‘Really special’ – Yastika flourishes after her long road back – ইনজুরির লড়াই জয় করে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন যস্তিকা ভাটিয়ার
ইনজুরি কাটিয়ে যস্তিকার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
হাঁটুতে অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া—যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই এটি অত্যন্ত কঠিন এক সময়। যস্তিকা ভাটিয়াও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। গত অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনিয়মিত ছিলেন তিনি, টি-টোয়েন্টিতে তো দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ছিলেন মাঠের বাইরে। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তার ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি তিনি দীর্ঘ বিরতির পর ফিরেছেন। বরং তার পারফরম্যান্সে ছিল আত্মবিশ্বাস আর পরিণতবোধের ছাপ।
ম্যাচের শুরুটা ভারতের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। লরেন বেলের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ৭ রানে ২ উইকেট। স্মৃতি মান্ধানা এবং শেফালি ভার্মা সাজঘরে ফেরায় দলের ওপর চাপ ছিল প্রবল। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরও দলে ছিলেন না, ফলে দায়িত্বটা ছিল তরুণ কাঁধে। আর সেখানেই যস্তিকা এবং জেমিমাহ রদ্রিগেজ গড়ে তোলেন ১২৬ রানের এক অনবদ্য জুটি।
যস্তিকা ও রদ্রিগেজের লড়াই
জেমিমাহ রদ্রিগেজের ব্যাটে সাবলীলতা থাকাটা স্বাভাবিক, তবে যস্তিকার কাছ থেকে এমন ইনিংস ছিল কিছুটা অপ্রত্যাশিত। হাঁটুতে চোট, অস্ত্রোপচার এবং রিহ্যাব—সব মিলিয়ে যস্তিকার জন্য গত কয়েক মাস ছিল এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। যস্তিকা নিজেই জানান, ইনজুরির সময়টা কতটা কঠিন ছিল। বিশেষ করে হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর পেশির শক্তি পুনরায় তৈরি করা ছিল এক পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। তবে দলের সমর্থন আর নিজের জেদ তাকে হার মানতে দেয়নি।
যস্তিকা বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের পর সবকিছু শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে। অনেক দিন কোনো উন্নতি চোখে পড়ছিল না, কিন্তু জেমিমাহ এবং টিম ম্যানেজমেন্ট সব সময় পাশে ছিল। তাদের সমর্থন ছাড়া এই ফিরে আসা সম্ভব ছিল না।’
নান্দানি শর্মার দুর্দান্ত অভিষেক
ম্যাচের আরেকটি বড় প্রাপ্তি ছিল তরুণ ফাস্ট বোলার নানদানি শর্মার অভিষেক। এই ম্যাচে তিনি বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তুলে নেন ৩৪ রানে ৩ উইকেট। নানদানির বোলিংয়ের প্রশংসা করে যস্তিকা বলেন, ‘নান্দানি অসাধারণ বোলিং করেছে। তার স্লোয়ার বলগুলো ছিল দারুণ কার্যকর। অভিষেকের মঞ্চে এমন পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য দারুণ এক বার্তা।’
নান্দানি মূলত নারী প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউপিএল) থেকে উঠে আসা প্রতিভা। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ভারতীয় ক্রিকেটে প্রতিভার কোনো অভাব নেই এবং নতুনরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আসার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতের এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ। হারমানপ্রীত কৌর ছাড়া দলগতভাবে এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো এবং বড় স্কোর গড়াটা দলের গভীরতা নির্দেশ করে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের আগে কম্বিনেশন ঝালাই করার সুযোগ। যদিও তারা হার মেনেছে, তবে অ্যামি জোন্সের লড়াই তাদের জন্য ইতিবাচক দিক।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হারমানপ্রীত কৌর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। ইংল্যান্ডের জন্য ম্যাচটি হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁচা-মরার লড়াই। দেখার বিষয়, ব্রিস্টলের মাটিতে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না। তবে যস্তিকা ভাটিয়ার এই প্রত্যাবর্তন কেবল তার জন্য নয়, বরং ভারতীয় নারী ক্রিকেটের জন্যও এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি এখন আবার ক্রিকেটের মূল স্রোতে, আর ভারতীয় সমর্থকরাও তার ব্যাটে দেখছেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।