Ambati Rayudu admits he would trade 6 IPL titles for World Cup game; Aaron Finch মন্তব্য
বিশ্বকাপ খেলার অপূর্ণ স্বপ্ন অম্বাতি রাইডুর
ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম মেধাবী অথচ দুর্ভাগা ব্যাটারদের কথা বললে অম্বাতি রাইডুর নাম আসবেই। ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৭৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি নজর কেড়েছিলেন। ২০০৪ সালে ভারত তার নেতৃত্বেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবুও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার বড় মঞ্চে খেলার স্বপ্ন পুরোপুরি সফল হয়নি। সম্প্রতি এক প্যানেল আলোচনায় অম্বাতি রাইডু admits he would trade 6 IPL titles for World Cup game; Aaron Finch-এর উপস্থিতিতে এক বড় বোমা ফাটিয়েছেন।
আইপিএল সাফল্যের পাহাড় বনাম বিশ্বকাপের আক্ষেপ
রাইডু আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সফল ক্রিকেটার। তিনি মোট ছয়বার আইপিএল ট্রফি জিতেছেন। এর মধ্যে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তিনটি এবং চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে তিনটি শিরোপা রয়েছে। রোহিত শর্মার পর রাইডুই হলেন একমাত্র খেলোয়াড় যার ঝুলিতে ৬টি আইপিএল খেতাব রয়েছে। তা সত্ত্বেও, তার মনে এক গভীর ক্ষত রয়ে গেছে, আর তা হলো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না পাওয়া।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর একটি প্যানেল আলোচনায় অ্যারন ফিঞ্চ যখন তাকে জিজ্ঞেস করেন যে, এই ছয়টি আইপিএল শিরোপার বিনিময়ে তিনি বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ নিতে চান কি না, রাইডু এক মুহূর্ত দেরি না করে বলেন, “হ্যাঁ, আমি অবশ্যই এই ছয়টি ট্রফি ছেড়ে দিতাম যদি তার বদলে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেতাম।”
অ্যারন ফিঞ্চের বিস্ময়
রাইডুর এই অকপট স্বীকারোক্তিতে অবাক হয়েছেন খোদ অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ফিঞ্চ বলেন, “ছয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা অবিশ্বাস্য। যখনই স্ক্রিনে অম্বাতি রাইডুর নামের পাশে ছয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন লেখা ওঠে, আমার সেটা দেখে চোখ কপালে ওঠে। বিশ্বের কঠিনতম ঘরোয়া লিগে দুটি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে এই সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ।”
রাইডুর ক্যারিয়ারের বাঁক বদল
রাইডুর ক্যারিয়ার মোটেও মসৃণ ছিল না। ২০০৭ সালে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে যোগ দেওয়ায় বিসিসিআইয়ের রোষানলে পড়তে হয়েছিল তাকে। যার ফলে ২০১০ সাল পর্যন্ত আইপিএলে অংশ নিতে পারেননি তিনি। এরপর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে ট্রফি জেতেন। পরবর্তীতে চেন্নাই সুপার কিংসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ২০১৮, ২০২১ এবং ২০২৩ সালে আরও তিনটি শিরোপা জেতেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছা বারবার অপূর্ণ থেকেছে।
কেন বিশ্বকাপ অধরা রয়ে গেল?
রাইডু ভারতের হয়ে ৫৫টি ওয়ানডে এবং ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকলেও একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ পাননি। এরপর ২০১৯ বিশ্বকাপে চার নম্বর পজিশনের প্রধান দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও একেবারে শেষ মুহূর্তে তাকে বাদ দিয়ে বিজয় শঙ্করকে সুযোগ দেওয়া হয়, যা আজও ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এক বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
রাইডু তার ক্যারিয়ারে অন্ধ্রপ্রদেশ, বরোদা, হায়দরাবাদ এবং বিদর্ভের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ভালো দলের অংশ হওয়ায় তিনি আইপিএলে এত সাফল্য পেয়েছেন, তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার আক্ষেপ তিনি কখনোই লুকাতে পারেননি।
উপসংহার
একজন ক্রিকেটারের কাছে ঘরোয়া লিগের সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চের সাফল্যের গুরুত্ব যে আলাদা, তা রাইডুর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। আইপিএলের ছয়টি ট্রফি হয়তো তার ব্যক্তিগত সাফল্যের মুকুটে বড় পালক, কিন্তু তার হৃদয়ের এক কোণে বিশ্বকাপ খেলার অপূর্ণতা যে রয়েই গেছে, তা এই মন্তব্যের মাধ্যমেই প্রকাশ পেল। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে রাইডুর এই সততা ও খেলার প্রতি ভালোবাসা সবসময় সম্মানযোগ্য হয়ে থাকবে।