Report

Leicestershire rout Yorkshire for first top-flight win since 2003

Avatar photo Karan Kapoor · · 1 min read

ক্রিকেট ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত: লেস্টারশায়ারের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম স্তরে দীর্ঘ ২২ বছর পর ঐতিহাসিক এক জয় তুলে নিল লেস্টারশায়ার। এই ম্যাচে তারা ইয়র্কশায়ারকে ইনিংস ও ৩৯ রানে পরাজিত করেছে। উপটনস্টিল গ্রেস রোডের মাঠে এই জয়টি কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ জয় নয়, এটি ছিল লেস্টারশায়ারের জন্য দীর্ঘদিনের নির্বাসন এবং হতাশা কাটিয়ে ওঠার গল্প। চার ম্যাচ টানা হারের পর পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে থাকা দলটি যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে। গত বছর দ্বিতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রথম স্তরে উন্নীত হওয়া দলটি অবশেষে তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিল।

রেহান ও কেলির ব্যাটে রানের পাহাড়

ম্যাচের শুরু থেকেই লেস্টারশায়ারের ব্যাটিং ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম ইনিংসে তারা ৪৫৩ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। দলের এই বড় স্কোরের পেছনে মূল অবদান ছিল তরূণ অলরাউন্ডার রেহান আহমেদ এবং নিক কেলির। রেহান আহমেদ দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ১২৮ রান করেন, যা তার পরিপক্কতার প্রমাণ দেয়। অন্যদিকে কেলি খেলেন ১২১ রানের এক অসাধারণ ইনিংস। এই দুই সেঞ্চুরির ওপর ভর করেই মূলত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় লেস্টারশায়ার। এছাড়া ঋষি প্যাটেল (৬৭) এবং টম ইভিসন (৫৫) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ইয়র্কশায়ারের হয়ে বল হাতে ড্যান মরিয়ার্টি ৪টি উইকেট নিলেও তা লেস্টারশায়ারের রানের গতি রোধ করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ইয়র্কশায়ারের প্রথম ইনিংসের বিপর্যয় এবং অ্যালেক্স গ্রিনের আবির্ভাব

৪৫৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইয়র্কশায়ার প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। জেমস ওয়ারটন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করলেও বাকি ব্যাটাররা পুরোপুরি ব্যর্থ হন। লেস্টারশায়ারের হয়ে বল হাতে নিজের জাত চেনান ১৯ বছর বয়সী তরুণ পেসার অ্যালেক্স গ্রিন। এই তরুণ তুর্কি মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন, যা ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার প্রথম সাফল্য। গ্রিনের গতি এবং সুইংয়ের সামনে ইয়র্কশায়ারের ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। প্রথম ইনিংসের এই চরম ব্যর্থতার কারণেই ইয়র্কশায়ারকে ফলো-অন করতে বাধ্য হতে হয় এবং ম্যাচটি মূলত সেখানেই তাদের হাত থেকে ফসকে যায়।

তৃতীয় দিনের নাটকীয়তা ও জনি বেয়ারস্টোর শূন্য রানে বিদায়

দ্বিতীয় দিন শেষে ইয়র্কশায়ার তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। ইনিংস পরাজয় এড়াতে তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ২৩৬ রান। কিন্তু তৃতীয় দিনের শুরুতেই তাদের সেই আশার গুড়ে বালি পড়ে। দিনের তৃতীয় ওভারেই উইকেটরক্ষক বেন কক্স দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে স্যাম হোয়াইটম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। এরপর ক্রিজে আসেন ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার জনি বেয়ারস্টো। তবে তার ইনিংস স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৩ বল। তরুণ পেসার অ্যালেক্স গ্রিন দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বেয়ারস্টোকে বোল্ড করে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই পেসারের গতি ও বাউন্স ইয়র্কশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপকে তছনছ করে দেয়।

মিডল অর্ডারের প্রতিরোধ এবং প্যাটেলের ঘূর্ণি জাদু

বেয়ারস্টোর বিদায়ের পর জেমস ওয়ারটন এবং ম্যাথিউ রিভিস কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। তবে গ্রিন আবারও আঘাত হেনে রিভিসকে উইকেটরক্ষকের ক্যাচে পরিণত করেন। কিছুক্ষণ পর ওয়ারটনকে বোল্ড করেন নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ স্পিনার এজাজ প্যাটেল। এরপরেও ইয়র্কশায়ারের লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ডম বেস এবং ড্যান মরিয়ার্টি লড়াকু মনোভাব প্রদর্শন করেন। বেস ৭টি চারের সাহায্যে ৪০ রান করেন এবং মরিয়ার্টি শেষ উইকেটে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেন। মরিয়ার্টি তার ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ৫১ রান করে দলকে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। শেষ উইকেটে তারা ৯৫ রান যোগ করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।

ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দ ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

অবশেষে অ্যালেক্স গ্রিন ইয়র্কশায়ারের শেষ ব্যাটার জ্যাক হোয়াইটকে ২১ রানে বোল্ড করলে লেস্টারশায়ারের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়। ইয়র্কশায়ারের দ্বিতীয় ইনিংস ২২৯ রানে গুটিয়ে যায়। লেস্টারশায়ারের হয়ে বল হাতে এজাজ প্যাটেল ৩টি, জশ ডেভি ৩টি এবং অ্যালেক্স গ্রিন ৩টি উইকেট নেন। গত সপ্তাহে এসেক্সের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া দলটির এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তন আসলেই অবিশ্বাস্য। অন্যদিকে, শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মৌসুম শুরু করা ইয়র্কশায়ার এখন রেলিগেশনের আশঙ্কায় ভুগছে। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর ২৩ পয়েন্ট নিয়ে লেস্টারশায়ার টেবিলের তলানি থেকে উঠে আসার লড়াইয়ে দারুণ এক ধাপ এগিয়ে গেল।

Share
Avatar photo
Karan Kapoor

Karan Kapoor specializes in cricket statistics, fantasy cricket strategy, and player performance evaluation. His articles provide data-backed insights for fans, analysts, and fantasy league participants.