Ishan Kishan, Who Fought CSK Fans For Kavya Maran, Gets Disgusting Reaction Afte – আইপিএল ২০২৬: কাভ্যা মারানের হতাশার কারণ কি ঈশান কিষান? হায়দ্রাবাদের বিদায় ও বিতর্ক
আইপিএল ২০২৬: হায়দ্রাবাদের বিদায় ও ঈশান কিষানের বিতর্কিত অধ্যায়
২৭ মে, ২০২৬। আইপিএল এলিমিনেটর ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের শোচনীয় পরাজয় ক্রিকেট ভক্তদের মনে দীর্ঘকাল গেঁথে থাকবে। ব্যাটিং এবং বোলিং—উভয় বিভাগেই রাজস্থানের দাপটে হায়দ্রাবাদ কেবল ম্যাচই হারেনি, বরং টুর্নামেন্ট থেকেও বিদায় নিয়েছে। তবে এই হারের রাতে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন হায়দ্রাবাদের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঈশান কিষান।
কাভ্যা মারানের সেই হতাশার মুহূর্ত
হায়দ্রাবাদের ইনিংসের শুরুতে যখন বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একের পর এক উইকেট পড়ছিল, তখন ক্যামেরার লেন্স বারবার গিয়ে পড়ছিল দলের মালিক কাভ্যা মারানের ওপর। বিশেষ করে যখন জফরা আর্চারের ১৫০ কিলোমিটার গতির বলে ঈশান কিষান মাত্র ১১ বলে ৩৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন, তখন কাভ্যা মারানের অভিব্যক্তি ছিল স্পষ্ট। তার চোখে-মুখে ফুটে উঠেছিল চরম হতাশা এবং বিরক্তি। তিনি হাত নেড়ে যেন প্রশ্ন করছিলেন—’আসলে কী ঘটছে?’
সিএসকে সমর্থকদের সঙ্গে ঈশান কিষানের লড়াই
এই ঘটনার মাত্র কিছুদিন আগেই ঈশান কিষান শিরোনামে উঠে এসেছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের সমর্থকদের সাথে বিতর্কের কারণে। লিগ পর্বের একটি ম্যাচে সিএসকের ঘরের মাঠ চিপকে ঈশান কিষান ৪৮ বলে ৭০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন। সেই জয়ের পর তিনি স্টেডিয়ামের দর্শকদের দিকে তাকিয়ে বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি করেন এবং হাত দিয়ে অদ্ভুত সংকেত দেখিয়ে তাদের চুপ থাকার নির্দেশ দেন। এই ঘটনা নেটদুনিয়ায় চেন্নাই সমর্থকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
সেই সময় ঈশান কিষান কোনো তোয়াক্কা না করেই নিজের অবস্থান অটল রেখেছিলেন। এমনকি পরবর্তী সময়ে ইনস্টাগ্রামে এমন ছবি পোস্ট করেছিলেন, যা সিএসকে ভক্তদের আরও উসকে দেয়। প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতিতে টুর্নামেন্টের শুরুতে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের নেতৃত্ব দেওয়া কিষানকে অনেকেই তখন দলের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু এলিমিনেটরে তার দ্রুত আউট হওয়া এবং কাভ্যা মারানের সেই অস্বস্তিকর প্রতিক্রিয়া ভক্তদের মনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
হায়দ্রাবাদের দুঃস্বপ্নময় পরাজয়
রাজস্থান রয়্যালসের ২৪৪ রানের পাহাড়সমান লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হায়দ্রাবাদের শুরুটা হয়েছিল এক কথায় দুঃস্বপ্নময়। অভিষেক শর্মা শূন্য রানে সাজঘরে ফেরার পর ট্রাভিস হেড, ঈশান কিষান এবং স্মরণ রাভচন্দ্রন দ্রুত আউট হয়ে যান। মাত্র ৪.৪ ওভারের মধ্যে হায়দ্রাবাদ ৫৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। সলিল অরোরা এবং শিবাং কুমার কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য মোটেও যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত রাজস্থান ৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
ভবিষ্যৎ পথচলা
এই পরাজয়ের মাধ্যমে আইপিএল ২০২৬ থেকে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের যাত্রা শেষ হলো। অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালস এখন কোয়ালিফায়ার ২-এর পথে, যেখানে তাদের লড়াই হবে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে। বিজয়ী দল ফাইনাল খেলবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সঙ্গে। মাঠের লড়াই শেষ হলেও, ঈশান কিষান এবং কাভ্যা মারানের এই দৃশ্যটি আইপিএলের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে থাকবে। মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত কথা বলে, এবং এই এলিমিনেটরে ঈশান কিষান সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই অনেকের ধারণা। তবে ক্রিকেটীয় বিচারে এই উত্থান-পতন খেলারই অংশ, যা খেলোয়াড়দের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়।