Allround effort from Durham secures victory at Yorkshire
ডারহামের দাপুটে জয়
ভাইটালিটি ব্লাস্টের চলতি আসরে ডারহাম তাদের ছন্দময় যাত্রা বজায় রেখেছে। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তারা ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ২১ রানের এক দাপুটে জয় পেয়েছে। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে এটি তাদের চতুর্থ জয়। ডারহামের ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইয়র্কশায়ার ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, ফলে তারা টানা পঞ্চমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারের স্বাদ পেল।
ব্যাটিংয়ে ডারহামের সম্মিলিত প্রচেষ্টা
ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সুযোগ পায় ডারহাম। তাদের ১৫৫ রানের ইনিংসটিতে কোনো একক ব্যাটার বড় ইনিংস না খেললেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা লড়াই করার মতো সংগ্রহ দাঁড় করায়। বেস হিথ ২৫ বলে ৩৬ রানের সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন। এছাড়া অধিনায়ক হলি আর্মিটেজ ২৪ এবং উইকেটরক্ষক মিয়া রজার্স ২৯ রানে অপরাজিত থেকে দলের পুঁজিকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যান। ডারহামের শীর্ষ ছয় ব্যাটারের প্রত্যেকেই ১৭ রানের বেশি সংগ্রহ করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শুরুর তিন ওভারে ডারহাম ৩২ রান তুলেছিল, যদিও পরবর্তীতে ইয়র্কশায়ারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে রান রেট কিছুটা ধীর হয়ে যায়।
ইয়র্কশায়ারের বোলিং পারফরম্যান্স
ইয়র্কশায়ারের হয়ে হানা রেনি দারুণ প্রত্যাবর্তন করেন। চোট কাটিয়ে দলে ফিরে তিনি দুই উইকেট শিকার করেন। এছাড়া অভিজ্ঞ ক্লোডি কুপার ১৭তম ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ডারহামের রানের চাকা থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার সারা গ্লেন তার অভিষেক ম্যাচে এক উইকেট পান এবং বেশ কিপটে বোলিং করেন। তবে শেষ দিকে মিয়া রজার্সের মারমুখী ব্যাটিং ইয়র্কশায়ারের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে দেয়।
ইয়র্কশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয়
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইয়র্কশায়ারের শুরুটা ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে। লরেন উইনফিল্ড-হিল এবং এরিন থমাস পাওয়ারপ্লে চলাকালীনই বিদায় নেন। ডারহামের বোলার কেটি লেভিক এবং ট্রুডি জনসন শুরুতেই চাপ সৃষ্টি করেন। সারা গ্লেন এবং জেস জোনাসেন ক্রিজে কিছুটা সময় কাটালেও রানের গতি বাড়াতে ব্যর্থ হন। জোনাসেন গ্রহামের বলে বোল্ড হলে ইয়র্কশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে।
বোলারদের আধিপত্য
ডারহামের লেগ-স্পিনার কেটি লেভিক তার পুরনো ডেরায় ফিরে এসে দারুণ পারফর্ম করেন। চার ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচায় তিনি ২ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া হেদার গ্রহাম ৩ উইকেট এবং সোফিয়া টার্নার ২ উইকেট নিয়ে ইয়র্কশায়ারের জয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি নষ্ট করে দেন। ইয়র্কশায়ারের হয়ে অ্যালিস ক্লার্ক শেষদিকে কিছুটা লড়াই করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। গ্রহামের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি ৩২ রান করেন। সব মিলিয়ে ডারহামের বোলিং আক্রমণ ইয়র্কশায়ারকে কখনোই স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে দেয়নি। এই জয়ে ডারহামের পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো, অন্যদিকে ইয়র্কশায়ারের জন্য হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা আরও কঠিন হয়ে পড়ল।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
- ডারহাম: ১৫৫/৬ (হিথ ৩৬, রজার্স ২৯*)
- ইয়র্কশায়ার: ১৩৪/৮ (ক্লার্ক ৩২, গ্রহাম ৩/৩১, লেভিক ২/১৩)
- ফলাফল: ডারহাম ২১ রানে জয়ী।
ডারহামের এই জয় প্রমাণ করে যে তাদের দলের গভীরতা এবং দলীয় সংহতি যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য যথেষ্ট। তাদের এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে তারা আরও বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।