Lawrence’s latest hundred not enough for Surrey win – or England call-up
একটি অসাধারণ কিন্তু অপূর্ণ প্রচেষ্টার গল্প
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে দ্য কিয়া ওভালে সারের হয়ে ড্যান লরেন্স যা প্রদর্শন করলেন, তা নিঃসন্দেহে ক্রিকেট ভক্তদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে। প্রথম ইনিংসে ১৯০ বলে ২১৮ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৬৪ বলে ১০১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন তিনি। কিন্তু এত কিছুর পরেও সারের জন্য ম্যাচটি ড্রয়ের চেয়ে বেশি কিছু পাওয়া সম্ভব হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত, লরেন্সের এই অবিশ্বাস্য ফর্ম ইংল্যান্ডের নির্বাচকদের মন গলাতে পারেনি, যার ফলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের ১৫ সদস্যের দলে তার নাম জায়গা পায়নি। তার পরিবর্তে জর্ডান কক্সকে অতিরিক্ত ব্যাটার হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও প্রতিকূল পরিস্থিতি
প্রথম তিন দিনে ৯২ ওভার নষ্ট হওয়ার কারণে সারের জন্য জয় পাওয়া কঠিন ছিল। শেষ দিনে সারে যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৫৭ রান নিয়ে শুরু করেছিল, তখন তাদের লিড ছিল ১৪৫ রানের। লরেন্সের সঙ্গে ডম সিবলির অপরাজিত ১০৫ রানের জুটিতে সারে লাঞ্চের আগেই ৫ উইকেটে ২৫৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। হ্যাম্পশায়ারের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬৪ ওভারে ৩৪৮ রান। যদিও রিস টপলি দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে আশা জাগিয়েছিলেন, কিন্তু আলি অর এবং জেক লেহম্যানের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই গড়ায়।
রেকর্ডবুক ও লরেন্সের রাজত্ব
লরেন্সের এই ইনিংসটি ঐতিহাসিক। ১৯৯০ সালে ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে গ্রায়েম হিকের পর তিনিই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের এক ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেছেন। এর আগে সারের হয়ে মার্ক রামপ্রকাশ (২০১০) এবং স্কট নিউম্যান (২০০৫) এই কীর্তি গড়েছিলেন। লরেন্সের ব্যাটিংয়ে ছিল সাতটি চার এবং পাঁচটি ছয়ের ঝলকানি। বিশেষ করে ফিলিক্স অর্গান এবং জেমস ফুলারের বোলিংয়ে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ছিল দেখার মতো।
নির্বাচকদের উপেক্ষা ও ভবিষ্যতের ভাবনা
লরেন্স যখন মাঠ কাঁপিয়ে সেঞ্চুরি হাঁকাচ্ছিলেন, তখন মাঠের বাইরে ঘোষিত ইংল্যান্ডের টেস্ট দল অনেকের মনেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। গত শুক্রবার ভাইটালিটি ব্লাস্টেও তিনি হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ৯৪ রান করেছিলেন। ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়ার পরও জাতীয় দলে ডাক না পাওয়া তার ক্যারিয়ারের জন্য এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচকরা হয়তো ভিন্ন কিছুর খোঁজে আছেন, তবে ড্যান লরেন্স যে বর্তমানে ইংল্যান্ডের সেরা ফর্মে থাকা ক্রিকেটারদের একজন, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তের চিত্র
শেষ দিনে হ্যাম্পশায়ার তাদের পতন রোধ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। আলি অর ১২১ বলে অপরাজিত ৫৩ রান এবং লেহম্যান ১০৩ বলে অপরাজিত ২৬ রান করে ম্যাচটিকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান। আম্পায়াররা যখন বিকেল ৫টায় খেলা শেষ ঘোষণা করেন, তখন হ্যাম্পশায়ার ২ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান তুলেছিল। সারে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে জয়ের জন্য, কিন্তু বল হাতে লেহম্যানকে আউট করতে না পারা এবং প্রকৃতির বিরূপ আচরণ সব মিলিয়ে জয় অধরাই থেকে গেল।
উপসংহার
সবমিলিয়ে, ড্যান লরেন্সের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে যে তিনি বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার জন্য প্রস্তুত। যদিও এই ম্যাচে দলগত জয় আসেনি এবং জাতীয় দলের দুয়ারও তার জন্য খোলেনি, তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের এই মরসুমে লরেন্সের ব্যাটিং সারের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে, কিন্তু জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন পূরণে তাকে আরও হয়তো কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।