Report

Henry five-for secures New Zealand lead despite Fisher rearguard: ওভালে কিউইদের দাপট

Avatar photo Krish Nair · · 1 min read

ওভালে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের লিড ও ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতি

লন্ডনের ওভালে চলমান দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চালকের আসনে বসেছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের ৩৯১ রানের জবাবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ২৯১ রানে গুটিয়ে দিয়ে ঠিক ১০০ রানের মূল্যবান লিড নিয়েছে কিউইরা। তবে ম্যাচের এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল এই লিডের ব্যবধান আরও অনেক বড় হবে। কিন্তু ইংল্যান্ডের নয় নম্বর ব্যাটসম্যান ম্যাথিউ ফিশারের অদম্য লড়াই এবং শেষ উইকেটে সনি বেকারের সাথে গড়া ৫৩ রানের দুর্দান্ত জুটি ইংলিশ শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। কিউই পেসার ম্যাট হেনরির বিধ্বংসী বোলিংয়ের পরও ইংল্যান্ডের এই প্রতিরোধ টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যকে আরও একবার ফুটিয়ে তুলেছে।

ম্যাট হেনরির আগুন ঝরানো বোলিং ও প্রথম ৫ উইকেট

তৃতীয় দিনের সকালে ইংল্যান্ডের মূল ভরসা ছিলেন জর্ডান কক্স। আগের দিনের ২৩৫ রান নিয়ে খেলতে নামা ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ব্যবধান যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। কিন্তু কিউই পেসার ম্যাট হেনরি সকালে এসেই তার নিখুঁত লাইন ও লেন্থের জাদু দেখাতে শুরু করেন। দিনের চতুর্থ ওভারেই তিনি জর্ডান কক্সকে ফাস্ট বোলারদের ফাঁদে ফেলেন। কক্স মাত্র ৪ রান যোগ করে হেনরির বলে শর্ট মিডউকেটে টম লাথামের দর্শনীয় ক্যাচে পরিণত হন। এর পরপরই ইংল্যান্ডের লোয়ার অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ২৩৫ রানে ৬ উইকেট থেকে ইংল্যান্ড দ্রুতই ২৩৮ রানে ৯ উইকেটে পরিণত হয়।

জফরা আর্চার ক্রিজে এসে কাইল জেমিসনকে দুটি চার মেরে আগ্রাসী শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হেনরির অফ-স্টাম্পের বাইরের সুইং ডেলিভারিতে শট খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষক টম ব্লান্ডেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি। এরপর জোশ টাং মাঠে নেমে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন। নাথান স্মিথের বলে মিড-অনে ক্যাচ তুলে দিলে স্মিথ প্রথম প্রচেষ্টায় বলটি হাতছাড়া করলেও দ্বিতীয় দফায় দারুণভাবে লুফে নেন। এর মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের প্রথম পাঁচ উইকেটের গৌরবময় মাইলফলক স্পর্শ করেন ম্যাট হেনরি। ৮০ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে ওভালের তপ্ত আবহাওয়ায় কিউইদের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন তিনি।

ফিশার ও বেকারের শেষ উইকেটের রোমাঞ্চকর লড়াই

৯ উইকেট হারিয়ে যখন ইংল্যান্ড মাত্র ২৩৮ রানে ধুঁকছিল, তখন নিউজিল্যান্ডের বড় লিড ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঠিক তখনই শুরু হয় ম্যাথিউ ফিশার ও ডেবিউট্যান্ট সনি বেকারের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। ইনিংসের এই পর্যায়ে ফিশার এক অদ্ভুত রান আউটের হাত থেকে বেঁচে যান। একটি অপ্রয়োজনীয় ডাবল রান নিতে গিয়ে ফিশার ও বেকার দুজনেই একই প্রান্তে চলে এসেছিলেন। কিন্তু ব্লান্ডেল বলটি পরিষ্কারভাবে গ্লাভসবন্দী করতে না পারায় ফিশার ডাইভ দিয়ে ক্রিজে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

এই জীবন পাওয়ার পর ফিশার আর পেছনে ফিরে তাকাননি। ওভালের চেনা উইকেটে তিনি পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। উইল ও’রূকের প্রথম বলেই কাভার দিয়ে এক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি মারেন তিনি। ও’রূকের একটি তীক্ষ্ণ বাউন্সার ফিশারের হেলমেটের গ্রিলে আঘাত করলেও এই সারে পেসার মোটেও দমে যাননি। অন্যদিকে সনি বেকারও অসাধারণ ধৈর্য প্রদর্শন করেন। নাথান স্মিথের বলকে স্লিপ কর্ডনের ওপর দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম রান তুলে নেন বেকার। ফিশার ও বেকারের এই অসম সাহসিকতা কিউই বোলারদের হতাশ করে তোলে।

ম্যাথিউ ফিশারের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি

স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রর বলে একটি ইনসাইড এজ থেকে বেঁচে যাওয়ার পর ফিশার আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। নাথান স্মিথের করা শর্ট ডেলিভারিগুলোকে তিনি চমৎকারভাবে পুল ও ড্রাইভ করে বাউন্ডারি ছাড়া করেন। একের পর এক দর্শনীয় শটে তিনি দ্রুত ৪০-এর ঘরে পৌঁছে যান। দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর ম্যাট হেনরিকে থার্ড ম্যান অঞ্চলে গ্লাইড করে এবং পরের ওভারে মিডউইকেট দিয়ে ঘুরিয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক পূরণ করেন ফিশার। ফিফটি পূর্ণ করার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে এবং ব্যাটে চুমু খেয়ে তার এই আবেগপূর্ণ উদযাপন ছিল ওভালের দর্শকদের জন্য অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

তবে ফিশারের রান তোলার গতি আর দীর্ঘায়িত হতে পারেনি। লাঞ্চের ঠিক আগে কাইল জেমিসন সনি বেকারকে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলে ভেঙে যায় ৩৬ বলের এই প্রতিরোধ। বেকার শূন্য রানে আউট হলেও ফিশার ৫০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৯১ রানে, যার ফলে নিউজিল্যান্ড ১০০ রানের লিড অর্জন করে। প্রথম সেশনের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগামী দুই সেশনে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে সন্দেহ নেই। ওভালের ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটে এই ১০০ রানের লিড কতটুকু প্রভাব ফেলে, তা দেখতে ক্রিকেট বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

Share
Avatar photo
Krish Nair

Krish Nair is a cricket historian and analyst with expertise in IPL records, international cricket milestones, and long-term statistical trends within the sport.