা পাডিক্কালের এই প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের প্রশংসা করে বলছেন, ‘কিং কোহলি’র অপমানের এর চেয়ে মিষ্টি প্রতিশোধ আর হতে পারত না।
ব্যাট হাতেও উজ্জ্বল দেবদত্ত পাডিক্কাল
শুধুমাত্র এই প্রতিশোধমূলক উদযাপনের জন্যই নয়, ব্যাট হাতেও আরসিবির জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দেবদত্ত পাডিক্কাল। এই আড়ম্বরপূর্ণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মাত্র ১৯ বলে ৩০ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন, যেখানে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫৭.৮৯। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলে তিনি কোহলির সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের এক দ্রুতগতির পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন।
যদিও পরবর্তীতে জেসন হোল্ডারই দেবদত্ত পাডিক্কালকে আউট করেছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে আরসিবির টপ অর্ডার গুজরাটের বোলারদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে দিয়েছিল। এরপর ক্রিজে এসে রজত পাতিদার তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং দিয়ে ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ আরসিবির দিকে ঘুরিয়ে দেন।
গুজরাট টাইটান্সকে উড়িয়ে ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু
আইপিএল প্লে-অফের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করার পর আরসিবির বোলারদের কাজটা অনেকটাই সহজ ছিল। তবে তাঁরা কোনো ঢিলেমি দেখাননি। জয়ের জন্য ২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জাঁতাকলে পড়ে গুজরাট। জ্যাকব ডাফি প্রথম ওভারেই সাই সুদর্শনের উইকেট তুলে নেন এক অদ্ভুত হিট-উইকেটের মাধ্যমে। এরপর অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমার সস্তায় বিদায় করেন গুজরাটের অধিনায়ক শুভমান গিলকে।
এরপর বোলিংয়ে এসে রাসিখ সালাম একই ওভারে নিশাদ সিন্ধু এবং জেসন হোল্ডারকে আউট করে গুজরাটের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ৫১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় গুজরাট টাইটান্স। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে মাত্র ১৬২ রানে অলআউট হয়ে যায় গুজরাট। ৯২ রানের বিশাল জয়ের মাধ্যমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু সগৌরবে আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালে প্রবেশ করে।
উপসংহার
ধরমশালার এই ম্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেক কিছু উপহার দিয়েছে—রজত পাতিদারের অনবদ্য ব্যাটিং তান্ডব, আরসিবির রেকর্ড রান এবং অবশ্যই দেবদত্ত পাডিক্কালের সেই মহাকাব্যিক প্রতিশোধ। আইপিএল কেবল চার আর ছক্কার খেলা নয়, এটি যে আবেগ, স্লেজিং এবং মাঠের ভেতরের তীব্র লড়াইয়ের মঞ্চ, তা এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করল। এখন আরসিবি ভক্তদের অপেক্ষা কেবল একটিই—ফাইনালে এই দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে ট্রফি ঘরে তোলা।