Broad, Sanderson and Sales help keep Northants winning run going – নর্থ্যান্টসের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করলেন ব্রড, স্যান্ডারসন এবং সেলস
ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-২০ প্রতিযোগিতা ভাইটালিটি ব্লাস্টে নর্থাম্পটনশায়ার স্টিলব্যাকস তাদের দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত রেখেছে, একটি লো-স্কোরিং কিন্তু রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ডারহামকে মাত্র সাত রানে পরাজিত করে তারা। এই জয়টি নর্থাম্পটনশায়ারের জন্য ছিল টানা পঞ্চম জয়, যা তাদের সেন্ট্রাল অ্যান্ড ওয়েস্ট গ্রুপে শীর্ষস্থানে আরও মজবুত করেছে। অন্যদিকে, ডারহাম তাদের শেষ পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় পরাজয়ের স্বাদ পেল। ব্যাংঙ্কস হোমস রিভারসাইডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নর্থাম্পটনশায়ার তাদের ১৪৬ রানের লক্ষ্য সফলভাবে ডিফেন্ড করে বোলারদের অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
নর্থাম্পটনশায়ারের ইনিংস: লড়াইয়ের মধ্যে ১৪৫ রান
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নর্থাম্পটনশায়ার স্টিলব্যাকস শুরুটা খুব একটা ভালো করতে পারেনি। পিচের মন্থর গতি এবং ডারহামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে রান তুলতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে, জাস্টিন ব্রড (৩৬ রান, ৩২ বল) ছিলেন দলের সর্বোচ্চ স্কোরার, যিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হাল ধরেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি ছক্কা, যা স্কোরবোর্ডে কিছু গতি যোগ করে।
ডারহামের বাঁ-হাতি স্পিনার ক্যালাম পার্কিনসন (৩/১৯) ছিলেন বল হাতে দুর্দান্ত। তিনি অস্ট্রেলিয়ান দুই বিদেশী খেলোয়াড় ক্রিস লিন এবং নাথান ম্যাকসুইনিকে অল্প রানে সাজঘরে ফিরিয়ে নর্থাম্পটনশায়ারকে শুরুতেই চাপে ফেলে দেন। পাওয়ারপ্লেতে বেন রেইন ওপেনার রিকার্ডো ভাসকনসেলোসকে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন।
অধিনায়ক ডেভিড উইলি (২৬ রান) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ১২তম ওভারে পার্কিনসনের বলে লং-অফে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। এরপর জাস্টিন ব্রড এবং সাইফ জাইব (২৫ রান) পঞ্চম উইকেটে ৪৭ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। কিন্তু মন্থর পিচে দ্রুত রান তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। ইনিংসের শেষ চার ওভারে ডারহামের বোলাররা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে, মাত্র ২৬ রানের বিনিময়ে পাঁচটি উইকেট তুলে নেয়। নাথান সোটারের মিতব্যয়ী লেগস্পিনে জাইব আউট হন, এবং ব্রড রেইনের বলে লং-অফে ক্যাচ দেন। কাসে অ্যালড্রিজ তার দুটি উইকেট এই সময়েই তুলে নেন, যার মধ্যে লুইস ম্যাকম্যানাসের চমৎকার একটি কট অ্যান্ড বোল্ড ছিল। শেষ পর্যন্ত, নর্থাম্পটনশায়ার ৯ উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে।
ডারহামের তাড়া: ম্যাককিনি’র লড়াই এবং স্যান্ডারসনের আঘাত
১৪৬ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ডারহামের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। ডেভিড উইলি ডারহামের ইনিংসের প্রথম বলেই গ্রাহাম ক্লার্ককে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট করেন। তবে, বেন ম্যাককিনি (৩৩ রান) দ্রুতই নিজের ছন্দ খুঁজে পান। তিনি উইলির বলে দুটি বাউন্ডারি মারেন এবং ম্যাকসুইনির অফস্পিনে একটি ছক্কা সহ ১৬ রান তুলে নেন চতুর্থ ওভার থেকে। তার ছক্কাটি রিভারসাইডের মিডিয়া সেন্টারের নিচতলায় গিয়ে আছড়ে পড়ে, যা তার আক্রমণাত্মক মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।
তবে, বেন স্যান্ডারসন পঞ্চম ওভারে পর পর দুটি বলে উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিনি অ্যালেক্স লিসের লেগ-স্টাম্প উপড়ে ফেলেন এবং অলি রবিনসনকে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে পাঠান, যার ফলে ডারহামের স্কোর ৪১ রানে ৩ উইকেটে পরিণত হয়। অষ্টম ওভারে সাইফ জাইবের প্রথম বলে ম্যাককিনি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে ডারহামের স্কোর দাঁড়ায় ৫৩ রানে ৪ উইকেট।
এরপর নাথান ম্যাকসুইনি পরবর্তী দুটি উইকেটে অবদান রাখেন, যখন ডারহামের স্কোর ১৪তম ওভারে ৯০ রানে ৬ উইকেটে নেমে আসে। তিনি কলিন অ্যাকারম্যানকে কভারে ক্যাচ আউট করান এবং একটি রান আউট করে অ্যালড্রিজকে স্ট্রাইকার প্রান্তে ফিরিয়ে দেন, যিনি দ্বিতীয় রান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। উইল রোডস এবং বেন রেইন এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু রেইন সেলসের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান, যখন ডারহামের স্কোর ছিল ১৭ ওভারে ১১৩ রানে ৭ উইকেট।
জেমস সেলসের স্নায়ুচাপহীন বোলিং: শেষ ওভারের নায়ক
ম্যাচটি শেষ দুই ওভারে ২৪ রানের সমীকরণে এসে দাঁড়ায়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ডারহামের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান, যেখানে উইল রোডস ২৯ রানে এবং টি-২০ অভিষেক হওয়া জেমস মিন্টো ক্রিজে ছিলেন। নর্থাম্পটনশায়ারের জন্য এই চাপ সামলানোর দায়িত্ব পড়ে তরুণ জেমস সেলসের কাঁধে। তিনি তার স্নায়ুচাপ ধরে রেখে অবিশ্বাস্য বোলিং করেন। শেষ ওভারে রোডসকে (৩১ রান) মিড-অফে ক্যাচ আউট করে তিনি ডারহামের জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ করেন। সেলস তার দুটি ওভার থেকে মাত্র ১০ রান দিয়ে দুটি উইকেট লাভ করেন, যা ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তার এই পারফরম্যান্স নর্থাম্পটনশায়ারকে একটি রোমাঞ্চকর জয় এনে দেয় এবং তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে।
গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের তাৎপর্য
এই ম্যাচে নর্থাম্পটনশায়ারের জাস্টিন ব্রড, বেন স্যান্ডারসন এবং জেমস সেলস তাদের দলীয় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ব্রডের ৩৬ রানের ইনিংস মন্থর পিচে একটি সম্মানজনক স্কোর গড়তে সাহায্য করে। স্যান্ডারসনের জোড়া উইকেট ডারহামের ইনিংসের মাঝপথে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। এবং সেলসের শেষ ওভারের স্নায়ুচাপহীন বোলিং নিশ্চিত করে নর্থাম্পটনশায়ারের জয়। এছাড়া, ক্যালাম পার্কিনসনের ৩/১৯ বোলিং এবং কাসে অ্যালড্রিজের তিনটি ক্যাচ সহ দুটি উইকেটও নর্থাম্পটনশায়ারকে জয় এনে দিতে সাহায্য করেছে।
এই জয় ভাইটালিটি ব্লাস্টে নর্থাম্পটনশায়ারের অপ্রতিরোধ্য ফর্মের প্রমাণ। তারা শুধু ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতে এবং ফিল্ডিংয়েও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। ডারহামের জন্য এটি একটি হতাশার ম্যাচ ছিল, যেখানে তারা জয়ের খুব কাছে এসেও শেষ পর্যন্ত তা হাতছাড়া করে। নর্থাম্পটনশায়ার এখন আত্মবিশ্বাসের সাথে তাদের পরবর্তী ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে, কারণ তারা তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর।