Aitchison caps allround masterclass as Derbyshire rout Lancashire – ডার্বিশায়ারের ঐতিহাসিক জয়
চেস্টারফিল্ডে ডার্বিশায়ারের ঐতিহাসিক জয় এবং বেন এইচিসনের রাজত্ব
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-র ম্যাচে ল্যাঙ্কাশায়ারকে স্রেফ উড়িয়ে দিল ডার্বিশায়ার। চেস্টারফিল্ডের কুইন্স পার্কের সবুজ গালিচায় ডার্বিশায়ারের এই দাপুটে পারফরম্যান্স ক্রিকেট ভক্তদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে। ম্যাচের তৃতীয় দিনেই খেলা নিজেদের পকেটে পুরে নেয় ডার্বিশায়ার। প্রথম ইনিংসে ডার্বিশায়ারের করা ৩৬৪ রানের জবাবে ল্যাঙ্কাশায়ার তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৬১ রানে অলআউট হয়েছিল। ফলো-অন এড়াতে ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তারা ২২৬ রান তুলতে সক্ষম হয়। ফলে জয়ের জন্য ডার্বিশায়ারের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ২৪ রান। ৯ ওভারের মধ্যেই ১ উইকেট হারিয়ে সেই রান তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
মাইকেল হোল্ডিংয়ের পাশে বেন এইচিসন: এক অনন্য কীর্তি
ডার্বিশায়ারের পেসার বেন এইচিসন এই ম্যাচে যে অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ। দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে ৭৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলার পর, তৃতীয় দিনে বল হাতে তিনি ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটারদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেন। মাত্র ৪৯ রান খরচ করে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন তিনি। এই অসামান্য পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি স্পর্শ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার মাইকেল হোল্ডিংয়ের এক ঐতিহাসিক রেকর্ডকে। ১৯৮৩ সালের পর প্রথম ডার্বিশায়ার বোলার হিসেবে টানা তিনটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ইনিংসে ৫টি বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন এইচিসন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে।
ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয় ও মারকাস হ্যারিসের বিদায়
তৃতীয় দিনের সকালে ল্যাঙ্কাশায়ারের একমাত্র আশা ভরসা ছিলেন মারকাস হ্যারিস। ডার্বিশায়ারের বোলিং আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে ম্যাচটিকে অন্তত মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। কিন্তু দিনের শুরুতেই ল্যাঙ্কাশায়ার শিবিরে বড় আঘাত হানেন এইচিসন। আগের দিনের স্কোরের সাথে মাত্র ১ রান যোগ করতেই হ্যারিসকে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। এইচিসনের একটি ইনসুইং বলকে ড্রাইভ করতে গিয়ে নিজের স্ট্যাম্পে টেনে আনেন হ্যারিস। হ্যারিসের বিদায়ের সাথে সাথেই ডার্বিশায়ার শিবিরে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। কুইন্স পার্কের লেক এন্ডে চলতে থাকা খুদে ট্রেন ‘পাফিন বিলি’র হুইসেলের আওয়াজ যেন সেই আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
তরুণ জো মুরের প্রতিরোধ ও লড়াই
ল্যাঙ্কাশায়ারের এই শোচনীয় পরাজয়ের মাঝে একমাত্র ইতিবাচক দিক ছিল ১৭ বছর বয়সী উইকেটকিপার জো মুরের লড়াকু ব্যাটিং। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজের প্রথম অর্ধশতক হাঁকিয়ে তিনি ৫৭ রানের এক চোখধাঁধানো ইনিংস খেলেন। মুরের এই লড়াকু ইনিংসটি ল্যাঙ্কাশায়ারকে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা থেকে রক্ষা করে। তিনি ডার্বিশায়ারের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকান। বিশেষ করে ররি হেইডনের বোলিংয়ের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তিনি দর্শকদের আনন্দ দেন। তাঁর এই সাহসী ইনিংসটি দলের পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করেছে।
কফলিনের বিদায় ও ডার্বিশায়ারের সহজ জয়
অন্য প্রান্তে পল কফলিন কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছিলেন। অনুজ দালের ওভারে পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে তিনি রান তোলার গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তৃতীয় বাউন্ডারি মারার চেষ্টায় কফলিন মিড-অফে ধরা পড়েন। এরপর জো মুর ররি হেইডনের ওভারে দুটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে নিজের চমৎকার হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করেন। তবে ম্যাট মন্টগোমারির বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান এই তরুণ তুর্কি। জয়ের জন্য মাত্র ২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডার্বিশায়ার একমাত্র হ্যারি কেমের উইকেটটি হারায়। জর্জ ব্যাল্ডারসনের বলে কেম আউট হলেও লুইস রিস দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। এই জয়ের ফলে ডার্বিশায়ার পূর্ণ ২২ পয়েন্ট অর্জন করে এবং ল্যাঙ্কাশায়ারকে মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের নতুন সূর্যোদয়
ডার্বিশায়ারের ক্রিকেটের ইতিহাসে এই জয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৭ সালের পর থেকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে কোনো জয় পায়নি ডার্বিশায়ার। দীর্ঘ ২৭ বছরের এই খরা কাটল বেন এইচিসনের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে। ডার্বিশায়ারের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য এটি ছিল এক পরম আনন্দের মুহূর্ত। মাঠের চারপাশে দর্শকদের করতালিতে মুখরিত ছিল চেস্টারফিল্ডের কুইন্স পার্ক। এই ম্যাচটি প্রমাণ করেছে যে সঠিক পরিকল্পনা এবং দলগত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেওয়া সম্ভব। ল্যাঙ্কাশায়ার এই ম্যাচে প্রথম দিন থেকেই স্বাগতিকদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই ডার্বিশায়ার তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। এই পরাজয়টি ল্যাঙ্কাশায়ারের চলতি মৌসুমের চতুর্থ পরাজয়, যা তাদের জন্য অত্যন্ত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল।