Which Teams Bid For Vaibhav Sooryavanshi In IPL Auction Before RR Bought Him? – আইপিএল নিলামে বৈভব সূর্যবংশীকে পেতে কোন দলগুলো ঝাঁপিয়েছিল?
বৈভব সূর্যবংশী: বর্তমান ক্রিকেটের নতুন বিস্ময়
মাত্র ১৫ বছর বয়সী বিহারের তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলা এই কিশোর তার বিধ্বংসী ব্যাটিং দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আইপিএল এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে তার ২৯ বলে ৯৭ রানের ইনিংসটি ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে। ক্রিস গেইলের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন এই তরুণ।
আইপিএল নিলামের নেপথ্যে
রাজস্থান রয়্যালস যখন বৈভবকে দলে নেয়, তখন অনেকেই হয়তো ভাবেননি তিনি এত দ্রুত এতটা প্রভাব বিস্তার করবেন। আইপিএল ২০২৫ মেগা নিলামে তার বেস প্রাইস ছিল ৩০ লক্ষ টাকা। অনেকেরই কৌতূহল, তাকে পেতে আর কোন দল আগ্রহ দেখিয়েছিল। অবাক করা তথ্য হলো, নিলামের টেবিলে রাজস্থান রয়্যালসের পাশাপাশি কেবল দিল্লি ক্যাপিটালসই তার জন্য বিড করেছিল। দিল্লিই প্রথম বিড শুরু করে এবং দীর্ঘক্ষণ রাজস্থান রয়্যালসের সাথে তাদের তুমুল লড়াই চলে। অবশেষে হেমঙ্গ বাদানির দল ১.১০ কোটি রুপিতে তাকে নিশ্চিত করে।
কেন দিল্লি পিছিয়ে পড়ল?
নিলামের একপর্যায়ে দিল্লি ক্যাপিটালস পিছু হটে। রাজস্থান রয়্যালস আগে থেকেই যশস্বী জয়সওয়াল, শিমরন হেটমায়ার, সঞ্জু স্যামসনদের মতো তারকাদের ধরে রেখেছিল, তবুও তারা বৈভবের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাকে দলে নেয়। মজার ব্যাপার হলো, রাজস্থান ২০২৫ নিলামে যে ২০ জন খেলোয়াড় কিনেছিল, তার মধ্যে ব্যয়ের দিক থেকে বৈভব ছিলেন নিচ থেকে পঞ্চম। অথচ বর্তমান পারফরম্যান্সে তিনি রাজস্থানের অন্যতম মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছেন।
উত্থানের গল্প: আইপিএল থেকে অনূর্ধ্ব-১৯
আইপিএল ২০২৫-এ বৈভব খুব বেশি সুযোগ না পেলেও সাতটি ম্যাচ খেলে ২৫২ রান করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। তার ব্যাটিং গড় ছিল ৩৬.০০। এরপর ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ সিরিজে তার পারফরম্যান্স ছিল ঈর্ষণীয়। এমনকি ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি সাত ইনিংসে ৪৩৯ রান সংগ্রহ করেন, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৯.৫০।
আইপিএল ২০২৬: রেকর্ডের বরপুত্র
বর্তমান আইপিএল মৌসুমে বৈভব যে ফর্ম দেখাচ্ছেন, তা অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কাছেও স্বপ্ন। তিনি ইতিমধ্যেই ক্রিস গেইলের এক টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। এলিমিনেটর ম্যাচে ১২টি ছক্কা মেরে তিনি অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইয়েও নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। ১৫ ম্যাচে তার স্ট্রাইক রেট ২৪২.৮৫ এবং গড় ৪৫.৩৩। তার ঝুলিতে এখন চারটি অর্ধশতক এবং একটি শতক রয়েছে।
বৈভবের এই অসামান্য উত্থান প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে প্রতিভার ওপর বিনিয়োগ করলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কতটা লাভবান হতে পারে। রাজস্থান রয়্যালসের দূরদর্শিতার কারণে আজ ক্রিকেট বিশ্ব এক নতুন সুপারস্টারকে দেখছে। তার এই পথচলা ভবিষ্যতে আরও অনেক রেকর্ড ভাঙার ইঙ্গিত দিচ্ছে।