“Skipping handshakes is a red flag” – Ambati Rayudu, Mark Boucher react to Virat Kohli-Travis Head controversy
আইপিএল ২০২৬: মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বিতর্কের শীর্ষে হ্যান্ডশেক ও সেলিব্রেশন
আইপিএল ২০২৬ এর মরশুম মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি চর্চিত হচ্ছে নানা বিতর্কিত ঘটনার কারণে। বিশেষ করে ২২ মে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মধ্যকার লড়াইয়ের পর বিরাট কোহলি এবং ট্রাভিস হেডের হ্যান্ডশেক নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ক্রিকেট মহলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বিষয়ে প্রাক্তন দুই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার আম্বাতি রাইডু এবং মার্ক বাউচার তাদের কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
হ্যান্ডশেক এড়িয়ে যাওয়া কি স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের বিরোধী?
একটি র্যাপিড-ফায়ার সেশনে আম্বাতি রাইডু এবং মার্ক বাউচারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ম্যাচের শেষে হ্যান্ডশেক এড়িয়ে যাওয়াকে তারা কীভাবে দেখেন। তাদের উত্তর ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। তারা জানিয়েছেন, “Skipping handshakes is a red flag” – Ambati Rayudu, Mark Boucher react to Virat Kohli-Travis Head controversy শিরোনামে উঠে আসা এই বিষয়টি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। রাইডু ও বাউচারের মতে, ম্যাচের তীব্র উত্তেজনা বা চাপের অজুহাত দিয়ে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের সাথে সৌজন্যমূলক হ্যান্ডশেক না করা খেলার স্পিরিটের পরিপন্থী এবং এটি একটি অশোভন আচরণ।
পকেট চিট উদযাপন: নতুন ফ্যাশন নাকি অহেতুক নাটক?
আইপিএল ২০২৬-এ আরও একটি বিষয় ব্যাপক আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে, তা হলো খেলোয়াড়দের ‘পকেট চিট’ উদযাপন। আকাশ সিং, উর্বিল প্যাটেল বা রঘু শর্মার মতো খেলোয়াড়রা মাঠের ভেতরে হাতে লেখা নোট প্রদর্শন করে মাইলফলক বা উইকেট উদযাপন করছেন। তবে অভিজ্ঞ এই দুই ক্রিকেটার এই প্রবণতাকেও ভালো চোখে দেখেননি। রাইডু এবং বাউচার মনে করেন, এই ধরণের পূর্বপরিকল্পিত অঙ্গভঙ্গি ক্রিকেটের স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করে এবং মাঠের খেলায় এর কোনো প্রয়োজন নেই।
ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম ও অন্যান্য বিতর্ক
এই আলোচনায় কেবল হ্যান্ডশেক নয়, উঠে এসেছে আইপিএলের বিতর্কিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মটিও। মার্ক বাউচার এই নিয়মটির ঘোর বিরোধী হলেও আম্বাতি রাইডুর মত কিছুটা ভিন্ন। রাইডুর দাবি, ভারতে মানসম্পন্ন অলরাউন্ডারের অভাব থাকায় এই নিয়মটি দলগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে। এছাড়া লাইভ ইন্টারভিউতে খেলোয়াড়দের অনিচ্ছাকৃত গালিগালাজ নিয়েও বাউচার তার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, এটিকে তিনি খেলার চাপ থেকে হওয়া একটি ‘সততার ভুল’ হিসেবেই দেখছেন।
খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত আচরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া
ইনজুরি সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা বা প্রতিপক্ষের দর্শকদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো নিয়ে বাউচার জানান, এগুলো পেশাদার ক্রিকেটের অংশ। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যেকার বাক্য বিনিময় নিয়ে আম্বাতি রাইডু সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, মাঠের বাইরের আলোচনা বা ঠাট্টা-তামাশা ততক্ষণই গ্রহণযোগ্য, যতক্ষণ তা সম্মানজনক সীমার মধ্যে থাকে। ব্যক্তিগত আক্রমণ ক্রিকেট সংস্কৃতির অংশ হওয়া উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সামগ্রিকভাবে, আইপিএল ২০২৬ কেবল নতুন প্রতিভা তুলে আনার মঞ্চ নয়, বরং এটি পেশাদার ক্রিকেটের নৈতিকতা ও আচরণের সীমানা নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাইডু এবং বাউচারের এই বিশ্লেষণ ক্রিকেটপ্রেমীদের নতুন করে ভাবাচ্ছে যে, প্রতিযোগিতার নামে আমরা কি মাঠের সৌজন্যবোধ হারিয়ে ফেলছি?