Out of the ordinary: Amanda-Jade Wellington adjusts to a new ‘normal’
নতুন জীবনের পথে আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটন
অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটন যখন জীবনের এক নতুন ‘স্বাভাবিক’ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তিনি এমন কিছু করে দেখালেন যা সত্যিই অসাধারণ। তাঁর হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর শারীরিক সংকট। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ‘এসভিটি’ (Supraventricular Tachycardia) নামক এক জটিল হৃদরোগে ভুগছিলেন। এই অবস্থায় হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেতের ত্রুটির কারণে হঠাৎ করেই হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যেত।
অস্ত্রোপচার ও মাঠে ফেরা
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যার সমাধানে ‘অ্যাবলেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় তাপ বা শীতল শক্তি প্রয়োগ করে ত্রুটিপূর্ণ সংকেত ব্লক করা হয়। অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আমান্ডা এই জটিল অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হন। অস্ত্রোপচারের মাত্র তিন মাস পরই তিনি হ্যাম্পশায়ারের হয়ে ভাইটালিটি ব্লাস্টে এসেক্সের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট শিকার করেন, যার মধ্যে ছিল একটি হ্যাট্রিকও। এটি তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
নতুন হৃদস্পন্দনের অভিজ্ঞতা
নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমান্ডা জানান, তিনি এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই চমৎকার অনুভব করছি। এখন আমার হৃদস্পন্দন পুরোপুরি স্বাভাবিক, যা আমার জন্য এক অদ্ভুত কিন্তু আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। প্রথম কয়েকদিন তো নিজের হৃদস্পন্দন অনুভব করে অবাক হতাম, কারণ এটা আমার জন্য আগে কখনও স্বাভাবিক ছিল না।’
মানসিক প্রস্তুতি ও সাহস
অস্ত্রোপচারের আগেকার দিনগুলো ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। নিজের সঙ্গীর সঙ্গে জীবনের কঠিনতম কথোপকথন সারতে হয়েছিল তাঁকে। তবে পরিবার এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া দলের সতীর্থদের অকুন্ঠ সমর্থন তাঁকে এই কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। সতীর্থদের মাঝে নিজেকে দুর্বল প্রকাশ করতে পেরে তিনি স্বস্তি অনুভব করেছেন, যা তাঁকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করেছে। হ্যাম্পশায়ার দলেও তিনি একই ধরনের উষ্ণতা ও আপন করে নেওয়ার মতো পরিবেশ পেয়েছেন।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ
বর্তমানে আমান্ডা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেয়ে ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে নিজের সুযোগ সীমিত হয়ে আসলেও তিনি দমে যাননি। তিনি বিশ্বাস করেন, ক্রিকেটে তাঁর আরও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি আছে। তিনি বলেন, ‘যতদিন সম্ভব খেলে যেতে চাই। ৩৮ বা ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত লেগ স্পিন বল করে যেতে চাই। ক্রিকেট আমার জীবনের বড় অংশ এবং আমি এর সঙ্গে সব সময় যুক্ত থাকতে চাই।’
মাঠের বাইরের পরিকল্পনা
শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, ক্রিকেট পরবর্তী জীবনেও আমান্ডা এই খেলার সঙ্গেই থাকতে চান। ধারাভাষ্য এবং স্পিন কোচিংয়ে নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন তিনি। মাঠের ভেতরের দক্ষতা আর মাঠের বাইরের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকতে চান তিনি। আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটনের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি কেবল একজন ক্রিকেটারের নয়, বরং সাহসিকতা ও লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। তাঁর এই নতুন ‘স্বাভাবিক’ জীবন হয়তো তাঁকে ক্যারিয়ারের সেরা সময় উপহার দেবে, যেখানে ক্রিকেট আর জীবন মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে।