Vikram Rathour makes funny Vaibhav Sooryavanshi confession after Jofra Archer’s – বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করার রহস্য ফাঁস করলেন বিক্রম রাঠোর? জোফরা আর্চারও চুপ!
আইপিএল ২০২৬-এর মরসুমে ২২ গজে ব্যাট হাতে ঝড় তুলছেন এক তরুণ তুর্কি, যার নাম বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের এই ওপেনার এমন অপ্রতিরোধ্য ফর্মে রয়েছেন যে তাকে আটকাতে প্রতিপক্ষের বোলাররা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। ১৫ বছর বয়সী এই বিস্ময়বালক যেন কোনো ভয়ডর ছাড়াই প্রতিপক্ষ বোলারদের উপর চড়াও হচ্ছেন, আর তার সামনে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক বোলাররাও অসহায়। বিহারের এই তরুণ সেনসেশন যেন একাই প্রতি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছেন, আর তার ব্যাটিং দাপটে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব।
জোফরা আর্চারের রহস্যময় হাসি: বৈভবকে আটকানোর কৌশল অধরা
সম্প্রতি আইপিএল ২০২৬-এর এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে হারিয়ে রাজস্থান রয়্যালস কোয়ালিফায়ার-২ এ জায়গা করে নেয়। ম্যাচের পর ইংল্যান্ডের তারকা ফাস্ট বোলার জোফরা আর্চারকে একটি মজার প্রশ্ন করা হয়েছিল। প্রশ্ন ছিল, অনুশীলনের সময় তিনি বৈভবকে ঠিক কোন ডেলিভারি করেন বা কীভাবে বল করেন যাতে তাকে আউট করা যায়? প্রশ্ন শুনে জোফরা আর্চার কেবল হেসেছিলেন এবং সরাসরি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছিলেন, টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরেই তিনি এই বিষয়ে কথা বলবেন। তার এই রসিক উত্তর উপস্থিত সকলের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল, কিন্তু একইসাথে এটি বৈভবের ব্যাটিংয়ের ভয়াবহতাও স্পষ্ট করে দিয়েছিল। একজন বিশ্বমানের বোলারও অনুশীলনে এই তরুণ ব্যাটসম্যানকে আউট করা কতটা কঠিন, তা সম্ভবত এই উত্তরেই লুকিয়ে ছিল।
বিক্রম রাঠোরের মজার স্বীকারোক্তি: একমাত্র তিনিই বৈভবকে আউট করেন!
তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, রাজস্থান রয়্যালসের সেটআপে এমন একজন ব্যক্তি আছেন যিনি দাবি করেন যে তিনি নিয়মিত বৈভবকে নেটে আউট করতে পারেন! আর তিনি আর কেউ নন, দলের ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর। ভারতের প্রাক্তন এই ব্যাটিং কোচ এক লাইভ সম্প্রচারে সুনীল গাভাস্কারের এক প্রশ্নের উত্তরে এই মজার দাবিটি করেন। গাভাস্কার রাঠোরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, দলের মধ্যে কেউ কি বৈভবকে নেটে থামাতে পারেন? রাঠোর তখন হেসে উত্তর দিয়েছিলেন যে তিনি সাইডআর্ম থ্রোডাউনের মাধ্যমে বৈভবকে নিয়মিত আউট করতে পারেন। তবে তার রহস্য তিনি ফাঁস করেননি।
রাঠোর সকলের কৌতূহল জিইয়ে রেখেছিলেন এবং ব্যাখ্যা করতে রাজি হননি যে তিনি অনুশীলনে ঠিক কীভাবে এই তরুণ খেলোয়াড়কে সমস্যায় ফেলেন। বিক্রম রাঠোর বলেন, “আমার মনে হয় একমাত্র আমিই। আমি স্টিক দিয়ে থ্রো করি, এবং আমি তাকে প্রায়ই আউট করি। কিন্তু কেন, সেটা আমি আপনাদের বলছি না।” তার এই উক্তিটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ক্রিকেট মহলে এক মজার আলোচনার জন্ম দেয়। সকলেই জানতে চান, কীভাবে একজন কোচ আইপিএলের অন্যতম সেরা ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানকে আউট করেন, যখন বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলাররা হিমশিম খাচ্ছেন!
কোচ রাঠোরের সহজ মন্ত্র: “তাকে শুধু উপভোগ করতে দাও”
তবে মজার স্বীকারোক্তি সত্ত্বেও, রাঠোর স্বীকার করেছেন যে বৈভবকে কোচিং করানো খুব জটিল কাজ নয়। এর কারণ হলো, এই তরুণ ব্যাটসম্যান বর্তমানে অবিশ্বাস্য ছন্দে ব্যাট করছেন। অভিজ্ঞ কোচ ব্যাখ্যা করেছেন যে যখন একজন ব্যাটসম্যান এত দুর্দান্ত ফর্মে থাকেন, তখন একজন কোচ হিসেবে সবচেয়ে ভালো কাজ হলো চুপ করে থাকা এবং খেলোয়াড়কে নিজের খেলা উপভোগ করতে দেওয়া। অতিরিক্ত পরামর্শ বা টেকনিক্যাল পরিবর্তন তার সাবলীল ব্যাটিংয়ে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
রাঠোর বলেন, “সত্যি বলতে, সে যেভাবে ব্যাট করছে, একজন কোচ হিসেবে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখেছি যে, কখনও কখনও কিছুই না বলাটাই ভালো। আর যখন কেউ এইভাবে ব্যাট করে, তখন সেটিই তার সেরা ছন্দ। তাই আমি তাকে কিছুই বলছি না। শুধু নিজের ব্যাটিং উপভোগ করতে বলো, ভালো ব্যাট করার চেষ্টা করো, ব্যস এটুকুই।” এই দর্শনই বৈভবের মতো তরুণ প্রতিভাদের স্বাধীনভাবে নিজেদের খেলা খেলার সুযোগ করে দেয় এবং তাদের প্রাকৃতিক প্রতিভা বিকশিত হতে সাহায্য করে। রাঠোরের এই কোচিং পদ্ধতি প্রমাণ করে যে, অনেক সময় খেলোয়াড়দের সহজাত প্রবৃত্তি ও আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি।
বৈভবের সবচেয়ে বড় শক্তি: মানসিক দৃঢ়তা এবং দ্রুত শেখার ক্ষমতা
কোচ রাঠোর বিশ্বাস করেন যে বৈভবের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার মানসিকতা। এই তরুণ ব্যাটসম্যান কোনো বোলারকে ভয় পান না এবং সব সময় রান করার সুযোগ খোঁজেন। এমনকি ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করেন এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেন না। মাঠের বাইরেও তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন এবং প্রতিটি পরিস্থিতি থেকে দ্রুত শিখতে পারেন। তার শেখার ক্ষমতা এতটাই প্রবল যে একবার কোনো ভুল করলে বা কোনো নতুন বোলিং কৌশলের মুখোমুখি হলে তিনি দ্রুত তা আত্মস্থ করে ফেলেন এবং পরের বার তার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকেন।
রাঠোর অনুভব করেন যে যখনই দলগুলো বৈভবের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পরিকল্পনা নিয়ে আসে, বৈভব খুব দ্রুত মানিয়ে নেন এবং আক্রমণ করার আরেকটি উপায় খুঁজে বের করেন। আর ঠিক এই কারণেই এই মরসুমে বোলাররা তাকে আটকাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তার ব্যাটিংয়ে এমন এক সাবলীলতা রয়েছে যা তাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে রান করতে সাহায্য করে। এই adaptability-ই তাকে অন্য তরুণ ব্যাটসম্যানদের থেকে আলাদা করে তোলে এবং তাকে ভবিষ্যতের একজন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ভবিষ্যতের তারকা বৈভব: “সে প্রায় একজন জিনিয়াস”
বিক্রম রাঠোর বৈভবের প্রশংসা করে আরও যোগ করেন, “তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার খেলার উপর কাজ করা। সে প্রায় একজন জিনিয়াস, যেভাবে সে এই মুহূর্তে ব্যাট করছে। তবে সে যেভাবে তার ক্রিকেট নিয়ে ভাবে, সেটাও তার একটি বড় শক্তি। মানুষ যা যা চেষ্টা করছে, সে সেগুলোর জবাব দিচ্ছে। সব কিছু ভালোভাবে নিচ্ছে। সে অনুশীলন করে। আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে তার কাছে সব ধরনের শট আছে। এখন পর্যন্ত সে যা কিছুর মধ্য দিয়ে গেছে, সে brilliantly সেগুলোর জবাব দিয়েছে। দেখা যাক সে কতদূর যায়।”
রাঠোরের এই কথাগুলো বৈভবের প্রতিভা এবং সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরে। বৈভব সূর্যবংশী শুধু এই আইপিএল মরসুমের একটি চমক নন, বরং ভবিষ্যতের একজন সম্ভাব্য সুপারস্টার। তার আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং খেলার প্রতি নিবেদন তাকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। ক্রিকেট ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই তরুণ প্রতিভার আরও অনেক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখার জন্য। তার এই জয়যাত্রা সবে শুরু হয়েছে, এবং এটি কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।